📌 রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কৃষি খাত লাভজনক না হওয়ায় শ্রমিক ও কৃষকরা মাঠ ত্যাগ করছে। তিনি কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তি প্রসার ও কৃষি বিজ্ঞানীদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) পরিদর্শনকালে বলেছেন, কৃষি খাত লাভজনক না হওয়ায় শ্রমিক ও কৃষকরা মাঠ ত্যাগ করছেন। তিনি কৃষিপণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **রাষ্ট্রপতি**: "কৃষি এখন লাভজনক খাত নয়, তাই শ্রমিক ও কৃষক মাঠ ত্যাগ করছে"
- 📌 **উত্তরাঞ্চলে উৎপাদিত আলু**: কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পায় না, পরে ঢাকায় দাম ৫-৬ গুণ বেড়ে যায়
- 📌 **বেসরকারি খাতের আহ্বান**: দীর্ঘমেয়াদি কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণে বেসরকারিকে সম্পৃক্ত করার দাবি
- 📌 **রাসায়নিক সার**: অতিমাত্রায় ব্যবহার মাটি ও ফসলের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত করছে
- 📌 **বিজ্ঞানীদের সুযোগ-সুবিধা**: পেনশন বিধিমালা পরিবর্তনের আহ্বান
- 📌 **শহীদ জিয়াউর রহমানের স্মরণ**: কৃষি উন্নয়নে তার অবদান উল্লেখ
- 📌 **মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা**: গণতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের স্মরণ
📰 বিস্তারিত
বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কৃষি খাতের বর্তমান অবস্থা নিয়ে সমালোচনামূলক বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, কৃষিকাজ করে পর্যাপ্ত আয় না হওয়ায় শ্রমিক ও কৃষকরা এ পেশা ছেড়ে যাচ্ছেন। এ কারণে মাঠে কাজ করার জন্য কৃষক পাওয়া যায় না।
রাষ্ট্রপতি কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হওয়ার বিষয়টি উদাহরণ দিয়ে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, উত্তরাঞ্চলে প্রচুর আলু উৎপাদিত হলেও কৃষকরা ন্যায্যমূল্য না পেয়ে অনেক সময় তা রাস্তায় ফেলে দিতে বাধ্য হন। অথচ পরবর্তীতে বীজ আলু বা ঢাকায় পৌঁছানোর পর সেই আলুর দাম পাঁচ থেকে ছয় গুণ বেড়ে যায়। এই সংকট সমাধানে তিনি বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করে সবজি ও ফলমূল সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের তাগিদ দেন।
স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে পেঁয়াজ উৎপাদনে গবেষকদের সাফল্যের প্রশংসা করলেও তিনি রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে মাটির ক্ষতি ও ফসলের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষিপ্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ দেন।
বিজ্ঞানীদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিজ্ঞানীরা যথাযথ সুযোগ-সুবিধা না পেলে মেধাবী শিক্ষার্থীদের কৃষি পেশায় আকৃষ্ট করা কঠিন হবে। তিনি বিজ্ঞানীদের পেনশন-সংক্রান্ত বিধিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে উপস্থিত কৃষিমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কৃষি উন্নয়নে অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, কৃষিবিদ ও কৃষি বিজ্ঞানীদের পাশাপাশি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং সাম্প্রতিক ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং আহতদের সুস্থতা কামনা করেন।
"কৃষি এখন আর লাভজনক কোনো খাত নয়। কৃষিকাজ করে পর্যাপ্ত আয় না হওয়ায় শ্রমিকরা এ পেশা ছেড়ে যাচ্ছেন। এ কারণে এখন মাঠে কাজ করার জন্য কৃষক পাওয়া যায় না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি), ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ অক্টোবর, ১০:০০ টা, ৬ গুণ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!