📌 সৈয়দ আবুল মকসুদের মৃত্যুতে লেখক ও বন্ধুদের স্মৃতিচারণে উঠে আসে তাঁর প্রতিবাদের প্রতীকী সাদা কাপড়, সাহসী মনোভাব ও ইতিহাস-সচেতন লেখনীর গল্প। করোনাকালে জ্বর থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন এই লেখক-গবেষক, যিনি সাংবাদিকতা থেকে গবেষণায় নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন
সৈয়দ আবুল মকসুদের মৃত্যু একটি অযাচিত শোকসূচক ঘটনা। করোনাকালে জ্বর থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন এই লেখক-গবেষক, যিনি ঢাকার প্রতিবাদের প্রতীকী সাদা কাপড়ে জীবনযাপন করতেন। তাঁর মৃত্যুতে তাঁর বন্ধু ও লেখকদের স্মৃতিচারণে উঠে আসে তাঁর অসামান্য জীবনকাহিনী।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সৈয়দ আবুল মকসুদ করোনাকালে জ্বর থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন, মৃত্যু হয় দুদিনের মধ্যে
- 📌 প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে সারা শরীর সাদা কাপড় পরিধান করতেন, পকেটহীন অবস্থায় চলাফেরা করতেন
- 📌 মাওলানা ভাসানীর ১৯৬২ সালের টেলিগ্রাম বিষয়ে মিথ্যা প্রচারকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন
- 📌 সাহিত্য, ইতিহাস ও রাজনীতি নিয়ে গভীর লেখালেখি করতেন, সমাজের অসংগতির তীক্ষ্ণ সমালোচনা করতেন
- 📌 বইমেলায় অটোগ্রাফ দিয়ে সাহায্য করতেন নতুন লেখকদের, নিজের লেখা বইয়ের জনপ্রিয়তা নিয়ে হাসতেন
📰 বিস্তারিত
সৈয়দ আবুল মকসুদের মৃত্যুতে তাঁর লেখক বন্ধুদের স্মৃতিচারণে তাঁর জীবনের অসামান্য দিকগুলো উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। তাঁর পরিচয় ছিল একজন লেখক, গবেষক ও সমাজবীক্ষক। তাঁর প্রতিবাদের প্রতীকী সাদা কাপড় ঢাকার সড়কগুলোতে তাঁকে সহজেই চেনা যেত। কিন্তু সেই কাপড়ের একটা সমস্যা ছিল — পকেট না থাকায় টাকা বা মোবাইল রাখা সম্ভব ছিল না। তাঁর বন্ধু বলেন, “মকসুদ ভাই ‘কপর্দকহীন’ অবস্থায় চলাফেরা করতেন। তাঁর সিগনেচার পোশাক ছিল সারা শরীর সাদা কাপড়ে মোড়া। আমি একবার বলেছিলাম, আমিও এ রকম পোশাক পরব, কিন্তু তিনি বলেছিলেন, ‘এ কাজ করবেন না। খুব গরম লাগে’।”
সৈয়দ আবুল মকসুদের লেখনীর প্রধান শক্তি ছিল তথ্য, যুক্তি ও ইতিহাস-সচেতনতা। তাঁর কলামে সমাজের অসংগতি নিয়ে তীক্ষ্ণ বিদ্রূপ ও স্যাটায়ার ছিল। তিনি মাওলানা ভাসানীর ১৯৬২ সালের টেলিগ্রাম বিষয়ে প্রচলিত মিথ্যা প্রচারকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “মাওলানা তখন টাঙ্গাইলের সন্তোষে অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী ছিলেন। এই টেলিগ্রামের গল্প অভ্যুত্থানকারীরা বঙ্গভবনে বসে বানিয়েছে।”
তাঁর সাহসী মনোভাব ও সত্যসন্ধানী দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে একজন বিরল ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। তিনি সাংবাদিকতা থেকে গবেষণায় নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন। একবার তিনি তাঁর বন্ধুকে নিয়ে গিয়েছিলেন কলাবাগানের এক বাড়িতে, যেখানে তিনি একটি পাঠাগার বানানোর চেষ্টা করছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “পারলে কিছু বই দিয়েন।”
"এত বছর ধরে লিখছি। কিছুই করতে পারলাম না। অথচ এক বইয়েই আপনি মাত করে দিলেন!"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সৈয়দ আবুল মকসুদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ (দিন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!