📌 হাত না থাকলেও পা দিয়ে কাজ করে ২১ বছর ধরে চাকরি করছেন রাশিদুল আজম। ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠানে সহজে চলাফেরা ও কাজ করার সুবিধা পেয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন। সরকারও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ শুরু করেছে
২১ বছর ধরে একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন রাশিদুল আজম। কিন্তু তাঁর দুটি হাত নেই। শারীরিক প্রতিবন্ধিতা সত্ত্বেও তিনি পা দিয়ে ল্যাপটপ চালিয়ে কাজ করছেন। ঢাকার সাভারের একটি প্রতিষ্ঠানে তাঁর জন্য বিশেষভাবে ডেস্ক তৈরি করা হয়েছে। রাশিদুলের সংগ্রামের গল্প শুনলে অনুপ্রাণিত হয় সবাই।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাশিদুল আজম জন্মগতভাবে দুই হাত ছাড়াই পা দিয়ে কাজ করে ২১ বছর ধরে একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন।
- 📌 তাঁর কর্মস্থলে নিচু ডেস্ক এবং সহজ চলাফেরার ব্যবস্থা থাকায় তিনি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন।
- 📌 সেন্টার ফর ডিজএবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক নাজমুল বারী বলেছেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।
- 📌 সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেছেন, সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মক্ষেত্রে সম-অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ শুরু করেছে।
- 📌 রাশিদুলের সহকর্মী ইফতেখারুল হাসান জানান, প্রতিষ্ঠানের সবাই তাঁর সহযোগিতা করে।
📰 বিস্তারিত
সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস। অফিসের সবাই ব্যস্ত। কিন্তু একটি ডেস্কে বসে পা দিয়ে ল্যাপটপ চালিয়ে কাজ করছেন রাশিদুল আজম। তাঁকে সহকর্মীরা রাসেল নামে ডাকেন। তিনি জানান, জন্মের সময় থেকেই তাঁর দুই হাত নেই। কিন্তু তিনি পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। স্নাতকোত্তর শেষ করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি শুরু করেন। এরপর আরেকটি প্রতিষ্ঠানে দুই বছর কাজ করার পর বর্তমান প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন। ২০০৫ সাল থেকে তিনি এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন।
রাশিদুলের কর্মস্থল সেন্টার ফর ডিজএবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্ট। ঢাকার সাভারের গেন্ডায় অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানে তাঁর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁর জন্য নিচু ডেস্ক তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি দুটো পা দিয়ে কাজ করছি। হাত দিয়ে কাজ করতে পারছি না। এখানে পা আর হাতের কাজ মিলালে হবে না। তবে এই অফিস সেটাকে মেনে নিচ্ছে। তারা বিশ্বাস করে, আমার কিছু সময় বেশি লাগবে।’
তাঁর সহকর্মী ইফতেখারুল হাসান বলেন, রাশিদুলের প্রয়োজনে সবাই সহযোগিতা করেন। তিনি আরো জানান, পরিবার ও সমাজের সহযোগিতা ছাড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা নিজেকে আত্মনির্ভরশীল করতে পারেন না।
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩ অনুযায়ী কর্মক্ষেত্রে তাদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার, প্রবেশগম্যতা ও বিচারগম্যতা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, ‘কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অধিকাংশ অবকাঠামোতে শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রবেশগম্যতা বাধাগ্রস্ত হয়। তাদের জন্য পৃথক ওয়াশ ব্লক বা শৌচাগার নেই। অধিকাংশ ভবনে হুইল চেয়ার ঢোকানের মতো লিফটব্যবস্থা নেই।’
প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক নাজমুল বারী বলেন, প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। তিনি বলেন, ‘রাশিদুল অন্যদের চেয়ে অনেক দ্রুত কাজ করেন। তাঁর জন্য উপযোগী একটি ডেস্ক তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। অন্যরা চাইলেও এ ধরনের উদ্যোগ নিতে পারে।’
"আমি দুটো পা দিয়ে কাজ করছি। হাত দিয়ে কাজ করতে পারছি না। এখানে পা আর হাতের কাজ মিলালে হবে না। তবে এই অফিস সেটাকে মেনে নিচ্ছে। তারা বিশ্বাস করে, আমার কিছু সময় বেশি লাগবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (সাভারের গেন্ডা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাশিদুল আজম, ফারজানা শারমীন, নাজমুল বারী, ইফতেখারুল হাসান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২১ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!