📌 রাজশাহী শহর একসময় তিনটি নদীর জলধারা দিয়ে গড়ে উঠেছিল। স্বরমঙ্গলা, দয়া ও বারাহী নদীগুলো নগর সম্প্রসারণে হারিয়ে গেছে, কিন্তু তাদের পুরাতন প্রবাহপথ এখনও কিছু অংশে দেখা যায়। বিশ্ব নদী দিবসের প্রতিপাদ্য ‘বন নেই, নদী নেই, পানি নেই, জীবনও নেই’-এর সাথে জড়িয়ে আছে এই নদীগুলোর ইতিহাস
রাজশাহী শহর একসময় তিনটি নদীর জলধারা দিয়ে গড়ে উঠেছিল। স্বরমঙ্গলা, দয়া ও বারাহী নদীগুলো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল, কিন্তু নগর সম্প্রসারণের সাথে সাথে তাদের অস্তিত্ব ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। বিশ্ব নদী দিবসের প্রতিপাদ্য ‘বন নেই, নদী নেই, পানি নেই, জীবনও নেই’ এই হারিয়ে যাওয়া নদীগুলোর ইতিহাসকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাজশাহী শহরে একসময় তিনটি নদী ছিল — স্বরমঙ্গলা, দয়া ও বারাহী, কিন্তু এখন তাদের অস্তিত্ব হারিয়ে গেছে
- 📌 স্বরমঙ্গলা নদী কাজলা-জামালপুর ও নামোভদ্রা এলাকায় দিয়ে প্রবাহিত হতো, কিন্তু বর্তমানে এর কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন নেই
- 📌 দয়া নদী রুয়েট এলাকার ২০-২৫ গজ পূর্ব থেকে শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিম দেয়াল ঘেঁষে প্রবাহিত হতো, কিন্তু রেললাইনের উড়ালসেতু নির্মাণে এর পুরো প্রবাহপথ হারিয়ে গেছে
- 📌 বারাহী নদী পদ্মা থেকে বের হয়ে ১৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পবা উপজেলায় মিশত, কিন্তু শহরের কেন্দ্রে এখন এর জায়গায় রয়েছে ড্রেন
- 📌 রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ ও বাপার সভাপতি জামাত খান বলেছেন, নদীগুলো উদ্ধার করতে হবে
📰 বিস্তারিত
রাজশাহী শহরের ভেতর দিয়ে একসময় তিনটি নদী প্রবাহিত হতো — স্বরমঙ্গলা, দয়া ও বারাহী। এই নদীগুলো ছিল শহরের অর্থনৈতিক জীবনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। নদীতীরে রেশম কারখানা গড়ে উঠেছিল এবং নৌকায় পণ্য পরিবহন হতো। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে নগর সম্প্রসারণের কারণে নদীগুলো হারিয়ে গেছে।
স্বরমঙ্গলা নদী তালাইমারী এলাকায় উৎসমুখ নিয়ে শুরু হয়েছিল। এটি কাজলা-জামালপুর ও নামোভদ্রা এলাকায় দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ললিতাহার, ভালুকপুকুর ও রামচন্দ্রপুর হয়ে ফলিয়ার বিলে পৌঁছাত। কিন্তু বর্তমানে এর কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন নেই। স্বরমঙ্গলার হারিয়ে যাওয়া প্রবাহের মধ্যেই দয়া নদীর পথ তৈরি হয়েছিল। দয়া নদী পদ্মা থেকে স্বরমঙ্গলা উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে রুয়েট এলাকায় পৌঁছানোর আগেই একটি শাখা হিসেবে সৃষ্টি হয়েছিল।
দয়া নদী রুয়েট এলাকার ২০-২৫ গজ পূর্ব থেকে শুরু হয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিম ও উত্তর দেয়াল ঘেঁষে প্রবাহিত হতো। প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কবরস্থানের পাশ দিয়ে মেহেরচণ্ডী কড়াইতলা পর্যন্ত প্রবাহিত হতো। কিন্তু ২০১৯ সালে রেললাইনের ওপর উড়ালসেতু নির্মাণের প্রকল্পে এই জলাভূমির পুরো অংশ ভরাট হয়ে যায়। ফলে দয়া নদীর পুরোনো প্রবাহপথের দৃশ্যমান অংশ হারিয়ে যায়।
বারাহী নদী পদ্মা থেকে শুরু হয়ে রাজশাহী শহরের ফুদকিপাড়া মহল্লা দিয়ে প্রবাহিত হতো। এই নদী শহরের কেন্দ্রভাগে এসে বড় একটি ড্রেনে পরিণত হয়েছে। বারাহী নদী শহরের সাহেব বাজার, জিরো পয়েন্ট, তুলাপট্টি, রানীবাজার, ষষ্ঠীতলা, গ্রিন প্লাজা, গ্রেটার রোড এবং রেললাইনের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হতো। এই নদীর ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাজশাহীর পুরোনো রেশমশিল্প। অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীতে দয়া নদীর তীরে রেশম কারখানা গড়ে উঠেছিল।
"রাজশাহী শহরের ভেতর দিয়ে যাওয়া অন্তত তিনটি নদী হারিয়ে গেছে। আরএস ও সিএস রেকর্ডের কাগজপত্র দেখে নদীগুলো উদ্ধার করতে হবে।"
রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) রাজশাহী শাখার সভাপতি জামাত খান বলেছেন, নদীগুলো উদ্ধার করতে হবে। তিনি আরএস ও সিএস রেকর্ডের কাগজপত্র দেখে নদীগুলো উদ্ধার করার দাবি করেছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী শহর, তালাইমারী, রুয়েট, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ফুদকিপাড়া মহল্লা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জামাত খান (রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ ও বাপার সভাপতি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০-২৫ গজ (দয়া নদীর উৎসমুখ), ১৫ কিলোমিটার (বারাহী নদীর পথ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!