📌 রংপুরে এক পরিবারের চার সদস্যের হত্যাকাণ্ডে ময়নাতদন্তের ভিডিও সামনে এসেছে। ডোম যতীন রায় দাবি করেছেন, নিহত দুই নারীর শরীর থেকে ‘বীর্য’ সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে চিকিৎসক জানিয়েছেন, পরীক্ষায় কোনো স্পার্ম পাওয়া যায়নি
রংপুরে গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের চার সদস্যের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ময়নাতদন্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে ডোম যতীন রায় দাবি করেছেন, নিহত প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও তাঁর মেয়ে পার্থী চক্রবর্তীর শরীর থেকে ‘বীর্য’ সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, পরীক্ষায় কোনো স্পার্ম পাওয়া যায়নি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রংপুরে গণপতি চক্রবর্তীসহ চার সদস্যের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে গত শনিবার রাতে
- 📌 ডোম যতীন রায় দাবি করেছেন, নিহত দুই নারীর শরীর থেকে ‘বীর্য’ সংগ্রহ করা হয়েছে
- 📌 ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, আলামত পরীক্ষায় কোনো স্পার্ম পাওয়া যায়নি
- 📌 ঘটনায় দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন
- 📌 হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন
📰 বিস্তারিত
গত শনিবার গভীর রাতে রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী আগামী (২৫) ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী আয়ুশের (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গণপতি চক্রবর্তী ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক। স্বজনদের ভাষ্যমতে, দুই দিন ধরে পরিবারের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে তাঁরা বাড়িতে যান এবং চারজনের মৃতদেহ দেখতে পান।
ঘটনায় গত রোববার রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী। পরে পুলিশের বক্তব্য নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংগঠনের সদস্যরা আন্দোলন করেন। তাঁরা সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। মামলাটির তদন্তভার পরে মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যদের দেওয়া হয়।
ময়নাতদন্তের ভিডিওতে ডোম যতীন রায় বলেন, ‘ডাক্তার বলছে, দেখ তো আছে কি না, দেখলাম বীর্য বেরোচ্ছে। তারপর বলে ওইটা রাখি দাও। ওইটা রাখি দিলাম। ডাক্তারে ওপর তো আমি কিছু বলতে পারব না। “বীর্য” যখন বেরিয়েছে, ডাক্তার বলল এটা ভ্যাজাইনা সোয়াব, বের করে নাও। আমি বের করি নিছি। মেয়েটার বীর্য বের হইছে, বীর্যটা রাখছি আমি। মেয়ের মাকে দেখছি, ওটারও একটু সোয়াব বের হইছে।’
এ বিষয়ে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক রংপুর মেডিকেল কলেজ ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বাবুল কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘আমাদের সন্দেহ ছিল। ধর্ষণ কি না, স্পার্ম আছে কি না। সোয়াবটাকে নিতে বলা হয়েছে। তখন সে ওটা নিয়েছে। সেখান থেকে ফিসারের মতো আসছে। তাঁর কাছে এটা এরকম মনে হয়েছে। কিন্তু আমরা আলামত সংগ্রহ করে মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবে পাঠিয়েছিলাম। সেটার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। সেখানে কোনো স্পার্ম পাওয়া যায়নি।’
গত রোববার গভীর রাত পর্যন্ত দুই আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ডিবির উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা যেটা আদালত সূত্রে জানতে পেরেছি, আসামিরা অ্যাজ ইট ইজ অর্থাৎ আমাদের কমিশনার স্যার ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের যেটা বলেছেন, দেশবাসীকে যেটা জানিয়েছেন, একই ঘটনা তাঁরা বলেছেন।’
আজ মঙ্গলবার দুপুরে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানে অংশ নেন স্বজন, প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। জিলা স্কুলে নিহত গণপতি ও তাঁর ছেলে প্রিয়মের স্মরণে প্রার্থনা ও স্মরণসভা আয়োজন করা হয়। সেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
‘আমাদের সন্দেহ ছিল। ধর্ষণ কি না, স্পার্ম আছে কি না। সোয়াবটাকে নিতে বলা হয়েছে। তখন সে ওটা নিয়েছে। সেখান থেকে ফিসারের মতো আসছে। তাঁর কাছে এটা এরকম মনে হয়েছে। কিন্তু আমরা আলামত সংগ্রহ করে মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবে পাঠিয়েছিলাম। সেটার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। সেখানে কোনো স্পার্ম পাওয়া যায়নি।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রংপুরের মাছুয়াপাড়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: গণপতি চক্রবর্তী, প্রীতিলতা চক্রবর্তী, পার্থী চক্রবর্তী, প্রিয়ম চক্রবর্তী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ জন নিহত, ৬৫ বছর, ৫০ বছর, ২৫ বছর, ১২ বছর, ১৬৪ ধারা, ৮০ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!