📌 হিজরি ১৯ সালে রোমান সম্রাটের সামনে বন্দী সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে হুজাফা (রা.) জীবন বাঁচানোর জন্য যে কোনো প্রলোভন প্রত্যাখ্যান করে মৃত্যুর মুখে অবিচল থেকে গেলেন। সম্রাটের অর্ধেক রাজ্য, ক্ষমতা, সুন্দরী নারীর প্রলোভন এবং মৃত্যুর ভয় সবকিছুই তাঁকে ধর্ম ত্যাগ করতে বাধ্য করতে পারেনি
হিজরি ১৯ সালে খলিফা ওমর ইবনুল খাত্তাবের আমলে রোমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বন্দী হন বিশিষ্ট সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে হুজাফা (রা.)। রোমান সম্রাট তাঁর ইমানের দৃঢ়তা পরীক্ষা করতে চাইলে তাঁকে রাজদরবারে উপস্থাপন করেন। সম্রাটের সামনে পেশ করা প্রলোভনগুলো হলো: খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করে মুক্তি, রাজ্যের অর্ধেক সম্পত্তি, রাজকীয় ক্ষমতা, সুন্দরী নারীর প্রলোভন এবং মৃত্যুর ভয় — কিন্তু সবকিছুই তাঁকে ধর্ম ত্যাগ করতে বাধ্য করতে পারেনি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হিজরি ১৯ সালে রোমান সম্রাটের সামনে বন্দী সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে হুজাফা (রা.) জীবন বাঁচানোর জন্য যে কোনো প্রলোভন প্রত্যাখ্যান করেন, মৃত্যুর মুখে অবিচল থেকে গেলেন।
- 📌 সম্রাট তাঁকে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করে মুক্তি দেবার প্রস্তাব দিলে, আবদুল্লাহ (রা.) বললেন, ‘এটা অসম্ভব’।
- 📌 সম্রাটের প্রলোভন হিসেবে দিলেন রাজ্যের অর্ধেক সম্পত্তি এবং ক্ষমতা, কিন্তু সাহাবি (রা.) বললেন, ‘ইমানের সঙ্গে সওদা হয় না’।
- 📌 মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে সম্রাট তাঁকে হারাম খাবার খাওয়ার প্রলোভন দিলে, আবদুল্লাহ (রা.) তা প্রত্যাখ্যান করলেন, কারণ শত্রুরা ইসলাম নিয়ে উপহাস করতে না পারে।
- 📌 সম্রাট তাঁকে সুন্দরী নারীর প্রলোভন দিলেও, সাহাবি (রা.) তাঁর দিকে চোখ তুলে তাকালেন না।
- 📌 মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে আবদুল্লাহ (রা.) বললেন, ‘আমি এই চিন্তায় কাঁদছি যে এখনই আমাকে কড়াইয়ে ফেলা হবে এবং শাহাদাতের সুধা পান করব’।
- 📌 খলিফা ওমর (রা.) তাঁর আত্মত্যাগের কথা শুনে বললেন, ‘প্রত্যেক মুমিনের উচিত আবদুল্লাহ ইবনে হুজাফার মাথায় চুমু খাওয়া’।
📰 বিস্তারিত
হিজরি ১৯ সালে রোমানদের বিরুদ্ধে অভিযানে বন্দী হন সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে হুজাফা (রা.)। রোমান সম্রাট তাঁর ইমানের দৃঢ়তা পরীক্ষা করতে চাইলে তাঁকে রাজদরবারে উপস্থাপন করেন। সম্রাট তাঁকে বললেন, ‘খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করো, তাহলে তোমাকে মুক্ত করে দেব’। কিন্তু সাহাবি (রা.) দৃঢ়কণ্ঠে প্রত্যাখ্যান করলেন। সম্রাট আরও বড় প্রলোভন হিসেবে দিলেন রাজ্যের অর্ধেক সম্পত্তি এবং ক্ষমতা, কিন্তু আবদুল্লাহ (রা.) বললেন, ‘ইমানের সঙ্গে সওদা হয় না’।
সম্রাট তাঁকে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে বললেন, ‘আমি তোমাকে কারাগারে বন্দী রাখব’। কারাগারে তাঁর পানাহার বন্ধ করে দেওয়া হলেও, খাবার নিয়ে এসে বলা হলো, ‘মদ ও শূকরের মাংস খেয়ে জীবন বাঁচাও’। কিন্তু সাহাবি (রা.) তা প্রত্যাখ্যান করলেন, কারণ শত্রুরা ইসলাম নিয়ে উপহাস করতে না পারে।
সম্রাট তাঁকে আরও কঠোর পরীক্ষায় পাঠালেন। তিনি বিশাল কড়াইয়ে তেল ফুটিয়ে দুজন মুসলমান বন্দীকে একে একে নিক্ষেপ করলেন এবং আবদুল্লাহ (রা.)-কে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণের প্রস্তাব দিলেন। কিন্তু সাহাবি (রা.) বললেন, ‘অসম্ভব’। সম্রাট তাঁকে নারীর মাধ্যমে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করলেও, আবদুল্লাহ (রা.) তাঁর দিকে চোখ তুলে তাকালেন না।
মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে আবদুল্লাহ (রা.) বললেন, ‘আমি এই চিন্তায় কাঁদছি যে এখনই আমাকে কড়াইয়ে ফেলা হবে এবং শাহাদাতের সুধা পান করব’। সম্রাট বুঝতে পারলেন তাঁকে ইমান থেকে সরানো অসম্ভব। তিনি বললেন, ‘যদি আমার মাথায় একটি চুমু দাও, তবে তোমাকে মুক্তি দেব’। কিন্তু সাহাবি (রা.) তা প্রত্যাখ্যান করলেন।
‘আমি এই চিন্তায় কাঁদছি যে এখনই আমাকে এই কড়াইয়ের মধ্যে ফেলা হবে এবং আমি শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করব।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রোম (রোমান সম্রাটের রাজদরবার)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবদুল্লাহ ইবনে হুজাফা (রা.), রোমান সম্রাট, খলিফা ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: হিজরি ১৯
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!