📌 ৫ অক্টোবর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সেগুনবাগিচায় ১০ জন বিখ্যাত ব্যক্তির প্রতিকৃতি আঁকলে রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি লেপনের ঘটনা ঘটে। পুলিশ চারজনকে আটক করে, কিন্তু ঘটনার পিছনে রাষ্ট্রীয় সংকীর্ণতা ও অপতথ্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
৫ অক্টোবর ঢাকার সেগুনবাগিচায় ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে ১০ জন বিখ্যাত ব্যক্তির প্রতিকৃতি আঁকা হয়। এই প্রতিকৃতিগুলির মধ্যে ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, লালন শাহ, জয়নুল আবেদিন, এস এম সুলতান, জহির রায়হান, শাহ আবদুল করিম, হুমায়ুন ফরীদি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যজিৎ রায় এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। কিন্তু এই সৌন্দর্যোদ্যোগের পিছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক শুরু হয়। বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি লেপনের ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যে, কেন তিনি পশ্চিমবঙ্গের ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও বাংলাদেশের সংস্কৃতির অংশ হিসেবে সম্মানিত হননি?
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৫ অক্টোবর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সেগুনবাগিচায় ১০ জন বিখ্যাত ব্যক্তির প্রতিকৃতি আঁকলে রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি লেপনের ঘটনা ঘটে
- 📌 ১০ অক্টোবর একটি ভিডিওতে দেখা যায় একজন নারী রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি লেপন করছেন, দাবি করা হয় তিনি বাংলাদেশবিরোধী ছিলেন
- 📌 পুলিশ চারজনকে আটক করে, তাদের মধ্যে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সাথে যুক্ত ব্যক্তিরাও রয়েছেন
- 📌 রিকশাচালক ও সাধারণ মানুষ রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতি থেকে কালি মুছে দিচ্ছেন, তারা বলেন, আমরা কোন সংস্কৃতির অংশ হতে চাই
- 📌 রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে প্রচলিত একটি ভুল তথ্য হলো তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন, কিন্তু কোনো ঐতিহাসিক দলিলে এর প্রমাণ নেই
- 📌 ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, রাষ্ট্র কি সংস্কৃতিকে পুলিশ দিয়ে রক্ষা করতে চায়, অথচ সংস্কৃতি নিজেই নিজেকে রক্ষা করতে পারে?
📰 বিস্তারিত
৫ অক্টোবর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) সেগুনবাগিচায় ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে ফুটপাতের পাশের দেয়ালে ১০ জন বিখ্যাত ব্যক্তির প্রতিকৃতি আঁকা হয়। এই প্রতিকৃতিগুলির মধ্যে ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, লালন শাহ, জয়নুল আবেদিন, এস এম সুলতান, জহির রায়হান, শাহ আবদুল করিম, হুমায়ুন ফরীদি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যজিৎ রায় এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। এই সৌন্দর্যোদ্যোগের পিছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক শুরু হয়। বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি লেপনের ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যে, কেন তিনি পশ্চিমবঙ্গের ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও বাংলাদেশের সংস্কৃতির অংশ হিসেবে সম্মানিত হননি?
১০ অক্টোবর দুপুরের দিকে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একজন নারী শুধু রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি লেপন করছেন। এই নারীর দাবি ছিল, রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশবিরোধী ছিলেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু এই দাবি একটি ভুল তথ্য। কোনো ঐতিহাসিক দলিলে রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন এমন প্রমাণ নেই। মূলত কলকাতার কিছু জমিদার ও হিন্দু নেতারা এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন।
ঘটনাটিতে পুলিশ চারজনকে আটক করে। তাদের মধ্যে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সাথে যুক্ত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, সাংবাদিকসহ কিছু লোক সেই নারীকে কিছু প্রশ্ন ছুড়ে দিলে তিনি জ্বরে আক্রান্ত বলে দাবি করেন। তারা বলেন, তাঁকে সাধারণ প্রতিবাদ কর্মসূচির কথা বলে আনা হয়েছিল এবং কালি লাগানোর বিষয়টি তিনি জানতেন না। তবে সন্দেহ রয়েছে যে, কালি লেপনের ঘটনাটি কি অর্থের বিনিময়ে ঘটানো হয়েছিল?
এই ঘটনার বিপরীতে, একজন রিকশাচালক পানি দিয়ে রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতি থেকে কালি মুছে দিচ্ছেন। তিনি বলেন, হতে পারে তিনি বিদ্বান। আর বিপরীতে আরেকজন কবিকে সম্মান দেখাচ্ছেন, যিনি সমাজে নিম্নবিত্তের, স্বল্প জ্ঞানী। এই দুই ব্যক্তি বুঝিয়ে দিয়েছেন, আমরা কোন সংস্কৃতির অংশ হতে চাই। যারা কালি দিচ্ছে, তারা বলতে চায়, বিশ্বকবি বাংলাদেশের কেউ নন। এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে যে, এটি কি সংস্কৃতিকে খণ্ডিত করার অপচেষ্টা নয়?
বারবার কেন রবীন্দ্রনাথই আক্রান্ত হন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে দেখা যায়, এই ঘটনা শুধু আজকের নয়, সেই পাকিস্তান আমল থেকেই রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো প্রচলিত ছিল। আলোচিত ঘটনায় পুলিশ আইনিভাবে সঠিক কাজ করেছে, তবে প্রশ্ন হলো, রাষ্ট্র কি সংস্কৃতিকে পাহারা দিতে চায় পুলিশ দিয়ে? অথচ সংস্কৃতি নিজেই নিজেকে রক্ষা করার কথা, সাধারণেরই সংস্কৃতিকে আগলে রাখার কথা। অপতথ্য ছড়ানো বন্ধ করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। পাঠ্যবইসহ নানা সূত্রে সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে রাষ্ট্রকেই। পুলিশ দিয়ে নয়, ইতিহাস ও সংস্কৃতি রক্ষা করতে হবে শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে।
"আমরা কোন সংস্কৃতির অংশ হতে চাই। যারা কালি দিচ্ছে, তারা বলতে চায়, বিশ্বকবি বাংলাদেশের কেউ নন। এটা কি সংস্কৃতিকে খণ্ডিত করার অপচেষ্টা নয়?"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সেগুনবাগিচা, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যজিৎ রায়, পুলিশ, রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের ব্যক্তি, রিকশাচালক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ অক্টোবর, ১০ জন প্রতিকৃতি, ১০ অক্টোবর, ৩২ নম্বর (ধানমন্ডি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!