📌 সোমবার ভোরে রাজশাহীতে মৃত্যুবরণ করেন প্রেসক্লাব সভাপতি সাইদুর রহমান। তিনি জীবনের শেষ পর্যন্ত প্রেসক্লাবেই বসবাস করতেন এবং জনকল্যাণে সঞ্চয় করে ট্রাস্ট গঠন করেছেন। রাজশাহীর বনেদি পরিবারের সন্তান সাইদুর রহমান ছিলেন একজন বাউন্ডুলে সাংবাদিক যিনি সারা জীবন অন্যায়ের বিরুদ্ধে গলা ফাটিয়ে দিয়েছেন
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোরে রাজশাহী শহরে মৃত্যুবরণ করেন প্রেসক্লাব সভাপতি সাইদুর রহমান। দীর্ঘদিন কিডনি রোগে ভুগছিলেন তিনি। মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর রাজশাহীর সাংবাদিক সমাজের মধ্যে গভীর শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। সাইদুর রহমানের লাশ হাসপাতাল থেকে নিয়ে আসা হয় তার বাসার সামনে দরগাপাড়ায়। সেদিন রাজশাহীতে ভয়াবহ গরম ছিল। লাশ রাখার জন্য কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সাংবাদিকরা বরফের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২১ সেপ্টেম্বর ভোরে রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইদুর রহমান মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি প্রেসক্লাবেই বসবাস করতেন এবং সেখানে মৃত্যুবরণ করেন।
- 📌 রাজশাহী জেলা প্রশাসন তৎক্ষণাৎ অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে দিলে সাংবাদিকরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
- 📌 সাইদুর রহমানের বাবা আতাউর রহমান ছিলেন রাজনীতিবিদ এবং জেলা ন্যাপের সভাপতি। তিনি ১৯৭৫ সালে রাজশাহীর গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
- 📌 মা বেগম মনোয়ারা রহমান ছিলেন ভাষাসৈনিক এবং সাংবাদিকতার পথিকৃৎ সাইদুর রহমানের শিক্ষাদান করেন।
- 📌 সাইদুর রহমানের জীবনের শেষ পর্যন্ত তিনি প্রেসক্লাবেই বসবাস করতেন এবং সেখানে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি জীবনের সঞ্চয় দিয়ে জনকল্যাণে ট্রাস্ট গঠন করেছেন।
- 📌 সাংবাদিকতা শুরু করার পর থেকে তিনি প্রেসক্লাবকে নিজের আবাস হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
- 📌 সাইদুর রহমানের মৃত্যু পেয়ে দেশের বাইরে থেকে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালাহউদ্দিন সুমন লিখেছেন যে তিনি তাঁর সাংবাদিকতার গুরু ছিলেন।
- 📌 সাইদুর রহমানের মৃত্যু পাওয়ার পর জানাজা অনুষ্ঠানের আগে শহরের অনেক সাংবাদিক জড়ো হয়েছিলেন এবং জানতে চাইছিলেন যে তিনি কী সঞ্চয় করে গেছেন।
📰 বিস্তারিত
সাইদুর রহমান ছিলেন রাজশাহীর বনেদি পরিবারের সন্তান। তাঁর বাবা আতাউর রহমান ছিলেন একজন আইনজীবী এবং রাজনীতিবিদ। তিনি জেলা ন্যাপের সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাকশাল গঠনের পর তিনি রাজশাহীর গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। মা বেগম মনোয়ারা রহমান ছিলেন ভাষাসৈনিক। সাইদুর রহমান উচ্চতর পড়াশোনার জন্য রাশিয়ায় গিয়েছিলেন এবং সেখান থেকে ফিরে এসে সাংবাদিকতা পেশায় জড়িয়ে পড়েন।
সাইদুর রহমান আশির দশকে দৈনিক করতোয়া পত্রিকায় সাংবাদিকতা শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত তিনি ভোরের কাগজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘদিন তিনি রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং মৃত্যুর আগের কয়েক বছর তিনি সভাপতি ছিলেন। তিনি বিয়ে করেননি এবং সাংবাদিকতা শুরু করার পর থেকে তাঁর ঠিকানা হয়ে উঠেছিল রাজশাহী প্রেসক্লাব। বেশির ভাগ সময় তিনি প্রেসক্লাবে, আবাসিক হোটেলে এবং মৃত্যুর আগের তাঁর বন্ধুর ভাইয়ের বাসায় ছিলেন।
সাইদুর রহমানের মৃত্যু পাওয়ার পর জানাজার আগে শহরের অনেক সাংবাদিক জড়ো হয়েছিলেন। তাঁদের জানতে চাইছিলেন যে তিনি কী সঞ্চয় করে গেছেন। সাইদুর রহমানের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর বোন আফরোজি রহমান খেলনা নামক একজন স্কুলশিক্ষককে নিয়োগ করা হয়েছে। আফরোজি বলেছেন, তাঁরা বেশি সময় পাননি সাইদুর রহমানের সঞ্চয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে।
"সাইদুর রহমান তাঁর সাংবাদিকতার গুরু ছিলেন। ছাত্রাবাসে জায়গা না পেয়ে ছয় মাস তাঁর সঙ্গে প্রেসক্লাবেই কাটিয়েছি। তাঁর বাসার খাবার ভাগ করে খেয়েছি।"
— কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালাহউদ্দিন সুমন
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী প্রেসক্লাব, রাজশাহী জেলা প্রশাসন, দরগাপাড়া, রাজশাহী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাইদুর রহমান, আতাউর রহমান, বেগম মনোয়ারা রহমান, সালাহউদ্দিন সুমন, আফরোজি রহমান খেলনা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২১ (সেপ্টেম্বর), ১৯৭৫ (বাকশাল গঠন), ১০ (কাঠা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!