📌 রাজশাহীর বাঘা সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ে দলিলপ্রতি ৫০০ টাকা ‘কল্যাণ তহবিল’ হিসেবে বাধ্যতামূলক চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বিএনপিপন্থী দলিল লেখক শাহীন মণ্ডল ও মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাংবাদিককে হুমকি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘এ বিষয়ে খবর প্রকাশ করলে ভালো থাকবেন না’
রাজশাহীর বাঘা সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ে ‘কল্যাণ তহবিল’ নামে দলিলপ্রতি ৫০০ টাকা বাধ্যতামূলক চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। গত সপ্তাহ থেকে এই অর্থ সংগ্রহ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলিল লেখকরা। অভিযোগ, বিএনপিপন্থী দুই দলিল লেখকের নেতৃত্বে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাধারণ দলিল লেখকদের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলিল লেখক সমিতির নামে চাঁদা আদায়ের প্রথা ছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাজশাহীর বাঘা সাবরেজিস্ট্রিতে দলিলপ্রতি ৫০০ টাকা ‘কল্যাণ তহবিল’ হিসেবে বাধ্যতামূলক চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে
- 📌 বিএনপিপন্থী দলিল লেখক শাহীন মণ্ডল ও মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে
- 📌 সাংবাদিককে হুমকি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘এ বিষয়ে খবর প্রকাশ করলে ভালো থাকবেন না’
- 📌 ২০০-এরও বেশি লাইসেন্সধারী দলিল লেখক রয়েছেন, কিন্তু সপ্তাহে মাত্র ৩০টি দলিল হয়
- 📌 দলিল লেখকদের মতে, আওয়ামী লীগের আমলে চাঁদা আদায়ের পরিমাণ ছিল ৫০ লাখ টাকার দলিলের জন্য ৫০ হাজার টাকা
📰 বিস্তারিত
দলিল লেখকদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলিল লেখক সমিতির নামে সরকারি ফি বাদে যত লাখ টাকার দলিল হতো, তার প্রথম লাখে ৩ হাজার টাকা, পরবর্তী লাখে ২ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হতো। একজন ক্রেতা যদি ৫০ লাখ টাকার দলিল করতেন, তাহলে সরকারি ফি বাদ দিয়েই বাড়তি ৫০ হাজার টাকা সমিতির জন্য দিতে হতো। দলিল লেখক সমিতিকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের একজন নেতাও খুন হন। আওয়ামী লীগের সময় তো আরও বেশি চাঁদা নিয়েছে। তখন তো আপনারা (সাংবাদিকেরা) কিছু করতে পারেননি। সরকার পতনের পর বিএনপি নেতারা একই কাজ শুরু করলে প্রশাসন তা বন্ধ করে দেয়। গত সপ্তাহ থেকে নতুন করে ‘কল্যাণ তহবিল’ নামে দলিলপ্রতি ৫০০ টাকা নেওয়া শুরু হয়েছে।
দলিল লেখকদের মতে, বাধ্য হয়ে দলিলপ্রতি ৫০০ টাকা দিতে হচ্ছে। বাঘা সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ে প্রায় পৌনে ২০০ লাইসেন্সধারী দলিল লেখক রয়েছেন। সপ্তাহে মাত্র দুই দিন অফিস চলে এবং গড়ে দিনে মাত্র ৩০টি দলিল হয়। এতে একজন দলিল লেখক সপ্তাহে একটা কাজ পান। আবার কেউ কোনো কাজ পান না। এক সপ্তাহ বা দুই সপ্তাহ পর একটা দলিল পেলে লেখার সম্মানী থেকে ৫০০ টাকা চাঁদা দেওয়া কঠিন। বাধ্য হয়ে দলিল লেখকেরা যাঁরা দলিল করতে আসবেন, তাঁদের কাছ থেকেই এই বাড়তি টাকা আদায় করছেন।
কল্যাণ তহবিলের নামে যে টাকা নেওয়া হচ্ছে, তাতে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপিপন্থী দলিল লেখক শাহীন মণ্ডল ও মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে শাহীন মণ্ডল বলেন, একজন দলিল লেখক মারা গেছেন। তাঁর পরিবারকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সব দলিল লেখক একমত হয়ে একটা রেজোল্যুশন করে এই টাকা আদায়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনজন দলিল লেখকের নামে ব্যাংকে হিসাব নম্বর খোলা হয়েছে। টাকা সেখানেই জমা রাখা হচ্ছে।’
"আওয়ামী লীগের সময় তো আরও বেশি চাঁদা নিয়েছে। তখন তো আপনারা (সাংবাদিকেরা) কিছু করতে পারেননি। এটা নিয়ে কোনো নিউজ করলে আপনিও ভালো থাকবেন না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাঘা সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়, রাজশাহী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শাহীন মণ্ডল, মনিরুল ইসলাম, সাংবাদিক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০০ টাকা (দলিলপ্রতি চাঁদা), ২০০+ লাইসেন্সধারী দলিল লেখক, ৩০টি দলিল (সপ্তাহে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!