📌 রংপুরে চার সদস্যের হত্যাকাণ্ডে জমি বিরোধ ও ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন আরএমপি কমিশনার
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের চার সদস্যের হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন তথ্য উঠে এসেছে। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বুধবার দুপুরে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, হত্যাকাণ্ডের পেছনে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়া এবং জমি বিরোধ উভয়ই কারণ হতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে উঠে এলো ইয়াবা বিরোধ ও পূর্বপুরুষদের জমি নিয়ে ক্ষোভ
- 📌 আসামি সিদ্ধার্থ দাসের আদালতের জবানবন্দিতে জমি ক্রয়ের বিরোধের কথা উল্লেখ
- 📌 চারজন নিহত হন শ্বাসরোধে, ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি
- 📌 হত্যার পর আসামিরা শ্মশানে আশ্রয় চেয়েছিল, গার্ড বিদ্যুৎ দাস অস্বীকার করেন
- 📌 ঘটনার সময় প্রতিবেশী নারী চিৎকার শুনলেও স্বামীর দ্বারা পিটানোর অভিযোগ
📰 বিস্তারিত
আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, আসামি সিদ্ধার্থ দাসের আদালতের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে যে তার পূর্বপুরুষদের জমি গণপতি চক্রবর্তীর পরিবার অধিগ্রহণ করেছিল। তিনি বলেন, ‘জমিটি সম্ভবত বেশি মূল্যে কেনা হয়েছিল এবং শরিকরা তাদের প্রাপ্য টাকা পায়নি। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভ থাকতে পারে।’ পুলিশ কমিশনার আরও জানান, এলাকার অধিকাংশ বাসিন্দা দাস বংশের হলেও গণপতি চক্রবর্তীরা ছিলেন ব্রাহ্মণ, যা সামাজিক দূরত্ব তৈরিতে ভূমিকা রেখেছিল।
কমিশনার জানান, খুনের পর সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ শ্মশানে গিয়ে আশ্রয় চেয়েছিল। শ্মশানের গার্ড বিদ্যুৎ দাস তাদের আশ্রয় দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে পুলিশ সেখানে পৌঁছে মুগ্ধকে আটক করে। বিদ্যুৎ দাস আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। হত্যার পর দুই খুনি ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তারা বাথরুমে গোসল করে এবং ডাইনিং টেবিলে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেয়। পরে ঘরের জিনিসপত্র উলটে পালটে ডাকাতির নাটক সাজায়। কিছু স্বর্ণালংকার ও ১৫ হাজার টাকা নিয়ে জুমার নামাজের সময় বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার সময় প্রতিবেশী এক নারী চিৎকার শুনেছিলেন বলে জানান কমিশনার। তবে তার স্বামী তাকে তথ্য দেওয়ার জন্য পিটিয়েছেন এমন অভিযোগও করেছেন তিনি। ময়নাতদন্তে চারজনের মৃত্যু শ্বাসরোধে হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। নারী ভিকটিমদের ভ্যাজাইনাল সোয়াব পরীক্ষায় কোনো ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি। গলায় ফাঁস বা শ্বাসরোধের ফলে মলমূত্র বেরিয়ে আসতে পারে এবং চোখ ফুলে যেতে পারে বলে পোস্টমর্টেম রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘সিদ্ধার্থ দাসের আদালতের জবানবন্দিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে- তার পূর্বপুরুষদের জমি গণপতি চক্রবর্তীর পরিবার কিনেছিল। সেই জমি সম্ভবত বেশি মূল্যে কেনা হয়েছিল এবং জমির শরিকরা তাদের প্রাপ্য টাকা পায়নি।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রংপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ (আরএমপি কমিশনার), সিদ্ধার্থ দাস (আসামি), বিদ্যুৎ দাস (শ্মশান গার্ড)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ (নিহত), ১৬৪ (ধারা), ১৫ হাজার টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!