📌 রাজশাহীর ঐতিহাসিক 'হেমন্ত কুমারী ঢোপকল' ৮৮ বছর বয়স পেরিয়ে অবহেলায় ধ্বংসের পথে। ১৯৩৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই পানির কলগুলো বর্তমানে মাত্র চার-পাঁচটি টিকে আছে, সড়ক উন্নয়ন ও অবহেলার কারণে। রাজশাহী ওয়াসা ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর এখনো কোনো সংরক্ষণ প্রকল্প গ্রহণ করেনি
রাজশাহীর ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্ন ‘হেমন্ত কুমারী ঢোপকল’ অবহেলায় ধ্বংসের পথে। ১৯৩৭ সালে স্থাপিত এই ৮৮ বছরের পুরোনো পানির কলগুলো বর্তমানে সড়ক উন্নয়ন ও তত্ত্বাবধানের অভাবে ধ্বংসের কগনতে। রাজশাহী শহর একসময় শিক্ষা ও সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল, কিন্তু এই ঐতিহাসিক পানি সরবরাহ ব্যবস্থার স্মৃতিচিহ্নগুলো আজ তীব্র অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাজশাহীর ‘হেমন্ত কুমারী ঢোপকল’ ৮৮ বছর বয়স পেরিয়ে অবহেলায় ধ্বংসের পথে, মাত্র চার-পাঁচটি টিকে আছে
- 📌 ১৯৩৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই পানির কলগুলো ৪৭০ গ্যালন ধারণক্ষমতা ছিল, দিনে মাত্র ২ ঘণ্টা পাম্প সচল থাকলেও পানি সরবরাহ করতো
- 📌 পুঠিয়ার মহারানী হেমন্ত কুমারী দেবী ৬৫ হাজার টাকা দান করে এই প্রকল্পে অবদান রেখেছিলেন
- 📌 রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) সড়ক প্রশস্তকরণে বেশ কিছু ঢোপকল ধ্বংস করেছে, কিন্তু অবশিষ্ট সংখ্যা সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই
- 📌 প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর ও রাজশাহী ওয়াসা এখনো কোনো সংরক্ষণ প্রকল্প গ্রহণ করেনি
📰 বিস্তারিত
বিশ শতকের ত্রিশের দশকে রাজশাহী শহরে কলেরা, আমাশয় ও ডায়রিয়া মতো পানিবাহিত রোগের মহামারি ছড়িয়ে পড়েছিল। তৎকালীন রাজশাহী পৌরসভার চেয়ারম্যান রায় ডি.এন. দাশগুপ্তের উদ্যোগে ১৯৩৭ সালে ‘হেমন্ত কুমারী ওয়াটার ওয়ার্কস’ প্রকল্প শুরু হয়। এই প্রকল্পে পুঠিয়ার মহারানী হেমন্ত কুমারী দেবী ৬৫ হাজার টাকা দান করে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছিলেন। তার নামানুসারে এই প্রকল্পের নামকরণ করা হয় ‘হেমন্ত কুমারী ঢোপকল’।
প্রকৌশলী দৃষ্টিকোণ থেকে, এই ঢোপকলগুলো ছিল তৎকালীন সময়ের অনন্য সৃষ্টি। সিমেন্ট ও বিশেষ কাস্টিং প্রযুক্তিতে তৈরি প্রায় ১২ ফুট উঁচু ও ৪ ফুট ব্যাসের গোলাকার ঢোপকলগুলো দূর থেকে সহজেই চোখে পড়ত। প্রতিটি ঢোপকল ৪৭০ গ্যালন পানি ধারণ করতে সক্ষম ছিল। শোধনাগারে পাথরকুচি ও বালুর স্তর দিয়ে পানি প্রথম দফায় শোধিত হতো, এরপর ‘রাফিং ফিল্টার’ পানিকে দ্বিতীয়বার পরিশোধিত করত। দিনে মাত্র ২ ঘণ্টা পাম্প সচল থাকলেও ঢোপকলের জমানো পানি দিয়ে নগরবাসীরা সারা দিন বিশুদ্ধ পানি পেতেন।
একসময় রাজশাহী শহরজুড়ে শতাধিক ঢোপকল ছিল, কিন্তু বর্তমানে বেলদারপাড়া, ফায়ার সার্ভিস মোড়, পাঠানপাড়া, রানীবাজার, অলোকার মোড় ও কুমারপাড়াসহ মাত্র চার-পাঁচটি ঢোপকল টিকে আছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সড়ক প্রশস্তকরণ ও ড্রেন নির্মাণে বেশ কিছু ঐতিহাসিক ঢোপকল ধ্বংস হয়েছে। তবে অবশিষ্ট ঢোপকলগুলোর সুনির্দিষ্ট সংখ্যা সম্পর্কে রাসিকের কাছে কোনো তথ্য নেই।
অবহেলার কারণে অনেক ঢোপকল ভাঙাচোরা হয়ে গেছে, আবার কোথাও আগাছায় নিমজ্জিত। স্থানীয় বাসিন্দা আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘একসময় ঢোপকল ছিল বিশুদ্ধ পানির উৎস। কিন্তু বর্তমানে এর তেমন তত্ত্বাবধান চোখে পড়ে না। ওয়াসা ও ফিল্টার পানির কারণে এর কদর কমেছে। তবে এখনো অনেক মানুষ এর পানি পান করে। প্রশাসনের কাছে দাবি থাকবে এগুলোকে সংস্কার এবং তত্ত্বাবধান করে যেন এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখা হয়।’
"একসময় ঢোপকল ছিল বিশুদ্ধ পানির উৎস। সবাই এই পানির ওপর নির্ভরশীল ছিল। জিনিসটা দারুণভাবে মানুষের উপকারে আসত। কিন্তু বর্তমানে এর তেমন তত্ত্বাবধান চোখে পড়ে না।"
প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের রাজশাহী আঞ্চলিক পরিচালক কে এম সাইফুর রহমান বলেন, ‘ঢোপকল সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের সামগ্রী হলেও ছোট আকারের স্থাপনা। ফলে এগুলোকে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে গেজেটভুক্ত করা বেশ জটিল। তবে ভবিষ্যতে বিষয়টি নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী শহর (বেলদারপাড়া, ফায়ার সার্ভিস মোড়, পাঠানপাড়া, রানীবাজার, অলোকার মোড়, কুমারপাড়া)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হেমন্ত কুমারী দেবী, আসাদুজ্জামান আসাদ, কে এম সাইফুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮৮ বছর (বয়স), ৬৫ হাজার টাকা (দান), ১২ ফুট (উচ্চতা), ৪৭০ গ্যালন (ধারণক্ষমতা), ২ ঘণ্টা (পাম্প সচল সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!