📌 ঢাকার রাজবাড়ীতে একসময় দুর্গাপূজা ছিল একটি রাজকীয় উৎসব। ১০৮টি খাসি বলি, কলকাতা থেকে আসা শিল্পীদের পরিবেশনা, পুতুলনাচ ও যাত্রাপালা সহ বিস্তৃত আয়োজন ছিল এই উৎসবের বৈশিষ্ট্য। সময়ের সাথে সাথে এই ঐতিহ্য হারিয়ে গেলেও, স্মৃতিতে তা এখনও জীবন্ত রয়েছে
১০৮টি খাসি বলি, কলকাতা থেকে আসা শিল্পীদের পরিবেশনা, পুতুলনাচ ও সারারাত যাত্রাপালা — একসময় রাজবাড়ীর রাজার বাড়ির দুর্গাপূজা ছিল একটি রাজকীয় উৎসব। ঢাকার লক্ষ্মীকোলের রাজবাড়ীতে এই উৎসবের আয়োজন ছিল অত্যন্ত বিস্তৃত এবং ঐতিহ্যবাহী। কিন্তু সময়ের স্রোতে সেই জৌলুশ হারিয়ে গেছে। তবে, স্মৃতিতে সেই উৎসবের গল্প এখনও জীবন্ত রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাজবাড়ীর দুর্গাপূজায় ১০৮টি খাসি বলি দেওয়া হতো এবং পূজার ভোগে নানা ধরনের মিষ্টান্নের আয়োজন করা হতো, যেমন: ছানার সন্দেশ, রসগোল্লা, মিষ্টিদই, ক্ষীর, নাড়ু, তালের বড়া, দুধপুলি পিঠা, পদ্মচিনি, চিনির সন্দেশ ও বাতাসা।
- 📌 পূজার আয়োজন তদারকি করতেন রানিমা শরৎ সুন্দরী এবং পুরোহিত ছিলেন তারাশঙ্কর চক্রবর্তী। পূজার সময় কলকাতা থেকে নামকরা শিল্পীরা আসতেন এবং বিনোদনের জন্য পুতুলনাচ ও যাত্রাপালার আয়োজন করা হতো।
- 📌 রাজা সূর্যকুমারের জমিদারি ছিল কাশিমনগর, দিনাজপুর, ভুবনেশ্বর, কলকাতা ও কাবিলপুর পরগনার উপর বিস্তৃত। তার বার্ষিক আয় ছিল প্রায় ১.৫ লাখ টাকা এবং রাজবাড়ির প্রাঙ্গণে ছিল অতিথিশালা, বাগানবাড়ি, শানবাঁধানো পুকুর, টোল, বৈঠকখানা, কর্মচারীদের আবাসন, গোশালা এবং আস্তাবল।
- 📌 ১৯২৭ সালের ১ অক্টোবর গোয়ালন্দ থেকে কলকাতা পর্যন্ত একটি বিশেষ ট্রেন চালু করা হয়েছিল পূজা উপলক্ষে যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করার জন্য।
- 📌 রাজা সূর্যকুমারকে ব্রিটিশ শাসকদের সামনে আত্মমর্যাদা বজায় রাখা একজন ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। তার সময়কার রাজবাড়ির দুর্গোৎসব সেই সামাজিক মর্যাদা ও সাংস্কৃতিক পৃষ্ঠপোষকতার পরিচায়ক ছিল।
📰 বিস্তারিত
রাজবাড়ীর দুর্গাপূজা ছিল একসময় ঢাকার একটি উল্লেখযোগ্য উৎসব। এই উৎসবের আয়োজন ছিল অত্যন্ত বিস্তৃত এবং ঐতিহ্যবাহী। দুলাল দত্ত, যিনি পূজার শেষ দিকের দিনগুলোর প্রত্যক্ষদর্শী, বলেছেন যে পূজায় ১০৮টি খাসি বলি দেওয়া হতো। পূজার ভোগ ও অতিথি আপ্যায়নে নানা ধরনের খাবার ও মিষ্টান্নের আয়োজন করা হতো। ছানার সন্দেশ, রসগোল্লা, মিষ্টিদই, ক্ষীর, নাড়ু, তালের বড়া, দুধপুলি পিঠা, পদ্মচিনি, চিনির সন্দেশ ও বাতাসা তৈরি করা হতো পূজার আগ থেকেই। রাজবাড়ির সেই খাবারের স্বাদ ছিল অতুলনীয়।
রাজবাড়ির পূজার আয়োজন ছিল অনেক বড়। রাজমহলে রানিমা শরৎ সুন্দরী নিজেই পূজার তদারকি করতেন। পুরোহিত ছিলেন তারাশঙ্কর চক্রবর্তী। পূজাকে কেন্দ্র করে কলকাতা থেকে নামকরা শিল্পীরা আসতেন। বিনোদনের জন্য আয়োজন করা হতো পুতুলনাচ ও যাত্রাপালার। সারারাত ধরে চলত যাত্রা। তখন তারা শরৎ সুন্দরী স্কুলে পড়তেন, যা বর্তমানে লক্ষ্মীকোল সরকারি স্কুল নামে পরিচিত।
রাজা সূর্যকুমারের জমিদারি ছিল কাশিমনগর পরগনার পদ্মাতীরবর্তী অঞ্চলসহ সূর্যনগর, দিনাজপুর, ভুবনেশ্বর, কলকাতা ও কাবিলপুর পরগনায় বিস্তৃত। তার বর্ণনা অনুযায়ী, কাশিমনগর পরগনার পদ্মাতীরবর্তী অঞ্চলসহ সূর্যকুমারের জমিদারি প্রতিষ্ঠিত ছিল। এসব জমিদারি থেকে লক্ষ্মীকোল এস্টেটের বার্ষিক আয় ছিল প্রায় দেড় লাখ টাকা। রাজবাড়ির প্রাঙ্গণে ছিল অতিথিশালা, পোস্ট অফিস, বাগানবাড়ি, শানবাঁধানো পুকুর ও ঘাট, টোল, বৈঠকখানা, অফিস, কর্মচারীদের আবাসন, গোশালা এবং আস্তাবল। হাতিশালে থাকত হাতি, ঘোড়াশালে ঘোড়া।
১৯২৭ সালের ১ অক্টোবর গোয়ালন্দ থেকে কলকাতা পর্যন্ত একটি বিশেষ ট্রেন চালু করা হয়েছিল পূজা উপলক্ষে যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করার জন্য। এই ট্রেনের যাত্রাপথে চারটি স্টেশনে থামার ব্যবস্থা ছিল। কলকাতায় পৌঁছে যাত্রীদের জন্য তীর্থস্থান ও দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন, কালীঘাটে পূজা এবং অন্যান্য কার্যক্রমের ব্যবস্থা করা হতো।
"পূজার ভোগ ও অতিথি আপ্যায়নে থাকত নানা ধরনের খাবার ও মিষ্টান্ন। ছানার সন্দেশ, রসগোল্লা, মিষ্টিদই, ক্ষীর, হাতে তৈরি বিভিন্ন ধরনের নাড়ু, তালের বড়া, দুধপুলি পিঠা, পদ্মচিনি, চিনির সন্দেশ ও বাতাসা তৈরি করা হতো পূজার আগ থেকেই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজবাড়ী, লক্ষ্মীকোল, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: দুলাল দত্ত, রানিমা শরৎ সুন্দরী, তারাশঙ্কর চক্রবর্তী, রাজা সূর্যকুমার, ত্রৈলোক্যনাথ ভট্টাচার্য
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০৮টি খাসি বলি, ৬০ একর জমি, ১.৫ লাখ টাকা বার্ষিক আয়, ১২৮ মাইল ট্রেন পথ, ১ অক্টোবর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!