📌 রাঙামাটির সাজেক সড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও অবরোধকারীদের মধ্যে গুলিবিনিময় হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের এসকর্ট আটকে দেওয়া হয়। অবরোধকারীরা তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছেন
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক পর্যটন সড়কে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও অবরোধকারীদের মধ্যে গুলিবিনিময় ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সকাল ৬টার দিকে অবরোধকারীরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং শুরু করায় পর্যটকদের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের এসকর্ট বহনকারী পর্যটকদের উজোবাজার এলাকায় আটকে দিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও অবরোধকারীদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে সেনাবাহিনীর কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২২ অক্টোবর রাঙামাটির সাজেক সড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও অবরোধকারীদের মধ্যে গুলিবিনিময় ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
- 📌 সকাল ৬টার দিকে অবরোধকারীরা সাজেক পর্যটন সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং শুরু করে যানচলাচল বন্ধ করে দেয়।
- 📌 সেনাবাহিনী ও পুলিশের এসকর্ট বহনকারী পর্যটকদের উজোবাজার এলাকায় অবরোধকারীরা আটকে দেন। আলোচনার পর পর্যটকদের ছেড়ে দেওয়া হলেও গুলিবিনিময় ঘটে।
- 📌 সন্ত্রাসীদের হুমকিতে সাজেকের মাচলং এলাকায় শতাধিক সাধারণ মানুষকে ঘরছাড়া করা হয়েছে এবং তাদের ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
- 📌 জেলা প্রশাসন নিরাপত্তা বিবেচনায় সাজেক পর্যটন সড়কে পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
- 📌 তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চালিয়ে যাবার ঘোষণা দিয়েছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন।
📰 বিস্তারিত
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ৬টার দিকে রাঙামাটির সাজেক ইউনিয়নের উজোবাজার এলাকায় অবরোধকারীরা সাজেক পর্যটন সড়কে অবরোধ শুরু করে। তারা সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করায় পর্যটকদের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। সকাল ৮টার দিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বয়ে একটি বিশেষ নিরাপত্তা এসকর্ট বাঘাইহাটের উদ্দেশে রওনা হয়। সাধারণত দুটি এসকর্টের মাধ্যমে পর্যটকদের নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া হলেও আজকে একটি এসকর্টের মাধ্যমে তাদের সাজেক থেকে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
সকাল ১০টার দিকে এসকর্টটি উজোবাজার এলাকায় পৌঁছালে অবরোধকারীরা সেটি আটকে দেন। সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে পর্যটকদের ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান। তবে অবরোধকারীরা রাজি না হওয়ায় তাদের ভেরিকেড ভেঙে ছত্রভঙ্গ করে পর্যটকদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়। এ সময় উজোবাজার এলাকায় সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে। এতে কয়েকজন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা অভিযোগ করেছেন, জেএসএসের সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যরা এখনো সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছেন। তারা মাচলং এলাকার থালকুম্ভো, চিল্ল্যাতুলি কুটির, নোয়াপাড়া, লাম্বাবাক ও ভুয়োছড়িতে সশস্ত্র তৎপরতা চালাচ্ছেন। সশস্ত্র সদস্যরা শতাধিক সাধারণ মানুষকে মৃত্যুর হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘরছাড়া করেছেন এবং তাদের মুঠোফোন কেড়ে নিয়েছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়াসহ তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চালিয়ে যাবার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠন দুটি।
"সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের বুধবারের মধ্যে পর্যটনকেন্দ্র ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে অবরোধকারীরা রাজি না হওয়ায় গুলিবিনিময় ঘটেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাঙামাটি জেলা, সাজেক ইউনিয়ন, উজোবাজার এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অবরোধকারীরা, সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা, জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২২ অক্টোবর, ৬টা, ৮টা, ১০টা, ২১ অক্টোবর, ১১ অক্টোবর, ৪৮ ঘণ্টা, ৩০ হাজার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!