📌 রংপুরের পীরগঞ্জের রায়পুর জমিদারবাড়ি ধ্বংসের মুখে। অযত্ন ও বেদখলের কারণে ঐতিহাসিক স্থাপনাটি ধীরে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, জমিদার পরিবারের বড় জমির অংশ বেদখল হয়ে গেছে এবং প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলি সংরক্ষণের প্রয়োজন
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহাসিক জমিদারবাড়ি ধ্বংসের মুখে। এক সময় জমিদারের এজলাসে বিচার হত, মন্দিরে শঙ্খ বাজত এবং নদীর ঘাটে মানুষের আনাগোনা ছিল। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় এই প্রাসাদ চত্বর ধ্বংসের পথে। আগাছা, ঝোপঝাড় এবং ভেঙে পড়া পুরোনো ভবনগুলি এই ঐতিহাসিক স্থাপনাকে ধ্বংসের মুখে ফেলেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রায়পুর জমিদারবাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার আখিরা নদীর তীরে অবস্থিত, যা ১৮ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল।
- 📌 জমিদার পরিবারের তিন ভাই—মুরালী সিং, বদি সিং ও বীরেন সিং—দেশভাগের আগে ভারতে চলে যান। বীরেন সিংয়ের কোনো সন্তান না থাকায় জমিদারির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা সম্পত্তির দেখভালের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- 📌 ১৯শ বিঘা জমি ছিল লাসমন সিংয়ের, কিন্তু বেদখলের কারণে বড় অংশ হারিয়ে গেছে। রায়পুর উচ্চবিদ্যালয় জমিদারবাড়িসহ প্রায় পাঁচ একর জমি পায়।
- 📌 জমিদারবাড়ির প্রাসাদ, পুকুর, অতিথিশালা ও বিচারালয় ধ্বংসের মুখে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, ইট-পাথর চুরি ও মাদক ব্যবসার কারণে স্থাপনাটি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
- 📌 স্থানীয় বাসিন্দা রানা মিয়া ও আশিকুর রহমান বলেছেন, জমিদারবাড়ির অবশিষ্ট স্থাপনা সংরক্ষণ করা দরকার এবং জমিদার পরিবারের বেদখল সম্পত্তির বিষয়ে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
- 📌 রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান দুলাল চৌধুরী বলেছেন, স্থাপনাটি পর্যটনকেন্দ্র বা বিনোদনকেন্দ্রে রূপান্তর করা সম্ভব।
- 📌 উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল বাকীউল বারী জানান, বিষয়টি জানার পর পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
📰 বিস্তারিত
রায়পুর জমিদারবাড়ি এক সময় জমিদার লাসমন সিংয়ের বাসভবন ছিল। তার তিন ছেলে—মুরালী সিং, বদি সিং ও বীরেন সিং—দেশভাগের আগে ভারতে চলে যান। বীরেন সিংয়ের কোনো সন্তান না থাকায়, জমিদারির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা সম্পত্তির দেখভালের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে স্থানীয়রা দাবি করছেন, জমিদার পরিবারের বড় জমির অংশ বেদখল হয়ে গেছে।
রায়পুর জমিদারবাড়ি ১৮ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। দেশ স্বাধীনের পর জমিদারবাড়ির জমিও দখলের প্রক্রিয়া শুরু হয়। রায়পুর উচ্চবিদ্যালয় জমিদারবাড়িসহ প্রায় পাঁচ একর জমি পায়। অবশিষ্ট জমির বড় অংশও বেদখল হয়ে যায়। আখিরা নদীর তীরের উঁচু ভিটায় প্রায় ছয় একর জায়গাজুড়ে ছিল জমিদার বীরেন বাবুর মূল প্রাসাদ। চারপাশে ছিল ইট সুরকির প্রাচীর ও সারিবদ্ধ নারিকেলগাছ। পাশে ছিল দুটি বড় পুকুর এবং দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ছিল জমিদারের বিচারালয়।
স্থানীয় বাসিন্দা রানা মিয়া বলেছেন, “এখনো এখান থেকে ইট-পাথরসহ পুরোনো নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আবার রাতের আঁধারে মাদকের রমরমা ব্যবসা চলে।” আরেক বাসিন্দা আশিকুর রহমান বলেছেন, “জমিদারবাড়ির অবশিষ্ট স্থাপনা ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন দ্রুত সংরক্ষণ করা দরকার। একই সঙ্গে জমিদার পরিবারের বেদখল হয়ে যাওয়া সম্পত্তির বিষয়েও সরকারি উদ্যোগে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”
রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান দুলাল চৌধুরী বলেছেন, “স্থাপনাটি সংরক্ষণ করে পর্যটনকেন্দ্র, বিনোদনকেন্দ্র বা পিকনিক স্পট গড়ে তোলা সম্ভব।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল বাকীউল বারী জানান, “বিষয়টি আমি গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
"এখনো চুরি যাচ্ছে ইট-পাথর। আবার রাতের আঁধারে মাদকের রমরমা ব্যবসা চলে। জমিদারবাড়ির অবশিষ্ট স্থাপনা সংরক্ষণ করা দরকার।"
"জমিদার পরিবারের বেদখল হয়ে যাওয়া সম্পত্তির বিষয়েও সরকারি উদ্যোগে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রংপুর, পীরগঞ্জ উপজেলা, রায়পুর ইউনিয়ন, আখিরা নদীর তীর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: লাসমন সিং, মুরালী সিং, বদি সিং, বীরেন সিং, রানা মিয়া, আশিকুর রহমান, সাইদুর রহমান দুলাল চৌধুরী, আব্দুল্লাহ আল বাকীউল বারী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯শ বিঘা জমি, ১৮ একর জমি, ৫ একর জমি, ৬ একর জমি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!