📌 সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) আওতাধীন ২২ হাজার কিলোমিটার সড়কের মধ্যে মাত্র ১ হাজার কিলোমিটার নিরীক্ষা করা হয়েছে। নিরীক্ষার সুপারিশ বাস্তবায়নের তদারকি না থাকায় দুর্ঘটনার প্রবণতা কমছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিলোমিটার পরিমাপে কার্যকারিতা নয়, বাস্তবায়নের হিসাবেই মূল্যায়ন করা দরকার।
বাংলাদেশে সড়ক নিরাপত্তা নিরীক্ষা হলেও বাস্তবায়নের তদারকি না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি অব্যাহত রয়েছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) আওতাধীন প্রায় ২২ হাজার কিলোমিটার সড়কের মধ্যে মাত্র ১ হাজার কিলোমিটার নিরীক্ষা করা হয়েছে, যা মোটের মাত্র ৫ শতাংশ। বাকি ৯৫ শতাংশ সড়কে নিরীক্ষা করা হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরীক্ষার কার্যকারিতা কিলোমিটার পরিমাপে নয়, বাস্তবায়নের হিসাবেই মূল্যায়ন করা দরকার।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সওজের আওতাধীন ২২ হাজার কিলোমিটার সড়কের মধ্যে মাত্র ১ হাজার কিলোমিটার নিরীক্ষা করা হয়েছে
- 📌 ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ২০৯ কিলোমিটার এবং টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে রংপুর পর্যন্ত মহাসড়ক প্রকল্পে আলাদাভাবে নিরাপত্তা নিরীক্ষা করা হয়েছে
- 📌 রোড সেফটি অডিটে চিহ্নিত ঝুঁকি দূর করতে সুপারিশ বাস্তবায়নের নিয়মিত তদারকি নেই
- 📌 ২০১৪ থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত ৭২ হাজার ৭৩৬টি দুর্ঘটনায় ১ লাখ ২৫ হাজার ৪০৫ জন নিহত ও ১ লাখ ৭৬ হাজার ২৪৯ জন আহত হয়েছে
- 📌 ২০২০ সালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ১ হাজার ৩৮১টি থেকে ২০২৫ সালে বেড়ে ৩ হাজার ২৯টি হয়েছে
📰 বিস্তারিত
সড়ক নিরাপত্তা নিরীক্ষা বা রোড সেফটি অডিট হলো সড়কের নকশা, নির্মাণ ও ব্যবহার পর্যায়ে নিরাপত্তাঝুঁকি পদ্ধতিগতভাবে যাচাই করার প্রক্রিয়া। এই নিরীক্ষায় সড়কের বাঁক, মোড়, বিভাজক, সাইন-সংকেত, দৃশ্যমানতা ও পথচারী পারাপারের মতো বিষয় পরীক্ষা করে ঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সুপারিশসহ প্রতিবেদন দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সড়ক বিভাগ বা প্রকল্প কর্তৃপক্ষের তা বাস্তবায়নের কথা। কিন্তু কতগুলো সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়েছে, তাতে ঝুঁকি কতটা কমেছে এবং কতগুলোর বাস্তবায়ন বাকি রয়েছে, তার নিয়মিত হিসাব রাখার ব্যবস্থা নেই।
সওজের রোড সেফটি শাখার একজন কর্মকর্তা বলেছেন, নকশা প্রণয়ন, নির্মাণকাজ চলা ও সড়ক চালুর পর—এই তিন পর্যায়ে রোড সেফটি অডিট হয়। এর প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট সড়ক বিভাগ ও প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়। তারা অগ্রাধিকার অনুযায়ী সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। তবে নিরীক্ষার পরও দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকে যাওয়ার একটি উদাহরণ ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে। আধুনিক এই সড়কে ২০২০-২১ অর্থবছরে রোড সেফটি অডিটের আওতায় পর্যালোচনা করা হলেও পরবর্তী সময়ে সেখানে একাধিক বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে।
সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, অডিটের কার্যকারিতা শুধু কত কিলোমিটার সড়ক পরীক্ষা হয়েছে, তা দিয়ে বিচার করা যায় না। চিহ্নিত ত্রুটি সংশোধন, সুপারিশ বাস্তবায়ন ও ঝুঁকি হ্রাসের বিষয়টিও যাচাই জরুরি। নির্মাণের আগের মতো চালু হওয়া সড়কেও নিয়মিত নিরীক্ষা দরকার।
"অডিটে দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান চিহ্নিত হলে ডিজাইন ইউনিটের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বাস্তবায়ন পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী তা তদারকি করেন।"
সওজের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেছেন, ‘সব সড়কেই রোড সেফটি অডিটের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। বিশেষ করে উন্নয়ন প্রকল্পের সড়কে নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। আগে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নই ছিল মূল লক্ষ্য, এখন দুর্ঘটনা কমানো ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাও গুরুত্ব পাচ্ছে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, সিলেট, রংপুর, টাঙ্গাইল, উত্তরবঙ্গের এলেঙ্গা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সওজের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান, কর্মকর্তা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২২ হাজার কিলোমিটার (সওজের মোট সড়ক), ১ হাজার কিলোমিটার (নিরীক্ষা করা সড়ক), ৫ শতাংশ (নিরীক্ষা করা সড়কের অনুপাত), ২০৯ কিলোমিটার (ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক), ৭২ হাজার ৭৩৬টি (দুর্ঘটনা), ১ লাখ ২৫ হাজার ৪০৫ জন (নিহত), ১ লাখ ৭৬ হাজার ২৪৯ জন (আহত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!