📌 জাতীয় কবিতা পরিষদের ৭২তম কবিতাপাঠে রবীন্দ্রনাথের অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধের প্রতি স্মরণ ও সমর্থন জানানো হয়। সভাপতি কবি মোহন রায়হান ও প্রধান আলোচক মতিন বৈরাগী রবীন্দ্রনাথকে আধিপত্যবাদীদের আক্রমণের মুখে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ রক্ষায় আজ রাজধানীর ইস্কাটনে জাতীয় কবিতা পরিষদের ৭২তম কবিতাপাঠ ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার বিকেলে কাজল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সভায় কবি, লেখক, সাংবাদিক ও কবিতাপ্রেমীরা একত্রিত হন এবং রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিকর্মের গুরুত্ব ও বর্তমান সমাজে তার প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে আলোচনা করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৭২তম কবিতাপাঠে** রবীন্দ্রনাথের অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধের প্রতি প্রতিবাদ জানানো হয়; শিরোনাম ছিল ‘অসাম্প্রদায়িক রবীন্দ্রনাথকে মুছে ফেলা যাবে না’
- 📌 **সভাপতি কবি মোহন রায়হান** বলেন, ইতিহাস ও সংস্কৃতির নিদর্শন মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে, যার অংশ হিসেবে রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে কালি লাগানো হয়েছে
- 📌 **প্রধান আলোচক মতিন বৈরাগী** দাবি করেন, রবীন্দ্রনাথকে আঘাত করা যাবে না; এদের থামাতে সাংস্কৃতিক বিপ্লব প্রয়োজন
- 📌 **কলকাতা থেকে আসা কবি মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়** উল্লেখ করেন, রবীন্দ্রনাথের অসাম্প্রদায়িকতা ও মুসলমানদের প্রতি তার সৌহার্দ্যকে সাম্প্রদায়িক শক্তি ধ্বংস করার চেষ্টা করছে
- 📌 **৭৩তম কবিতাপাঠ** ২৮ অক্টোবর বিকেল চারটায় অনুষ্ঠিত হবে
📰 বিস্তারিত
জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান সভায় সূচনা বক্তব্যে বলেন, ‘ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির নানা নিদর্শন মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে। এর অংশ হিসেবে আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যক্তিদেরও আঘাত করা হচ্ছে। কয়েক দিন আগে রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে কালি লাগানোর ঘটনাও এর উদাহরণ। এ ধরনের ঘটনা সমাজে বিভেদ ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির ঝুঁকি বাড়ায়। এসবের প্রতিবাদ জানাতেই এবারের আয়োজনের এমন শিরোনাম দেওয়া হয়েছে।’
প্রধান আলোচক কবি মতিন বৈরাগী ইতিহাসের আলোকে ও সমাজবাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে রবীন্দ্রনাথের সৃজনকর্মের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ আমাদের সম্পদ। রবীন্দ্রনাথকে ছাড়া প্রাত্যহিক জীবন শুরু করা যায় না। আঘাত করে তাঁকে থামানো যাবে না। এগুলো করে আধিপত্যবাদীরা। এদের থামাতে হলে একটা সাংস্কৃতিক বিপ্লব লাগবে। রবীন্দ্রনাথকে নতুন করে ধারণ করতে হবে।’
জাতীয় কবিতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ এতটাই শক্তিশালী যে তাঁকে যত আঘাত করা হবে, ধ্বংস করার চেষ্টা করা হবে, তিনি ততই নতুন করে সৃষ্টি হবেন। আমাদের বাংলা ভাষার সৌকর্য, ব্যাকরণগত দিক ও বিজ্ঞানমনস্কতা রবীন্দ্রনাথেরই তৈরি। এখানে যে অপ্রগতিশীল শক্তি রয়েছে, তারা রবীন্দ্রনাথকে মুছে দিতে চাইবে; কিন্তু তাদের সেই অপচেষ্টা পূরণ হবে না।’
কলকাতা থেকে আসা কবি মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘আজ রবীন্দ্রনাথকে সামনে রেখে ধর্মের ভিত্তিতে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে। অথচ তৎকালীন সমাজে মুসলমানদের প্রতি রবীnd্রনাথের এবং রবীন্দ্রনাথের প্রতি মুসলমানদের যে সৌহার্দ্য ও সুসম্পর্ক ছিল, তা এক মাসেও বলে শেষ করা যাবে না। আরেকজনের কথা না বললেই নয়—কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তারা কাজী নজরুল ইসলামের মতো অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তিকেও সাম্প্রদায়িক বানাতে চায়। আমরা তো তাঁদেরই সন্তান। এসব করে তাঁদের কালিমালিপ্ত করা যাবে না।’
কবি নাহিদ আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী আবদুল ওয়াদুদ। কবিতাপাঠে অংশ নেন কবি মতিন বৈরাগী, মোহন রায়হান, মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়, হরষিত বালা, রেজাউদ্দিন স্টালিন, গোলাম শফিক, শ্যামল জাকারিয়া, এ বি এম সোহেল রশিদ, ক্যামেলিয়া আহমেদ, রফিক হাসান, সাম্য শাহ, শাহীন চৌধুরী, নাহিদ হাসান, রাসেল আহম্মেদ প্রমুখ।
"ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির নানা নিদর্শন মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে। এর অংশ হিসেবে আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যক্তিদেরও আঘাত করা হচ্ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কাজল মিলনায়তন, ইস্কাটন, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কবি মোহন রায়হান (সভাপতি), কবি মতিন বৈরাগী (প্রধান আলোচক), কবি মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায় (কলকাতা থেকে), শিল্পী আবদুল ওয়াদুদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭২তম কবিতাপাঠ, ২৮ অক্টোবর (৭৩তম কবিতাপাঠের তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!