📌 বিশ্ব শিক্ষক দিবসে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা জানিয়েছেন, পেনশন পাওয়ার জন্য দপ্তরে দপ্তরে ঘুরতে হচ্ছে। কেউ তিন বছর, কেউ সাত বছর অপেক্ষায় বয়স কাটাচ্ছেন। খুলনার একটি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ২৬ লাখ টাকা পেনশন পাওয়ার জন্য এখনো অপেক্ষায় রয়েছে
বিশ্ব শিক্ষক দিবসে শিক্ষকদের অবদান স্মরণ করা হলেও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পেনশন পাওয়ার লড়াই এখনও অব্যাহত। সারাজীবন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার পর অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা নিজেদের প্রাপ্য পেনশন পেতে দপ্তরে দপ্তরে ঘুরছেন। কেউ তিন বছর, আবার কেউ সাত বছর অপেক্ষায় বয়স কাটাচ্ছেন। খুলনার কয়রা উপজেলার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মনোরঞ্জন মণ্ডল ২০২৩ সালে অবসর গ্রহণ করলেও এখনো পেনশনের পুরো টাকা পাননি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 খুলনার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মনোরঞ্জন মণ্ডল ২০২৩ সাল থেকে অবসরপ্রাপ্ত হলেও ২৬ লাখ টাকা পেনশন পাওয়ার জন্য অপেক্ষায় রয়েছে, বর্তমানে মাত্র ৪ লাখ টাকা পেয়েছেন
- 📌 অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মজিবর রহমান বলেছেন, পেনশন হলো চাকরিজীবনের প্রাপ্য অর্থ, অবসরের পর দ্রুত পাওয়ার প্রত্যাশা ছিল
- 📌 শিক্ষকদের জন্য পেনশন পাওয়ার দীর্ঘসূত্রতা আর্থিক সংকট সৃষ্টি করছে, কাগজপত্রের ত্রুটি সংশোধনেও সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে
- 📌 বিশ্ব শিক্ষক দিবসে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা দাবি করছেন, অবসর গ্রহণের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পেনশন পাওয়ার ব্যবস্থা করা দরকার
📰 বিস্তারিত
সারাজীবন শিক্ষকতা করে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করলেও অবসরের পর নিজেদের প্রাপ্য পেনশন পেতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের এখনও দপ্তরে দপ্তরে ঘুরতে হয়। খুলনার কয়রা উপজেলার কালনা আমিনিয়া কামিল মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মনোরঞ্জন মণ্ডল ২০২৩ সালে অবসর গ্রহণ করলেও এখনো পেনশনের পুরো টাকা পাননি। তিনি বলেন, “সারা জীবন শিক্ষকতা করেছি। অবসরের পর নিজের প্রাপ্য টাকা পাওয়ার জন্য এভাবে অপেক্ষা করতে হবে, তা ভাবিনি। কিছুদিন আগে সারাদেশের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পেনশনের টাকা দেওয়া হয়েছে। সেখানে আমি ৪ লাখ টাকা পেয়েছি। এখনো বাকি ২৬ লাখ টাকা। বয়স হয়েছে, শরীরও আগের মতো নেই। তারপরও পেনশনের জন্য বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করতে হচ্ছে।”
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মজিবর রহমান বলেন, “পেনশনের টাকা আমাদের কাছে কোনো অনুদান নয়, এটি চাকরিজীবনের প্রাপ্য। অবসরের পর যেন দ্রুত টাকা পাওয়া যায়, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।” শিক্ষকদের জন্য পেনশন পাওয়ার দীর্ঘসূত্রতা তাদের জীবনকে কষ্টসাধ্য করে তুলেছে। অবসরের পর নিয়মিত আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যায়। তখন পেনশন ও অবসরকালীন সুবিধার অর্থই অনেকের প্রধান ভরসা। কারও চিকিৎসা ব্যয়, কারও সংসারের খরচ—সবকিছুর জন্য প্রয়োজন হয় এই অর্থ। কিন্তু দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেকেই আর্থিক সংকটে পড়ছেন।
প্রবীণ শিক্ষকদের জন্য পেনশনের টাকা পেতে বারবার দপ্তরে যাতায়াত করাও কঠিন। কোনো কাগজে ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন, নতুন কাগজ জমা দেওয়া কিংবা ফাইলের অবস্থান জানতে আবারও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ছুটতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটোই ব্যয় হচ্ছে। শিক্ষক দিবসে শিক্ষকদের সম্মান জানাতে নানা আয়োজন থাকলেও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পেনশন-ভোগান্তির বিষয়টি দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের প্রত্যাশা, অবসর গ্রহণের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রাপ্য অর্থ পাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
"প্রজন্মের পর প্রজন্ম শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ গড়ে দেওয়া শিক্ষকদের জীবনের শেষভাগ যেন নিজের প্রাপ্য অর্থের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষায় না কাটে—বিশ্ব শিক্ষক দিবসে এটাই তাদের প্রত্যাশা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খুলনার কয়রা উপজেলা, কালনা আমিনিয়া কামিল মাদ্রাসা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মনোরঞ্জন মণ্ডল, মজিবর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ লাখ টাকা (প্রাপ্ত), ২৬ লাখ টাকা (বাকি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!