📌 রংপুরের গঙ্গাচড়ায় উপজেলা শারদীয় দুর্গোৎসব উদ্যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার রায়ের বিরুদ্ধে তিনটি ভুয়া পূজামণ্ডপের নামে ১৮০০ কেজি সরকারি চাল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি সাংবাদিকদের অনুরোধ করেছেন প্রচার না করা
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় সরকারি চাল চুরির একটি বড় অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা শারদীয় দুর্গোৎসব উদ্যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার রায়ের বিরুদ্ধে তিনটি ভুয়া পূজামণ্ডপের নামে ১৮০০ কেজি সরকারি চাল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি সাংবাদিকদের অনুরোধ করেছেন যে, এই ঘটনা প্রচার না করা হোক।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় তপন কুমার রায়ের বিরুদ্ধে ১৮০০ কেজি চাল উত্তোলনের অভিযোগ — তিনটি ভুয়া পূজামণ্ডপের নামে চাল চুরি করা হয়েছে
- 📌 গত বছরও দুটি পূজামণ্ডপের নামে ১০০০ কেজি চাল উত্তোলনের অভিযোগ ছিল তপন কুমার রায়ের বিরুদ্ধে
- 📌 অভিযুক্ত ব্যক্তি সাংবাদিকদের অনুরোধ করেছেন, এই ঘটনা প্রচার না করা হোক
- 📌 গঙ্গাচড়ার ৯৮টি পূজামণ্ডপের প্রতিটির জন্য ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তপন কুমার তিনটি মণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পরিচয় ব্যবহার করে চাল উত্তোলন করেছেন
- 📌 অভিযোগ রয়েছে, সরকারি অনুদানের টাকা দিয়ে দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা ও নির্বাচনী পোস্টার ছাপানো হয়েছে
📰 বিস্তারিত
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় উপজেলা শারদীয় দুর্গোৎসব উদ্যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার রায়ের বিরুদ্ধে ১৮০০ কেজি চাল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের মতে, তিনটি ভুয়া পূজামণ্ডপের নামে চাল উত্তোলনের চেষ্টা করা হয়েছে। এবার সাংবাদিকদের তৎপরতার মুখে তিনটি চালের ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সংবাদটি প্রচার না করার অনুরোধও জানিয়েছেন তপন কুমার।
গত বছরও দুটি পূজামণ্ডপের নামে ১০০০ কেজি চাল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। এ বছর যেসব পূজামণ্ডপের নামে চাল উত্তোলনের চেষ্টা করা হয়, সেগুলো হলো গঙ্গাচড়ার পুঁটিমারী পশ্চিমপাড়া দুর্গামন্দির, পশ্চিম খাপড়িখাল সার্বজনীন দুর্গামন্দির এবং রংপুর সদর উপজেলার খলেয়া ইউনিয়নের দোনদোড়া সার্বজনীন দুর্গামন্দির। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর গঙ্গাচড়ার ৯৮টি পূজামণ্ডপের প্রতিটির জন্য ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, তপন কুমার তিনটি মণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পরিচয় ব্যবহার করে পরিচয়পত্র জমা দিয়ে চাল উত্তোলনের জন্য ডিও নেন। কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পশ্চিম খাপড়িখাল সার্বজনীন দুর্গামন্দির ও দোনদোড়া সার্বজনীন দুর্গামন্দিরের নামে ৫০০ কেজি করে মোট ১০০০ কেজি চাল উত্তোলন করা হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ওই দুই মন্দিরে গত বছর পূজা অনুষ্ঠিত হয়নি।
"টাকা-পয়সার অভাবে আমরা দুবছর ধরে এখানে পূজা করতেছি না। গত বছরও পূজা করি নাই, এ বছরেও করি নাই। আপনার মুখে শুনতে পারলাম যে আমার স্বাক্ষর জাল করে পূজামণ্ডপের নাম দিয়ে চাল তুলেছে। আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না দাদা।"
— পশ্চিম খাপড়িখাল সার্বজনীন দুর্গামন্দিরের সভাপতি পরিমল চন্দ্র রায়
পুঁটিমারী পশ্চিমপাড়া দুর্গামন্দিরের সভাপতি স্বাধীন চন্দ্র বলেন, ‘আমাদের এবার কোনো পূজা নাই। আমাদেরকে না জানিয়ে এই কাজটা কী করছে? এটা করা কি ঠিক হয়েছে? ধর্মের নামে এগুলো করা!’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি একটা লিখিত অভিযোগ দিই, যাতে আর তারা এ ধরনের কাজ করতে না পারে।’
বেতগাড়ী ইউনিয়নের কয়েকটি পূজামণ্ডপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আরও অভিযোগ করেন, সরকারি অনুদানের টাকা দিয়ে দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা ও নির্বাচনী পোস্টার ছাপানো হয়েছে। তাঁদের আরও অভিযোগ, ঠাকুরপাড়া দুর্গামন্দিরের নামে বরাদ্দ করা ৬০০ কেজি চাল না দিয়ে কমিটিকে মাত্র ১১ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। বাকি টাকা তপন কুমার নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
রংপুর সদর উপজেলার খলেয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোত্তালেবুল হক বলেন, ‘যদিও দোনদোড়া সার্বজনীন দুর্গামন্দিরটি বেতগাড়ী ইউনিয়ন মৌজায়, আমি আমার ইউনিয়ন থেকে সরকারি বরাদ্দ নিয়ে দিই। এবারেও সদর উপজেলা থেকে ৬০০ কেজি চাল বরাদ্দ নিয়ে দিছি। গঙ্গাচড়া থেকে তুলছে কি না, আমার জানা নাই।’
বেতগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মারুফ বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে বরাদ্দ দেওয়ার আগে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে প্রকৃত তথ্য যাচাই করা উচিত।
"অনুরোধ করবো, দাদা, যা হয়েছে হয়েছে। এগুলো দয়া করে প্রচার করিয়েন না। আমি চেয়ারম্যান নির্বাচন করবো, তাহলে আমার সম্মান থাকবে না।"
— অভিযুক্ত তপন কুমার রায়
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রংপুর সদর উপজেলা, গঙ্গাচড়া, পশ্চিম খাপড়িখাল, খলেয়া ইউনিয়ন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তপন কুমার রায়, পরিমল চন্দ্র রায়, স্বাধীন চন্দ্র, মোত্তালেবুল হক, মারুফ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮০০ কেজি চাল, ১০০০ কেজি চাল (গত বছর), ৯৮টি পূজামণ্ডপ, ৬০০ কেজি চাল (প্রতি মণ্ডপ), ৫০০ কেজি চাল (২০২৫), ১১ হাজার টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!