📌 বিজিবি রাজশাহী ব্যাটালিয়ন (১ বিজিবি) সীমান্ত ও চরাঞ্চল থেকে উদ্ধার করে জাতীয় জাদুঘরে হস্তান্তর করেছে সূর্যপুত্র রেবন্তর একটি বিরল সপ্তম শতকের মূর্তি ও ২৫টি প্রত্ননিদর্শন। প্রত্নতত্ত্ব গবেষক মোশারফ হোসেন মূর্তিটিকে অত্যন্ত বিরল বলে উল্লেখ করেছেন।
বিজিবি রাজশাহী ব্যাটালিয়ন (১ বিজিবি) সীমান্ত ও চরাঞ্চল থেকে উদ্ধার করা সূর্যপুত্র রেবন্তর একটি বিরল মূর্তি ও ২৫টি প্রত্ননিদর্শন জাতীয় জাদুঘরে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে। এই সংগ্রহে রয়েছে ১ হাজার ৮১৮টি ধাতব মুদ্রা, যার মধ্যে রয়েছে ব্রিটিশ আমল থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ের মুদ্রা। প্রত্নতত্ত্ব গবেষক মোশারফ হোসেন মূর্তিটিকে সপ্তম শতকের বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন এবং এটি অত্যন্ত বিরল প্রত্নবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিজিবি রাজশাহী ব্যাটালিয়ন সীমান্ত ও চরাঞ্চল থেকে উদ্ধার করে জাতীয় জাদুঘরে হস্তান্তর করেছে সূর্যপুত্র রেবন্তর একটি বিরল মূর্তি ও ২৫টি প্রত্ননিদর্শন।
- 📌 মূর্তিটি বেলে পাথরের তৈরি এবং প্রাথমিকভাবে সপ্তম শতকের হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
- 📌 মোশারফ হোসেন (প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সাবেক উপপরিচালক) মূর্তিটিকে অত্যন্ত বিরল এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।
- 📌 সংগ্রহে রয়েছে ১ হাজার ৮১৮টি ধাতব মুদ্রা, যার মধ্যে ব্রিটিশ আমল থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ের মুদ্রা রয়েছে।
- 📌 জাদুঘরে সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়ার পেছনে ছিল বিজিবি ব্যাটালিয়নে উপযুক্ত সংরক্ষণাগার না থাকার আশঙ্কা।
📰 বিস্তারিত
রাজশাহীর সীমান্ত ও চরাঞ্চল থেকে উদ্ধার করা সূর্যপুত্র রেবন্তর মূর্তি ও অন্যান্য প্রত্ননিদর্শন জাতীয় জাদুঘরের ইতিহাস ও ধ্রুপদি শিল্পকলা বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই মূর্তিটি বেলে পাথরের তৈরি এবং রেবন্তকে সাধারণত ঘোড়ায় চড়া শিকারির বেশে চিত্রায়িত করা হয়। মূর্তির সঙ্গে অনুচরদেরও দেখা যায়, কখনো একজন অনুচর রাজকীয় মর্যাদার প্রতীক ছাতা ধরে রাখেন।
প্রত্নতত্ত্ব গবেষক মোশারফ হোসেন মূর্তির ছবি দেখে প্রাথমিকভাবে সপ্তম শতকের হতে পারে বলে ধারণা করেছেন। তিনি মূর্তিটিকে অত্যন্ত বিরল এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া সংগ্রহে রয়েছে নবম-দশম শতকের জৈন তীর্থংকর ও ১১-১২ শতকের অপরাজিতামূর্তি। এগুলো প্রাচীন বরেন্দ্র অঞ্চলে ধর্মীয় ও ভাস্কর্যরীতির অসাধারণ নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়।
জাতীয় জাদুঘরের ইতিহাস ও ধ্রুপদি শিল্পকলা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সংগ্রহে রয়েছে শৈল্পিক ‘চামরধারিণী’ মূর্তি, মহাকালী রূপের দেবী ‘চামুণ্ডা’, তাণ্ডবরূপী ‘নটরাজ শিব’ এবং ১১-১২ শতকের বিষ্ণুমূর্তি। এছাড়া সংগ্রহে রয়েছে ১৯-২০ শতকের তুলনামূলক আধুনিক পিতলের রাধামূর্তি।
বিজিবি রাজশাহী ব্যাটালিয়ন থেকে জাতীয় জাদুঘরে নিদর্শনগুলো হস্তান্তর করার পেছনে ছিল দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত টানা ৯টি চিঠি আদান-প্রদান করা হয়। বিজিবি ব্যাটালিয়নে উপযুক্ত সংরক্ষণাগার না থাকায় জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
"সংগ্রহের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ সূর্যপুত্র রেবন্তর ভাস্কর্যটি। এটি একটি অতি বিরল প্রত্নবস্তু। এত পুরোনো সংগ্রহ কমই আছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী জেলা, বরেন্দ্র অববাহিকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোশারফ হোসেন (প্রত্নতত্ত্ব গবেষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫টি প্রত্ননিদর্শন, ১ হাজার ৮১৮টি মুদ্রা, সপ্তম শতক
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!