📌 রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের বক্তব্যে অসংগতি প্রকাশ্যে আসে। দ্বিতীয় সংবাদ সম্মেলনে কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে চলে যান, যা ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ গণপতি চক্রবর্তী হত্যাকাণ্ড নিয়ে দ্বিতীয় দফা সংবাদ সম্মেলনে আসামিদের জবানবন্দির ভিত্তিতে নতুন বর্ণনা তুলে ধরেন। তবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়েই তিনি দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। তাঁর এমন আচরণে উপস্থিত সাংবাদিকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ দ্বিতীয় সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের নতুন বর্ণনা দেন
- 📌 আসামিদের জবানবন্দিতে হত্যার সময়, পদ্ধতি ও আলামত সম্পর্কে নতুন তথ্য উঠে আসে
- 📌 গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর স্ত্রী-মেয়েকে ছাদে হত্যা করা হয়; শিশু প্রিয়মকেও হত্যা করা হয়
- 📌 পুলিশের পূর্ববর্তী বক্তব্যে ইয়াবা সেবনের সঙ্গে হত্যার সম্পর্ক উল্লেখ করা হলেও নতুন বর্ণনায় তা পরিবর্তিত হয়
- 📌 সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে কমিশনার দ্রুত চলে যান; সাংবাদিকেরা অসন্তোষ প্রকাশ করেন
📰 বিস্তারিত
রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় গণপতি চক্রবর্তী হত্যাকাণ্ড নিয়ে দ্বিতীয় দফা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। তিনি আসামিদের জবানবন্দির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের নতুন বর্ণনা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করা হয় যে, ঘটনার দিন সকালে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে হাঁটতে যান এবং সেখানে আসামি সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাসকে দেখে ধমক দেন। পরে আত্মসম্মানের ভয়ে তাঁরা গণপতিকে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকেও ছাদেই হত্যা করা হয়। শিশু প্রিয়ম ঘুম থেকে উঠে সিদ্ধার্থকে প্রশ্ন করলে তাঁকেও হত্যা করা হয়।
তবে পুলিশের পূর্ববর্তী বক্তব্যে বলা হয়েছিল যে, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় হত্যাকাণ্ড ঘটে। নতুন বর্ণনায় তা পরিবর্তিত হয়ে আসামিরা পানির ট্যাংকের আড়ালে ইয়াবা সেবন করছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়। গণপতি তাঁদের দেখে ফেললে তাঁকে হত্যা করা হয়। শব্দ শুনে মা-মেয়ে ছাদে এলে তাদেরও হত্যা করা হয়। পরে সিসিটিভিতে ধরা পড়ার আশঙ্কায় বিদ্যুতের তার কেটে দেওয়া হয় বলে কমিশনার জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকেরা হত্যাকাণ্ডের সময়, পদ্ধতি ও আলামত নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে কমিশনার তাঁদের কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। সময় টিভির রংপুর ব্যুরো প্রধান নাজমুল ইসলাম নিশাত বলেন, সংবাদ সম্মেলনের নিয়ম অনুযায়ী আয়োজকের বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু কমিশনার তা না করে চলে যাওয়ায় পুলিশের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
‘সংবাদ সম্মেলনের রেওয়াজ হলো, আয়োজকের বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া। কিন্তু আজ কমিশনার বক্তব্য শেষে সাংঘাতিকভাবে সংবাদ সম্মেলন শেষ না করেই ওঠে চলে যান। প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে চলে যাওয়ায় পুলিশের দায়বদ্ধতার জায়গাটি শূন্য হয়ে গেছে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার কার্যালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ (রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ জন নিহত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!