📌 সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় সুপেয় পানির সংকট মোকাবিলায় আবুল খায়ের গ্রুপের অর্থায়নে দুটি শোধনাগার উদ্বোধন করা হয়েছে। রিভার্স অসমোসিস প্রযুক্তি ব্যবহার করে পানি পরিশোধন করা হচ্ছে এবং স্থানীয়দের জন্য ডিজিটাল কার্ড ব্যবস্থা চালু হয়েছে
সুন্দরবনের পাশে অবস্থিত সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সুপেয় পানির সংকটে ভুগছেন স্থানীয়রা। নদী-খালের চারদিকে থাকলেও লবণাক্ততার কারণে মিঠাপানি পাওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত। এই সংকট মোকাবিলায় উপজেলার খাগড়াঘাট ও কৈখালী গ্রামে দুটি সুপেয় পানি শোধনাগার গতকাল শনিবার উদ্বোধন করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দুটি শোধনাগার স্থাপিত হয়েছে শ্যামনগর উপজেলার খাগড়াঘাট ও কৈখালী গ্রামে, যেখানে রিভার্স অসমোসিস প্রযুক্তি ব্যবহার করে পানি পরিশোধন করা হচ্ছে
- 📌 আবুল খায়ের গ্রুপের অর্থায়নে এই প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে স্থানীয় তরুণদের সংগঠন শরুব ইয়ুথ ক্লাবের সদস্যরা পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে জড়িত
- 📌 ডিজিটাল কার্ড ব্যবস্থা চালু হয়েছে, যেখানে প্রতি লিটার পানির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ পয়সা এবং সৌর প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ নির্ভরতা কমানো হয়েছে
- 📌 উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আবুল খায়ের গ্রুপের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড লিগ্যাল বিভাগের প্রধান শেখ শাবাব আহমেদ এবং স্থানীয় নেতা-প্রতিনিধিরা
📰 বিস্তারিত
শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় বসবাসরত মানুষদের দীর্ঘদিন ধরে সুপেয় পানির সংকটে ভুগতে হয়েছে। বর্ষাকালে মাত্র দুই থেকে তিন মাস বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে ব্যবহার করা যায়, বাকি সময় লোনা পানি পান করতে হয়। বিশেষ করে নারীদের পানি সংগ্রহের পেছনে দিনের বড় একটি অংশ ব্যয় হয়। এই সংকট মোকাবিলায় আবুল খায়ের গ্রুপের অর্থায়নে খাগড়াঘাট ও কৈখালী গ্রামে দুটি সুপেয় পানি শোধনাগার স্থাপন করা হয়েছে।
খাগড়াঘাটে নূর উদ্দীন সরদারের বাড়ির সামনে এবং কৈখালীতে আলাউদ্দিন মল্লিকের বাড়ির সামনে স্থাপিত এই শোধনাগার দুটিতে রিভার্স অসমোসিস (আরও) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নতুন শোধনাগার চালু হওয়ায় পানি সংগ্রহের দূরত্ব কমে গেছে। খাগড়াঘাটের রহিমা বেগম (৪৫) বলেন, ‘আগে বৃষ্টির পানি দিয়ে কয়েক মাস চলত। বাকি সময় লোনা পানি পান করতে হতো। এখন কল চালু করলেই মিঠাপানি পাওয়া যাচ্ছে। এতে আমাদের অনেক কষ্ট কমবে।’
কৈখালীর ষাটোর্ধ্ব আমেনা খাতুন বলেন, ‘আগে এক কলস মিঠাপানি সংগ্রহ করতে দুই থেকে তিন মাইল হাঁটতে হতো। এখন বাড়ির কাছেই পানি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।’ শোধনাগার দুটিতে পানির নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে খুলনা আঞ্চলিক পরীক্ষাগারে। গ্রাহকদের ডিজিটাল কার্ডের মাধ্যমে পানি সংগ্রহ করতে হয়, যেখানে প্রতি লিটার পানির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ পয়সা। প্রতি শোধনাগারে ১০টি সৌর প্যানেল বসানো হয়েছে বিদ্যুৎ নির্ভরতা কমাতে।
আবুল খায়ের গ্রুপের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড লিগ্যাল বিভাগের প্রধান শেখ শাবাব আহমেদ বলেন, ‘উপকূলীয় মানুষের সুপেয় পানির সংকট আমাদের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিশ্চিত করতে আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি।’
"আমাদের অনেক কষ্ট কমবে। এখন কল চালু করলেই মিঠাপানি পাওয়া যাচ্ছে।"
"আগে এক কলস মিঠাপানি সংগ্রহ করতে দুই থেকে তিন মাইল হাঁটতে হতো। এখন বাড়ির কাছেই পানি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শ্যামনগর উপজেলা, সাতক্ষীরা (খাগড়াঘাট ও কৈখালী গ্রাম)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শেখ শাবাব আহমেদ (আবুল খায়ের গ্রুপ), রহিমা বেগম (৪৫), আমেনা খাতুন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ পয়সা (প্রতি লিটার পানি), ১০টি সৌর প্যানেল প্রতি শোধনাগারে, ২-৩ মাস বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!