📌 সাতক্ষীরা জেলার ছয়টি নদী ও অসংখ্য খালে ৩০২ জন অবৈধ দখলদার চিহ্নিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযানের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়েছে। নদী রক্ষা কমিশনকে পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা পাঠানো হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলার ছয়টি নদী ও খালে অবৈধভাবে জমি দখল করে মাছের ঘের, কৃষি আবাদ এবং স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ৩০২ জন দখলদারকে চিহ্নিত করেছে এবং উচ্ছেদ অভিযানের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়েছে। বরাদ্দ পেলে অভিযান শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সাতক্ষীরা জেলার ৩০২ জনকে নদী ও খাল দখল করে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলার অভিযোগে চিহ্নিত করা হয়েছে
- 📌 কপোতাক্ষ নদে ১২২ জন এবং বেতনা নদীতে ১৬ জনসহ ছয়টি নদী ও খালে অবৈধ দখল হয়েছে
- 📌 বিনেরপোতা এলাকায় বেতনা নদীর পশ্চিম তীরে সরকারি জমি দখল করে কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে
- 📌 জেলা প্রশাসন নদী রক্ষা কমিশনকে উচ্ছেদ অভিযানের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়েছে
- 📌 নদী রক্ষায় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে প্রশাসনের কাছে দাবি জানানো হয়েছে
- 📌 পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তা চাইলে দেবেন বলে জানানো হয়েছে
📰 বিস্তারিত
সাতক্ষীরা জেলার ছয়টি নদী ও অসংখ্য খালে অবৈধভাবে জমি দখল করে মাছের ঘের, কৃষি আবাদ এবং কাঁচা-পাকা স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ৩০২ জনকে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে কপোতাক্ষ নদে ১২২ জন এবং বেতনা নদীতে ১৬ জনসহ ছয়টি নদী ও খালে অবৈধ দখল হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বেতনা নদীর পশ্চিম তীরে সরকারি জমি দখল করে একাধিক স্থাপনা গড়ে উঠেছে। বিনেরপোতা এলাকায় বেতনা নদীর পশ্চিম তীরে সরকারি জমি দখল করে আবু হাসান নামের প্রভাবশালী ব্যক্তি কারখানা করেছেন।
বেতনা নদীর পাড়ের বাসিন্দা বিষ্ণুপদ মণ্ডল বলেছেন, ‘ভূমি অফিস থেকে কর্মকর্তারা এসেছেন। লাল পতাকাও টাঙিয়েছেন। তারপরও সেখানে পাঁচিল হয়েছে, ভবন হয়েছে। কিসের বিনিময়ে হয়েছে, তা আমরা জানি না।’ একই এলাকার বাসিন্দা বিকাশ মণ্ডল বলেছেন, সেতু পয়েন্টে বেতনা নদীর পশ্চিম তীরে নদীর পাড় পুরোটা দখল করে আবু হাসান কারখানা করেছেন। দীর্ঘদিন পার হলেও তাঁর স্থাপনা সরানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
তালা উপজেলার মাগুরা পয়েন্টে কপোতাক্ষ নদের পূর্ব তীরে সরকারি জমিতে একাধিক স্থাপনা গড়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা বাবলুর রহমান বলেছেন, ‘অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা দরকার। কারণ, এগুলো নদীগুলোকে ক্ষতি করে। স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতা প্রভাব খাটিয়ে নদীর পাড় দখল করে স্থাপনা বানিয়েছেন। আমরা চাই এগুলো উচ্ছেদ হোক। নদী বেঁচে যাক। নদী বাঁচলে দেশ বাঁচবে।’
"অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করতে হবে। তবে এটি দেখভাল করছে জেলা প্রশাসন। কারিগরি অথবা আর্থিক সহায়তা চাইলে আমরা দেব। তবে এখনো তারা আমাদের কাছে সেই সহায়তা চায়নি।" — পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া
জলবায়ু পরিষদের জেলা সম্পাদক মাধব দত্ত বলেছেন, সাতক্ষীরার প্রধান পাঁচটি নদী হলো বেতনা, কপোতাক্ষ, মরিচ্চাপ, কাকশিয়ালী ও খোলপেটুয়া। নদীগুলো দিন দিন দখল হয়ে যাচ্ছে। দখলের কারণে নদীর পানি প্রবাহ একেবারেই কমে গেছে। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন তাদের ওয়েবসাইটে ৩০২ জন অবৈধ দখলদারের তালিকা প্রকাশ করেছে। তবে শুধু তালিকা প্রকাশ করে বসে থাকলে হবে না, উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে হবে। কারণ, নদী না বাঁচলে জেলার কৃষি বাঁচবে না, নদী না থাকলে প্রাণ ও প্রকৃতি থাকবে না।
জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ বলেছেন, ‘৩০২ জন অবৈধ দখলদারের তালিকা আমরা পাঠিয়েছি। সেই পরিপ্রেক্ষিতে নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান সাতক্ষীরায় এসেছিলেন। সেখানে জেলা নদী রক্ষা কমিশনের পক্ষ থেকে তালিকা উপস্থাপনসহ উচ্ছেদের জন্য বরাদ্দ চেয়েছি। বরাদ্দ পেলে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হবে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সাতক্ষীরা জেলা, বিনেরপোতা, তালা উপজেলা, মাগুরা গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবু হাসান, বিষ্ণুপদ মণ্ডল, বিকাশ মণ্ডল, বাবলুর রহমান, মাধব দত্ত, আব্দুর রহমান তাযকিয়া, কাউসার আজিজ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০২ জন (দখলদার), ১২২ জন (কপোতাক্ষ নদে), ১৬ জন (বেতনা নদীতে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!