📌 বাংলাদেশ রেলওয়ের অনলাইন টিকিটিং সিস্টেমে ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান ‘সহজ’ ও রেল কর্মকর্তাদের জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। পরিবহন অডিট অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে জানা যায়, অ্যাডমিন ড্যাশবোর্ড ব্যবহার করে টিকিট ব্লক করা হয়, যা সাধারণ যাত্রীদের টিকিট পেতে বাধা দেয়। এছাড়াও, সিঙ্গাপুরের ক্লাউড সার্ভারে ডেটাবেস থাকায় হ্যাকের ঝুঁকি রয়েছে। অডিটে উঠে আসে ৮ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব ফাঁকি এবং ১ কোটি ৩৯ লাখ টাকার জরিমানা না দেওয়ার অভিযোগ
বাংলাদেশ রেলওয়ের অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থায় জালিয়াতি ও দুর্নীতি রোধে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি উঠেছে। পরিবহন অডিট অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক আইটি অডিট প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে যে, বেসরকারি ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান ‘সহজ’ ও রেলওয়ের বুকিং সহকারীরা অ্যাডমিন ড্যাশবোর্ড ব্যবহার করে টিকিট ব্লক করে সাধারণ যাত্রীদের টিকিট পেতে বাধা দেয়। ফলে টিকিট কলোবাজারে চলে যায় এবং সাধারণ মানুষ টিকিট পান না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **অ্যাডমিন ড্যাশবোর্ডের অপব্যবহার**: ‘সহজ’ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও রেল কর্মকর্তারা টিকিট ব্লক করে সাধারণ যাত্রীদের টিকিট পেতে বাধা দেয়, যা কলোবাজারে টিকিটের দাম বাড়িয়ে দেয়।
- 📌 **সিঙ্গাপুরের ক্লাউডে ডেটাবেসের ঝুঁকি**: রেলওয়ের টিকিটিং ডেটাবেস আমাজন ওয়েব সার্ভিসেসের সিঙ্গাপুর অঞ্চলে থাকায় হ্যাকের ফলে যাত্রীদের ব্যক্তিগত তথ্য ও আর্থিক লেনদেনের ঝুঁকি রয়েছে।
- 📌 **৮ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি**: ‘সহজ’ প্রতিষ্ঠান ৮ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব ফাঁকি করেছে এবং ১ কোটি ৩৯ লাখ টাকার জরিমানা বাবদ অর্থ প্রদান করেনি।
- 📌 **অডিট সুপারিশ**: অ্যাডমিন ড্যাশবোর্ডের নিয়ন্ত্রণ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের হাতে নিতে হবে এবং ‘সহজ’ প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের শুধু কারিগরি কাজে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।
- 📌 **অনিয়ম বন্ধে আইনি পদক্ষেপ**: সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সহজ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে রেল কর্মকর্তাদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি টিকিটিং সিস্টেমের অনলাইন ব্যবস্থা চালু করার পরেও সাধারণ যাত্রীরা টিকিট পেতে অসুবিধা ভোগ করছেন। পরিবহন অডিট অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে জানা যায়, ‘সহজ’ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা অ্যাডমিন ড্যাশবোর্ড ব্যবহার করে টিকিট ব্লক করে সাধারণ যাত্রীদের টিকিট পেতে বাধা দেয়। ফলে টিকিট কলোবাজারে চলে যায় এবং সাধারণ মানুষের টিকিট পেতে অসুবিধা হয়।
অডিট প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, রেলওয়ের টিকিটিং ডেটাবেস আমাজন ওয়েব সার্ভিসেসের সিঙ্গাপুর অঞ্চলে ভার্চুয়াল প্রাইভেট ক্লাউডে রাখা হয়েছে। এই সিস্টেমে হ্যাকের ঝুঁকি থাকায় যাত্রীদের ব্যক্তিগত তথ্য ও আর্থিক লেনদেনের ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়াও, ‘ক্লাউড কম্পিউটিং নীতিমালা ২০২১’-এর পরিপন্থী এই ব্যবস্থা।
অডিট প্রতিবেদনে উঠে আসে ‘সহজ’ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৮ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব ফাঁকি এবং ১ কোটি ৩৯ লাখ টাকার জরিমানা বাবদ অর্থ প্রদান না করার অভিযোগ। এছাড়াও, প্রতিষ্ঠানটি সিস্টেম অকার্যকর রাখার জন্য জরিমানা বাবদ অর্থ প্রদান করেনি।
"অ্যাডমিন ড্যাশবোর্ডের ওপর রেলওয়ের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বেসরকারি ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান ‘সহজ’-এর কর্মীদের শুধু কারিগরি রক্ষণাবেক্ষণের কাজে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। টিকিট বিক্রি, আসন ব্লক করা বা কোটা সমন্বয়ের মতো কোনো প্রশাসনিক ক্ষমতায় তাদের প্রবেশাধিকার বাতিল করতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (রেলওয়ে সিস্টেম), সিঙ্গাপুর (আমাজন ওয়েব সার্ভিসেসের ক্লাউড)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পরিবহন অডিট অধিদপ্তর, ‘সহজ’ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, রেলওয়ের বুকিং সহকারীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ কোটি টাকা (রাজস্ব ফাঁকি), ১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা (জরিমানা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!