📌 রংপুর বিভাগীয় বাস-মিনিবাস মোটর মালিক সমিতি বিআরটিএর ২০ বছরের পুরোনো বাসের ফিটনেস সনদ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার দাবি জানিয়ে ১ নভেম্বর থেকে ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। মালিকপক্ষ দাবি করে, বাসের বয়স নয়, শারীরিক অবস্থা ফিটনেস সনদ প্রদানের মূল মাপকাঠি হওয়া উচিত
রংপুর বিভাগে বাস ও মিনিবাস মালিকদের সংগঠিত প্রতিবাদে উত্তেজনা বেড়ে গেছে। বিআরটিএর ২০ বছরের পুরোনো বাস ও মিনিবাসের ফিটনেস সনদ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে, মালিকপক্ষ ১ নভেম্বর থেকে সর্বাত্মক ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তারা সরকারকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে আহ্বান জানিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রংপুর বিভাগে ১ নভেম্বর থেকে ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাস-মিনিবাস মালিকপক্ষ
- 📌 বিআরটিএর সিদ্ধান্তে সারাদেশে ৫৬ হাজার বাস ও ২৮ হাজার মিনিবাসের ফিটনেস সনদ বাতিল হলে গণপরিবহনে মারাত্মক শূন্যতা সৃষ্টি হবে
- 📌 মালিকপক্ষ দাবি করে, ফিটনেস সনদ প্রদানের মূল মাপকাঠি হওয়া উচিত বাসের বর্তমান শারীরিক অবস্থা, নয় বয়স
- 📌 ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইনের ৪০ ধারা অনুযায়ী চেসিস ছাড়া অন্যান্য যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করার সুযোগ রয়েছে, কিন্তু বিআরটিএর সিদ্ধান্ত তা প্রত্যাখ্যান করেছে
- 📌 রংপুর বিভাগের অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করে মালিকপক্ষ বলেছে, নতুন বাস কেনার পরিবর্তে পুরোনো বাসে নতুন পার্টস সংযোজন করা অনেক বেশি সাশ্রয়ী
📰 বিস্তারিত
রংপুর বিভাগীয় বাস-মিনিবাস মোটর মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল করিম বসুনিয়া শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, বিআরটিএর নীতিমালা অনুযায়ী বাস ও মিনিবাসের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ২০ বছর এবং ট্রাক-কাভার্ডভ্যানের জন্য ২৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সারাদেশে নিবন্ধিত প্রায় ৫৬ হাজার বাস ও ২৮ হাজার মিনিবাসের ফিটনেস সনদ বাতিল হয়ে যাবে।
মালিকপক্ষের দাবি, ২০২৪ সালে সারাদেশে নতুন নিবন্ধিত বাসের সংখ্যা মাত্র ১ হাজার ৭৩৬টি, যার মধ্যে মিনিবাস মাত্র ২২০টি। এই গতিতে যানবাহন প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হলে গণপরিবহনে মারাত্মক শূন্যতা সৃষ্টি হবে। তারা আরও বলেছেন, ফিটনেস সনদ প্রদানের মূল মাপকাঠি হওয়া উচিত বাসের বর্তমান শারীরিক অবস্থা, নয় বয়স।
মালিকপক্ষ উল্লেখ করেছেন, ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইনের ৪০ ধারা অনুযায়ী চেসিস ছাড়া অন্যান্য যন্ত্রাংশ নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে পরিবর্তন করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বিআরটিএর বর্তমান সিদ্ধান্ত এই আইনের সরাসরি ব্যত্যয় বলে তারা অভিযোগ করেছেন। তারা আরও বলেছেন, বিপুলসংখ্যক যানবাহন একযোগে বাতিল বা স্ক্র্যাপ করলে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং নতুন বাস আমদানিতে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হবে, যা দেশের অর্থনীতিকে চাপ দেবে।
রংপুর অঞ্চলের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করে মালিকপক্ষ বলেছে, রংপুর বিভাগ একটি কৃষিনির্ভর এলাকা। এখানকার পরিবহন মালিকদের পক্ষে প্রায় অর্ধকোটি টাকা খরচ করে নতুন যানবাহন কেনা আর্থিকভাবে অসম্ভব। তারা অভিযোগ করেছেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ও নীতিভ্রষ্ট আমদানিকারকদের সুবিধা দিতে আমলারা সরকারকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে এই অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করছে।
"আমরা সরকারকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যথায় ১ নভেম্বর থেকে রংপুর বিভাগে সর্বাত্মক ধর্মঘট শুরু হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রংপুর বিভাগ, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. রেজাউল করিম বসুনিয়া (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক), মাহবুবুর রহমান বেলাল (সংসদ সদস্য), ভবানী শংকর আগরওয়াল (সভাপতি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ বছর (বাসের আয়ুষ্কাল), ২৫ বছর (ট্রাক-কাভার্ডভ্যানের আয়ুষ্কাল), ৫৬ হাজার (বাস), ২৮ হাজার (মিনিবাস), ১ হাজার ৭৩৬ (নতুন বাস), ২২০ (নতুন মিনিবাস)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!