📅 ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ এআই প্রযুক্তিতে যাচাই করা সর্বশেষ সঠিক বাংলা সংবাদ।
⚡ শেষ মুহূর্ত

রংপুরের কৃষকদের ডিজেল দামবৃদ্ধি: বোরো চাষে ১৩০ কোটি টাকার অতিরিক্ত খরচের চাপ

রংপুরের কৃষকদের ডিজেল দামবৃদ্ধি: বোরো চাষে ১৩০ কোটি টাকার অতিরিক্ত খরচের চাপ

📷 ছবি: Sarabangla

📡 নিউজ সোর্সগুলি:
🔗 Sarabangla ↗ ⚠ একক সোর্স
ℹ️ এই প্রতিবেদনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা একাধিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্লিখিত। মূল নিউজ সোর্সগুলি নিচে উল্লেখ করা হয়েছে।

📌 রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলায় বোরো ধানের চাষে ডিজেলের দামবৃদ্ধি কৃষকদের ১৩০ কোটি টাকার অতিরিক্ত খরচ সৃষ্টি করেছে। ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ার ফলে সেচ ও জমি তৈরিতে খরচ বেড়েছে। কৃষকরা সৌরশক্তি ব্যবহার ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণের দাবি জানাচ্ছেন।

রংপুর অঞ্চলের কৃষকদের উপর ডিজেলের দামবৃদ্ধির ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে। লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ার ফলে বোরো ধানের চাষে জমি তৈরি ও সেচে কৃষকদের অতিরিক্ত খরচ হবে প্রায় ১৩০ কোটি টাকা। এই অতিরিক্ত খরচ উৎপাদনকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

🔴 মূল পয়েন্ট

  • 📌 রংপুরের পাঁচ জেলায় বোরো ধানের চাষে ডিজেলের দামবৃদ্ধি কৃষকদের ১৩০ কোটি টাকার অতিরিক্ত খরচ সৃষ্টি করেছে
  • 📌 ৫ লাখ ৯ হাজার ১৯৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষে ডিজেলচালিত নলকূপের সংখ্যা ৯৬ হাজার ৪১৯টি
  • 📌 এক একর জমিতে ১৫ থেকে ২০ বার সেচ দিতে ৫০ থেকে ৬০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন, দামবৃদ্ধির ফলে খরচ বেড়েছে
  • 📌 রংপুরের কৃষক আসাদুজ্জামান আফজালের ২৪ শতক জমিতে প্রতি ঘণ্টা সেচে ১২০ টাকা খরচ হয়, চারবার সেচে প্রতি একরে ৮ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ
  • 📌 সৌরশক্তি ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের প্রধান মোস্তাফিজুর রহমান রিপন
  • 📌 রংপুর বিভাগে সৌরচালিত সেচব্যবস্থা প্রতিদিন ৫.৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে, প্রতি মৌসুমে ৭৫ লাখ লিটার ডিজেল সাশ্রয় সম্ভব
  • 📌 কৃষক প্রহলাদ চন্দ্রের ১২০০ টাকা খরচে উৎপাদিত ধানের বাজারে দাম মাত্র ৮৫০ টাকা

📰 বিস্তারিত

রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলা — রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও গাইবান্ধায় বোরো ধানের চাষে ডিজেলের দামবৃদ্ধির প্রভাব সর্বত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই অঞ্চলে মোট ৫ লাখ ৯ হাজার ১৯৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৯১ হাজার ২৮৬টি নলকূপের মধ্যে ডিজেলচালিত অগভীর নলকূপের সংখ্যা ৯৬ হাজার ৪১৯টি। এছাড়া এলএলপি চালিত নলকূপের সংখ্যা মাত্র ৬৬৬টি। সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে মাত্র ২ হাজার ১৫৬ হেক্টর জমি।

রংপুরের খাসবাগ এলাকার কৃষক আসাদুজ্জামান আফজাল জানান, তার ২৪ শতক জমিতে প্রতি ঘণ্টা সেচ দিতে ১২০ টাকা খরচ হয়। এ পর্যন্ত চারবার সেচ দিতে হয়েছে, যার ফলে প্রতি একরে অতিরিক্ত খরচ হয়েছে প্রায় ৮ হাজার টাকা। অন্যদিকে, রংপুর সদর উপজেলার কৃষক আব্দুল জলিল বলেন, ‘২০০ টাকার তেল আনতে যাতায়াতে ১২০ টাকা খরচ হয়। এই তেলে চার ঘণ্টাও মেশিন চলবে না।’

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সঠিক পদ্ধতিতে সেচ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে পানির অপচয় কমার পাশাপাশি হাজার হাজার টন ডিজেল সাশ্রয় সম্ভব। প্রতি কেজি বোরো ধান উৎপাদনে সাধারণত ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার লিটার পানির প্রয়োজন হয়, কিন্তু অনেক কৃষক ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার লিটার পর্যন্ত পানি ব্যবহার করছেন।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞানের বিভাগীয় প্রধান মোস্তাফিজুর রহমান রিপন বলেন, ‘সরকার এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠনগুলো যদি কৃষিভিত্তিক সোলারের উপর বিনা সুদে অথবা স্বল্পমূল্য সুদে কৃষি ঋণ দেয়, তাহলে কৃষকরা এটার প্রতি আরো বেশি উদ্বুদ্ধ হবে।’

রংপুর অঞ্চলে সৌরচালিত সেচব্যবস্থা ইতিমধ্যে আশার আলো দেখাতে শুরু করেছে। সূর্যের আলোকে কাজে লাগিয়ে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ৫.৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এতে প্রতি সেচ মৌসুমে প্রায় ৭৫ লাখ লিটার ডিজেল সাশ্রয় সম্ভব বলে জানানো হয়েছে।

কৃষক সুধাম চন্দ্র সেন বলেন, ‘তেলের চিন্তা নাই। সোলার থেকে বিদ্যুৎ হয়, পানি পাই। ফসলও ভালো হয়, খরচও কম লাগে।’

কৃষকদের দাবি, যদি বাজারমূল্যের সঙ্গে সমন্বয় না করা যায়, তাহলে উৎপাদন হুমকির মুখে পড়বে। রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় বোরোর বাম্পার ফলন হলেও বাজারে ধানের দাম কম থাকায় কৃষকরা হতাশ। নিজপাড়া গ্রামের কৃষক প্রহলাদ চন্দ্র জানান, ‘সেচ, সার ও ওষুধের খরচ মিলিয়ে প্রতি মণ ধান উৎপাদনে প্রায় ১২০০ টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু বাজারে ধানের দাম মাত্র ৮৫০ টাকা।’

"আমনের পরে ভুট্টা করতেছে, বোরোর পরে আমন করতেছে—মাঝখানে কিন্তু একটা টাইম দেড় দুই তিন মাস পর্যন্ত থাকে। এই সময় আমরা বলতেছি ধনচা করেন। ধনচা করে পারলিং করে সবুজ সার মাটির সাথে মিশায় দেন। মাটির সাথে যখন মিশাবে একটা স্তর তৈরি হবে, তখন কিন্তু আর আপনার ইরিগেশন লাগে না। অনেক কম লাগে।"

কৃষি বিভাগ রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. এস এম আবু বক্কর সাইফুল ইসলাম বলেছেন, ‘সঠিক পদ্ধতিতে সেচ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে পানির অপচয় কমার পাশাপাশি হাজার হাজার টন ডিজেল সাশ্রয় সম্ভব।’

📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ

  • 📍 স্থান: রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, গাইবান্ধা
  • 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আসাদুজ্জামান আফজাল, আব্দুল জলিল, সুধাম চন্দ্র সেন, প্রহলাদ চন্দ্র, মোস্তাফিজুর রহমান রিপন, ড. এস এম আবু বক্কর সাইফুল ইসলাম
  • 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩০ কোটি টাকা (অতিরিক্ত খরচ), ৫ লাখ ৯ হাজার ১৯৫ হেক্টর (বোরো চাষের জমি), ৯৬ হাজার ৪১৯টি (ডিজেলচালিত নলকূপ), ২০ টাকা (ডিজেলের দামবৃদ্ধি), ৫.৯ মেগাওয়াট (সৌরশক্তি উৎপাদন)

📡 মূল নিউজ সোর্সসমূহ

এই প্রতিবেদনটি নিচের সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। মূল সংবাদ পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন:

📤 শেয়ার করুন: 📘 Facebook 💬 WhatsApp 𝕏 Twitter 💼 LinkedIn ✈️ Telegram

💬 মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ করা হবে। ইমেইল প্রকাশিত হবে না।
🤖