📌 রাঙামাটির সাজেকের উজোবাজারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে গোলাগুলি চলছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে শুরু হওয়া এই গোলাগুলি এখনও চলছে। এছাড়াও, অবরোধের কারণে আটকা পড়া দুই হাজার পর্যটককে সাজেক থেকে বের করার চেষ্টা চলছে
রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক পর্যটন কেন্দ্রের উজোবাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে গোলাগুলি চলছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এই গোলাগুলি শুরু হয় এবং এখনও অব্যাহত রয়েছে। রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পর্যন্ত গোলাগুলি চলছিল। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাঙামাটি সাজেক-এ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে গোলাগুলি চলছে; দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে শুরু, এখনও অব্যাহত
- 📌 প্রায় দুই হাজার পর্যটক সাজেক থেকে ফেরার পথে উজোবাজারে অবরোধের কারণে আটকা পড়েন; সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাহারায় বের হওয়ার চেষ্টা চলছে
- 📌 সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন তৃতীয় দফায় অবরোধ ঘোষণা করে; পর্যটকদের সাজেক ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে
- 📌 জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী ঘোষণা করেন, সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে; বিকেল ৪টার মধ্যে সবাইকে নিরাপদে ছাড়ার নির্দেশ
- 📌 অবরোধকারীদের দাবি: পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া
- 📌 জেএসএস অভিযোগ অস্বীকার করে; বলেন, ইউপিডিএফের সদস্যদের নিপীড়নের বিষয়টি আড়াল করার উদ্দেশ্যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে
- 📌 অবরোধের কারণে পর্যটন ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হচ্ছে; রিসোর্টের আগাম বুকিং বাতিলের ঘটনা ঘটছে
📰 বিস্তারিত
রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক পর্যটন কেন্দ্রের উজোবাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে গোলাগুলি চলছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এই গোলাগুলি শুরু হয় এবং এখনও অব্যাহত রয়েছে। রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পর্যন্ত গোলাগুলি চলছিল। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ঘটনার পূর্বে, সাজেক ভ্যালি থেকে ফেরার পথে প্রায় দুই হাজার পর্যটক আটকা পড়েছিলেন। তাঁরা সকাল ৯টার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের পাহারায় সাজেক থেকে খাগড়াছড়িতে ফিরছিলেন। তবে অবরোধকারীদের ডাকার কারণে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাঁরা উজো বাজার এলাকায় আটকা পড়েন। অবরোধকারীরা উজো বাজার এলাকায় অবস্থান করায় পর্যটকেরা সেখান থেকে সরতে পারছিলেন না। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা লাঠিপেটা করলে অবরোধকারীরা সরে যান। এরপর বেলা ১১টার দিকে পর্যটকের গাড়িবহর উজো বাজার এলাকা ছাড়ে। এ ঘটনার পরই সাড়ে ১১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলি শুরু হয়।
গতকাল বুধবার (২১ অক্টোবর) সাজেক পর্যটন সড়কে তৃতীয় দফায় অবরোধের ঘোষণা দেয় সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠন দুটি জানায়, আজ বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ চলবে। তাই গতকালকের মধ্যে সাজেক থেকে সব পর্যটককে চলে আসার অনুরোধ করা হয়। অবরোধের পর নিরাপত্তার কারণ উল্লেখ করে সাজেক বন্ধের ঘোষণা দেয় জেলা প্রশাসন। গতকাল সন্ধ্যায় এক গণবিজ্ঞপ্তিতে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানান, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে আজ বিকেল চারটার মধ্যে সবাইকে নিরাপদে সাজেক ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অবরোধকারীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া। ১৫ অক্টোবর সকাল ছয়টা থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে দ্বিতীয় দফায় অবরোধ শুরু হয়। অবরোধকারীরা সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার ও গাছের গুঁড়িতে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। জেএসএসের প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা জানান, সাজেকে সাধারণ মানুষের ওপর ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের নিপীড়ন ও হয়রানির বিষয়টি আড়াল করার উদ্দেশ্যে এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
অবরোধ ও পর্যটন বন্ধের কারণে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হচ্ছে। সাজেক রিসোর্ট কটেজ মালিক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা বলেন, অবরোধের কারণে পর্যটকদের সাজেক ছাড়তে হচ্ছে। অনেকে রিসোর্টের আগাম বুকিং বাতিল করেছেন। সাজেকে সড়ক অবরোধ হলে শুধু পর্যটক বা ব্যবসায়ীরা নন, স্থানীয় বাসিন্দারাও চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। খাদ্যসামগ্রী কেনাকাটা ও উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া বন্ধ হয়ে যায়।
"আজ বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ চলবে। তাই গতকালকের মধ্যে সাজেক থেকে সব পর্যটককে চলে আসার অনুরোধ করা হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাঙামাটির বাঘাইছড়ি, সাজেক ভ্যালি, উজোবাজার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুহম্মদ আব্দুর রকিব (পুলিশ সুপার), নাজমা আশরাফী (জেলা প্রশাসক), সজীব চাকমা (জেএসএস প্রচার সম্পাদক), মতিজয় ত্রিপুরা (সাজেক রিসোর্ট কটেজ মালিক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২২ অক্টোবর (তারিখ), সাড়ে ১১টা (গোলাগুলির সময়), সাড়ে ১২টা (গোলাগুলির অব্যাহত সময়), ৯টা (পর্যটকদের আটকা পড়ার সময়), ১০টা (অন্যদিন পর্যটকবাহী যান ছাড়ার সময়), ১৫ অক্টোবর (দ্বিতীয় দফা অবরোধের তারিখ), ১১ অক্টোবর (প্রথম দফা অবরোধের তারিখ), ২ হাজার (পর্যটকের সংখ্যা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!