📌 ঝিনাইদহের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতার মালা ঝোলানো হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন জানান, পুলিশ তদন্ত করছে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক কামালুজ্জামান জুতার মালাটি অপসারণ করেন এবং জড়িতদের বিচার চাইছেন
ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে অপমানজনক জুতার মালা ঝোলানো হয়। এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় জনতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন জানিয়েছেন, পুলিশ বিভাগ বিষয়টি তদন্ত করছে এবং দোষীদের চিহ্নিত করার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঝিনাইদহের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে সাদা রঙের জুতার মালা ঝোলানো হয়।
- 📌 ঘটনাটি জানার পর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক কামালুজ্জামান নিজে লোক পাঠিয়ে মালাটি অপসারণ করেন।
- 📌 চায়ের দোকানের মালিক মো. জাবেদ বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতার মালা ঝোলানো দেখে তিনি অবাক হয়ে যান।
- 📌 জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন জানান, পুলিশ তদন্ত করছে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
- 📌 বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান বলেন, ভাস্কর্য ভাঙা ও জুতার মালা ঝোলানো হলো তাঁর চাচার স্মৃতিকে অপমান করা।
- 📌 ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আসাদউজ্জামান জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানেন না।
- 📌 গত ১৪ জুলাই ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার ঘটনা ঘটে, যা স্থগিত করা হয়।
📰 বিস্তারিত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে দেখা যায়, ঝিনাইদহ শহরের প্রবেশপথে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যের মাথায় রশি দিয়ে তৈরি জুতার মালা ঝুলছে। এই ঘটনার পর জেলা প্রশাসক নোমান হোসেনের নির্দেশে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বর্তমান কমিটির আহ্বায়ক কামালুজ্জামান জানান, তিনি নিজেই খবর পেয়ে অফিস থেকে লোক পাঠিয়ে জুতার মালাটি অপসারণ করেছেন। তিনি বলেন, “এটা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের চরম অবমাননা। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।”
চায়ের দোকানের মালিক মো. জাবেদ বলেন, “সকালে দোকান খোলার সময় দেখি বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের গলায় জুতার মালা ঝুলছে। বিষয়টি দেখে আমি অনেকটা অবাক হই। বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান তো কারও ক্ষতি করেননি, তিনি দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন। শিক্ষার্থীরা যে জাতীয় পতাকা মাথায় ও বুকে জড়িয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ উপহার দিয়েছে, সেই জাতীয় পতাকাটিই আমাদের এনে দিয়েছেন হামিদুর রহমান। অথচ আজ তাঁকেই জুতার মালা পরিয়ে অপমান করা হচ্ছে। বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। যারা এ কাজটি করেছে, তাদের বিচার চাই।”
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান বলেন, “হামিদুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্মৃতি হয়তো ওখান থেকে মুছে ফেলার জন্য কেউ পরিকল্পনা নিয়েছে। কারণ, কিছুদিন আগেও তাঁর ভাস্কর্যটি ভাঙছিল। আবারও হামিদুর রহমানকে অসম্মান করা হয়েছে। এর সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হোক।”
"আমি নিজে খবর পেয়ে অফিস থেকে লোক পাঠিয়ে তা অপসারণ করেছি। বিষয়টি অত্যন্ত নিন্দনীয়। এটা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের চরম অবমাননা করা। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।" — মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক কামালুজ্জামান কামাল
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঝিনাইদহ শহর, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক কামালুজ্জামান, জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, মো. জাবেদ, হাফিজুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০:০০ (সকাল), ১৪ জুলাই, ১৫ জুলাই, ২০ (মুজাহিদের বয়স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!