📌 রংপুরের সাততলা গ্রিনফিল্ড কারখানা ২০২৬ সালের ‘রিবা ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ’ জিতেছে। নারী শ্রমিকদের কল্যাণ ও প্রকৃতির সঙ্গে স্থাপত্যের সমন্বয় করে নকশা করা এই কারখানায় প্রায় পাঁচ হাজার কর্মী কাজ করেন। যুক্তরাজ্যের রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব ব্রিটিশ আর্কিটেক্টস (রিবা) থেকে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার প্রদান করা হয়
রংপুরের সাততলা গ্রিনফিল্ড কারখানা বিশ্বের সর্বোচ্চ স্থাপত্য পুরস্কার ‘রিবা ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ’ জিতেছে। এই কারখানাটি নারী শ্রমিকদের জন্য বিশেষভাবে নকশা করা হয়েছে এবং প্রকৃতি, সবুজ পরিবেশ ও শ্রমিকবান্ধব নকশার অনন্য সমন্বয় দেখিয়েছে। বাংলাদেশের স্থাপত্য খাতে নতুন গৌরব যোগ করেছে এই কারখানা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব ব্রিটিশ আর্কিটেক্টস (রিবা) কর্তৃক ‘রিবা ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ’ প্রদান করা হয় রংপুরের সাততলা গ্রিনফিল্ড কারখানায়।
- 📌 এই কারখানায় প্রায় পাঁচ হাজার কর্মীর মধ্যে অধিকাংশই নারী। তাদের কল্যাণ ও সুস্থতার কথা বিবেচনা করে নকশা করা হয়েছে।
- 📌 কারখানাটি প্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার বর্গফুট আয়তনের সাততলা ভবন, যেখানে বাংলার ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ বাড়ির বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- 📌 কর্মীদের জন্য শিশুদের দেখাশোনার কেন্দ্র, চিকিৎসাকেন্দ্র, বিশ্রামের জায়গা, ক্যানটিন, প্রার্থনার স্থান ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার সুবিধা রয়েছে।
- 📌 কারখানার প্রবেশপথে ‘বনলতা’ নামের নারী অবয়বের ভাস্কর্য রয়েছে, যা নারীর ক্ষমতায়নের প্রতীক।
- 📌 শ্রমিক ও ব্যবস্থাপকদের জন্য একই প্রবেশপথ নকশা করা হয়েছে, যা সামাজিক বিভাজন কমানোর উদ্যোগ।
📰 বিস্তারিত
রংপুরের রবার্টসনগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত সাততলা গ্রিনফিল্ড কারখানাটি বাংলাদেশের স্থাপত্য খাতে একটি নতুন মাইলফলক সৃষ্টি করেছে। এই কারখানাটি নকশাবিদ আর্কিটেক্টস প্রতিষ্ঠানের দ্বারা নকশা করা হয়েছে। কারখানাটির নকশায় বাংলার ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ বাড়ির বৈশিষ্ট্য যেমন উঠান, পুকুর, বাগান ও ছায়াঘেরা বারান্দা আধুনিক শিল্প স্থাপত্যের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
কারখানাটি প্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার বর্গফুট আয়তনের সাততলা ভবন। এখানে কর্মীদের জন্য এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, যেখানে কাজের পাশাপাশি বিশ্রাম ও অবসর কাটানোর সুযোগ রয়েছে। স্থাপত্যবিষয়ক ওয়েবসাইট আর্কডেইলির তথ্য অনুযায়ী, ভবনটির নকশায় প্রাকৃতিক আলো-বাতাস চলাচল এবং পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শীতলীকরণ ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জলাশয়ের ওপর দিয়ে আসা বাতাসের তাপমাত্রা কমিয়ে ভবনের ভেতরে প্রবাহিত করার ব্যবস্থাও রয়েছে।
গ্রিন ফিল্ড কারখানার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর একটি হলো শ্রমিকদের কল্যাণকে নকশার কেন্দ্রে রাখা। এখানে প্রায় পাঁচ হাজার কর্মীর মধ্যে অধিকাংশই নারী। তাদের দৈনন্দিন কাজের সুবিধা ও সুস্থতার কথা বিবেচনা করে ভবনে রাখা হয়েছে শিশুদের দেখাশোনার কেন্দ্র, চিকিৎসাকেন্দ্র এবং বিশ্রাম ও সামাজিক যোগাযোগের জন্য ছায়াঘেরা জায়গা। এ ছাড়া কর্মীদের জন্য রয়েছে খাবারের ক্যানটিন, প্রার্থনার স্থান ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার সুবিধা। ছাদে শিশুদের যত্নকেন্দ্রের পাশে তৈরি করা হয়েছে বাগান, যেখানে কর্মীরা অবসর কাটাতে ও দুপুরের খাবার খেতে পারেন।
কারখানাটির নকশায় কর্মক্ষেত্রের প্রচলিত সামাজিক বিভাজন কমানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলাদেশে অনেক বড় কারখানায় শ্রমিক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রবেশপথ আলাদা থাকে। তবে গ্রিন ফিল্ড কারখানায় শ্রমিক, ব্যবস্থাপক ও মালিক-সবাই একই প্রধান প্রবেশপথ ব্যবহার করেন। রিবার বিচারকমণ্ডলীর প্রধান বিজয় জৈন এই প্রবেশপথকে সবার জন্য সমান মর্যাদার প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
"ভবনটির বিশেষত্ব হলো-এখানে মানুষ, উদ্ভিদ ও অন্যান্য প্রাণীর জন্য একটি অভিন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রংপুরের রবার্টসনগঞ্জ, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বায়েজিদ এম. খন্দকার (প্রধান স্থপতি), বিজয় জৈন (রিবা বিচারকমণ্ডলীর প্রধান)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ লাখ ৪৪ হাজার বর্গফুট (কারখানার আয়তন), ৫ হাজার (প্রায় নারী কর্মী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!