📌 স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামের জে এম সেন হলের ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন। তিনি পূজার আয়োজক কমিটিকে ২০ লাখ টাকা দান করেন এবং দেশের একত্ব ও ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে ভাষণ দেন
স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী যাত্রা মোহন সেন হলের (জে এম সেন হল) দুর্গাপূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার রাত সোয়া আটটার দিকে তিনি দলীয় নেতা-কর্মী ও মন্ত্রীদের নিয়ে মণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি আয়োজক কমিটির হাতে ২০ লাখ টাকার চেক উপহার দেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামের জে এম সেন হলের দুর্গাপূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন
- 📌 প্রধানমন্ত্রী ২০ লাখ টাকা দান করেন পূজার আয়োজক কমিটিকে
- 📌 প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই দেশ আপনার, এই দেশ আমার, এই দেশ আমাদের সকলের’
- 📌 তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের যুদ্ধে ধর্মের পরিচয় ছাড়াই সবাই একত্রে লড়াই করেছিল’
- 📌 প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনার সহযোগিতা ছাড়া সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না’
📰 বিস্তারিত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে সামরিক বিমানযোগে রাজশাহী থেকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। তার সঙ্গে ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন প্রমুখ।
চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নিখিল কুমার নাথ প্রথম আলোকে জানান, স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো কোনো সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জে এম সেন হলে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৯৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া চট্টগ্রামের জে এম সেন হলে জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনুষ্ঠানে বলেন, ‘আজ দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি এটুকু বলার জন্য—এই দেশ আপনার, এই দেশ আমার, এই দেশ আমাদের সকলের। আমরা যেই ধর্মের হই না কেন, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশি।’
তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘যুদ্ধের সময় ধর্মের পরিচয় ছাড়াই সবাই একত্রে লড়াই করেছিল। সে সময় কেউ দেখেননি, গুলি খাওয়া মানুষটি মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিষ্টান।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে স্বৈরাচারকে বিদায় দেওয়ার সময়ও ধর্মের পরিচয় জিজ্ঞাসা করা হয়নি।’
"মুসলমান হিসেবে বাংলাদেশে যদি সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু এই শব্দ দিয়ে কাউকে যাচাই-বাছাই করতে হয়, তাহলে হয়তো আমি এখানে সংখ্যাগুরু। কিন্তু আমি যখন লন্ডনে ছিলাম, আমি কি সংখ্যাগুরু ছিলাম? সেই দেশে অন্য ধর্মের মানুষ বেশি। আমি তো ওখানে সংখ্যালঘু ছিলাম। কাজেই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু কোনো বিষয় নয়। বিষয় একটাই—আপনি বাংলাদেশি।"
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই দেশের আইন আমার জন্য যেভাবে প্রযোজ্য, এই দেশের আইন আপনার জন্যও প্রযোজ্য। আমাদের একমাত্র পরিচয় বাংলাদেশের নাগরিক।’ তিনি সবার সহযোগিতা চেয়ে বলেন, ‘আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন, খ্রিষ্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ, আপনার সহযোগিতা ছাড়া সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রামের জে এম সেন হল (যাত্রা মোহন সেন হল)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, নিখিল কুমার নাথ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ লাখ টাকা, ৭টা ৪০ মিনিট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!