📌 রংপুর বিভাগের ৫ হাজার ১৩৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজায় ঢাকির অভাবের কারণে পূজা কমিটির সদস্যরা নিজে ঢাক বাজাচ্ছেন। পেশাদার ঢাকির সংখ্যা কমে যাওয়ায় ঐতিহ্যবাহী পূজা অনুষ্ঠানের ছন্দে অপূর্ণতা সৃষ্টি হচ্ছে
রংপুর বিভাগের গ্রামাঞ্চলে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে ঢাকির অভাবের কারণে পূজা কমিটির সদস্যরা নিজেদের দায়িত্ব নিচ্ছেন। ঐতিহ্যবাহী ঢাকের শব্দের পরিবর্তে এবার মণ্ডপে কমিটির সদস্যরা পালা করে ঢাক বাজাচ্ছেন। পেশাদার ঢাকির সংখ্যা কমে যাওয়ায় উৎসবের আনন্দে ছন্দের অপূর্ণতা সৃষ্টি হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রংপুর বিভাগে ৫ হাজার ১৩৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, কিন্তু পেশাদার ঢাকির সংখ্যা কমে গেছে।
- 📌 লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় ৬ হাজার টাকা খরচ করে একটি ঢাক তৈরি করিয়ে মন্দির কমিটি নিজে ঢাক বাজাচ্ছে।
- 📌 কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় ৮ হাজার টাকা খরচ করে একটি ঢাক তৈরি করিয়ে কমিটি ঢাক বাজানোর দায়িত্ব পালন করছে।
- 📌 একজন পেশাদার ঢাকিকে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা মজুরি দিতে হয়, কিন্তু নতুন প্রজন্মের অনাগ্রহে এই পেশা হারিয়ে যাচ্ছে।
- 📌 রংপুরের মুলাটোলার ঢাকি সুখেন দাসের মতে, গ্রামে ঢাকির পারিশ্রমিক ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা, যা সারা বছরের জীবিকা নির্বাহের জন্য যথেষ্ট নয়।
📰 বিস্তারিত
দুর্গাপূজা মানেই ঢাকের বোল, ধুনুচি নাচ আর উৎসবের আবহ। কিন্তু রংপুর বিভাগের গ্রামাঞ্চলে এবার সেই ঐতিহ্যবাহী শব্দের পরিবর্তে পূজা কমিটির সদস্যরা ঢাক বাজাচ্ছেন। বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের তথ্যানুযায়ী, এ বছর রংপুর বিভাগের আট জেলায় ৫ হাজার ১৩৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০১০ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৩ হাজার। মণ্ডপের সংখ্যা বাড়লেও পেশাদার ঢাকির সংখ্যা কমে গেছে।
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার নামুড়িহাট কেন্দ্রীয় দুর্গামন্দিরে প্রতিবছর চুক্তিতে ঢাকি আনা হতো। এবার পেশাদার ঢাকি পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত ৬ হাজার টাকা খরচ করে একটি ঢাক তৈরি করিয়ে মন্দির কমিটি নিজে ঢাক বাজাচ্ছে। মন্দির কমিটির সদস্য নির্মল চন্দ্র রায় বলেন, “দুর্গাপূজায় ঢাকের বাদ্য অপরিহার্য হলেও এবার ঢাকি না পেয়ে বিকল্প পথ বেছে নিতে হয়েছে। একজন ঢাকিকে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা মজুরি দিতে হয়। তাই নিজেদের একটি ঢাক থাকলে আগামী তিন-চার বছর ব্যবহার করা যাবে। তবে নতুন ঢাক কেনা গেলেও পেশাদার ঢাকির অভাব পূরণ হচ্ছে না।”
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার সিঙ্গারডাবরীর দুর্গামন্দিরেও একই অবস্থা। গত বছর ১৩ হাজার টাকা চুক্তিতে একজন ঢাকি এসেছিলেন। এবার তাকে আর পাওয়া যায়নি। কমিটির সদস্য অবিনাশ চন্দ্র বর্মণ বলেন, “ঢাকির সংকটে পূজার বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। স্থানীয় কেউ কেউ ঢাক বাজাতে পারলেও পেশাদার ঢাকিদের মতো তাল ও ছন্দ বজায় রাখা কঠিন। তাই বাধ্য হয়েই কমিটির সদস্যরা ঢাক বাজানোর দায়িত্ব পালন করছেন।”
রংপুরের মুলাটোলার ঢাকি সুখেন দাসের মতে, শহর ও গ্রামের পারিশ্রমিকের ব্যবধানও এই পেশার বাস্তবতাকে তুলে ধরে। দুর্গাপূজার সময় শহরে ঢাকিরা ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পেলেও গ্রামে পান ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। তিনি বলেন, “এই আয় সারা বছরের জীবিকা নির্বাহের জন্য যথেষ্ট নয়। নতুন প্রজন্মের অনাগ্রহে এই পেশা হারিয়ে যাচ্ছে। একসময় হয়তো এই পেশায় নতুন মানুষ আসবেন না, হারিয়ে যাবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা ঐতিহ্য।”
"দুর্গাপূজায় ঢাকের বাদ্য অপরিহার্য হলেও এবার ঢাকি না পেয়ে বিকল্প পথ বেছে নিতে হয়েছে। একজন ঢাকিকে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা মজুরি দিতে হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রংপুর বিভাগ (লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রাজারহাট, আদিতমারী, সিঙ্গারডাবরী)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নির্মল চন্দ্র রায়, অবিনাশ চন্দ্র বর্মণ, সুখেন দাস, বাবুল চন্দ্র দাস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ হাজার ১৩৬টি মণ্ডপ, ৬ হাজার টাকা, ৮ হাজার টাকা, ১২-১৫ হাজার টাকা, ১৫ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!