📌 রংপুর বিভাগের জন্য অনুমোদিত ২০০ শয্যার মাদক নিরাময় কেন্দ্র লালমনিরহাটে স্থানান্তরিত করার প্রস্তাবে রংপুরের নাগরিক ও বিএনপি নেতারা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। জমি অধিগ্রহণের জটিলতা ও প্রকল্পের স্থান পরিবর্তনের যুক্তি না দেওয়ায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে
রংপুর বিভাগের জন্য অনুমোদিত ২০০ শয্যার মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের স্থাপনা লালমনিরহাটে স্থানান্তরিত করার প্রস্তাবে রংপুরের নাগরিক ও ক্ষমতাসীন দল বিএনপির স্থানীয় নেতারা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর ডিও লেটারের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রংপুর বিভাগের জন্য অনুমোদিত ২০০ শয্যার মাদক নিরাময় কেন্দ্রের স্থাপনা লালমনিরহাটে স্থানান্তরিত করার প্রস্তাবে রংপুরের নাগরিকদের তীব্র ক্ষোভ
- 📌 রংপুর সদর উপজেলার মন্থনা মৌজায় জমি অধিগ্রহণে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় প্রকল্প স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে
- 📌 বিএনপির স্থানীয় নেতারা প্রকল্পটি রংপুরেই বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার পাঠিয়েছেন
- 📌 প্রকল্পের ব্যয় ১ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা এবং সাত বিভাগীয় শহরে কেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে
- 📌 রংপুর বিভাগের আট জেলার মানুষ সেবা পেতে রংপুর সদরে নির্ভরশীল থাকলেও প্রকল্প স্থান পরিবর্তনের যুক্তি দেওয়া হয়নি
📰 বিস্তারিত
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা সেবা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব জোসেফা ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে লালমনিরহাটে কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্তের জন্য পূর্বানুমতি চাওয়া হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকল্পের অনুমোদিত ডিপিপিতে কেন্দ্রটি রংপুর সদর উপজেলার মন্থনা মৌজায় নির্মাণের কথা ছিল। সেখানে ১০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছিল, কিন্তু জমি তিন ফসলি হওয়ায় মালিকদের লিখিত আপত্তি সৃষ্টি করে জটিলতা তৈরি করে। এরপর মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু লালমনিরহাটে কেন্দ্র স্থাপনের অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার দেন।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ি ইউনিয়নের বৈরাগিকুমুর ও নওদাবস মৌজায় মোট ১০ একর জমি প্রস্তাব করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, লালমনিরহাটে কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত হলে প্রকল্প এলাকা বদলে যাবে এবং ডিপিপি সংশোধন করতে হবে। তবে রংপুরের নাগরিকদের কাছে প্রকল্প স্থান পরিবর্তনের যুক্তি দেওয়া হয়নি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পে সাত বিভাগীয় শহরে (চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ) ২০০ শয্যার নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণের কথা রয়েছে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা এবং একনেক অনুমোদিত হয়েছে। গত ২৫ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সাত বিভাগীয় শহরে কেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। বাস্তবায়ন করছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর।
রংপুর বিভাগের আট জেলার মানুষ চিকিৎসাসহ নানা সেবার জন্য বিভাগীয় সদরে নির্ভরশীল থাকলেও রংপুরের জন্য সরকারি কোনো সেবা ছিল না। রংপুর সদর উপজেলায় জমি অধিগ্রহণের জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় বিকল্প জায়গা খোঁজার কোনো উল্লেখ নেই।
"বিভাগীয় নামে একটি প্রকল্প ঠুনকো অজুহাতে একটি জেলায় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই চিঠি প্রকাশের আগে আমরা জানতামই না যে সরকার এ জন্য জমি অধিগ্রহণ করছে এবং সেখানে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। সিটি করপোরেশন এলাকায় জমি অধিগ্রহণে জটিলতার কথা বলা হলেও আমাদের কাছে সহযোগিতা চাওয়া হয়নি।"
রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব ও রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন বলেন, “গভীরভাবে বিবেচনা করে রংপুরে প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে সরিয়ে অন্য জায়গায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারি প্রকল্পের জন্য রংপুরে প্রয়োজনীয় জমি পাওয়া যাবে।”
রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, “রংপুরেই প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবিতে আমি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার পাঠিয়েছি। অন্য কোনো জেলা নিজ এলাকায় প্রকল্প চাইলে সেটি আলাদাভাবে করতে হবে।”
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) রংপুর মহানগর কমিটির সভাপতি খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, “কোথায় কেন্দ্র স্থাপন করলে পুরো বিভাগের মানুষ সেবা পাবে, তা সমতা ও সুষমতার ভিত্তিতে বিবেচনা করতে হবে। রংপুর এমন জায়গায় অবস্থিত, যেখান থেকে পঞ্চগড়, কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী ও লালমনিরহাটের মোগলহাটের দূরত্ব প্রায় সমান। ফলে সেবাধর্মী কোনো প্রতিষ্ঠান কোনো জেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে স্থাপন করা হলে সেবা শতভাগ নিশ্চিত হবে না।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রংপুর সদর, লালমনিরহাট সদর, বড়বাড়ি ইউনিয়ন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আসাদুল হাবিব দুলু, জোসেফা ইয়াসমিন, মাহফুজ উন নবী ডন, সাইফুল ইসলাম, খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০০ শয্যা, ১০ একর জমি, ১ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা, ২৫ জুন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!