📌 গ্যাস ও কয়লা সংকটের পাশাপাশি কারিগরি ত্রুটির কারণে দেশের ৬২টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। গতকাল সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৬৬৪ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। ঢাকায় দৈনিক এক ঘণ্টার লোডশেডিং পরিকল্পনা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে
দেশে চলমান জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাস, কয়লা ও তরল জ্বালানির সরবরাহ ঘাটতির পাশাপাশি দুটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটির কারণে উৎপাদন আরও কমে গেছে। ফলে গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের ৬২টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। যার মধ্যে ২০টি কেন্দ্রে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ ছিল। বাকিগুলো সীমিত ক্ষমতায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দেশে মোট বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা ১৩৭টি, যার মধ্যে সরকারি ৬৪টি, বেসরকারি ৭০টি ও যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ৩টি কেন্দ্র রয়েছে
- 📌 গতকাল সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে ৩ হাজার ৬৬৪ মেগাওয়াট, যা চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি
- 📌 ঢাকায় দৈনিক এক ঘণ্টার লোডশেডিং পরিকল্পনা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা
- 📌 বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ হয়েছে মাত্র ১৩ হাজার ২৮২ মেগাওয়াট
- 📌 গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১২ হাজার মেগাওয়াট হলেও উৎপাদন হয়েছে মাত্র ৫ হাজার মেগাওয়াট
📰 বিস্তারিত
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ লিমিটেডের (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গতকাল দেশের ৬২টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এর মধ্যে ২০টি কেন্দ্রে পুরোপুরি উৎপাদন বন্ধ ছিল। বাকিগুলো সীমিত ক্ষমতায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে। ফলে গতকাল সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে ৩ হাজার ৬৬৪ মেগাওয়াট। দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ হয়েছে মাত্র ১৩ হাজার ২৮২ মেগাওয়াট।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে ১২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। তবে গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন হয়েছে মাত্র ৫ হাজার মেগাওয়াট। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতেও উৎপাদন কমেছে। পটুয়াখালীর পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি করে ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। এছাড়া বড়পুকুরিয়া কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিটেও কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছে।
ঢাকায় বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান ডিপিডিসি ও ডেসকোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাত ১১টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ২৫০ মেগাওয়াট, সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২০০ মেগাওয়াট ও দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ২০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে বিদ্যুতের সরবরাহ বুঝে এর ব্যত্যয় ঘটছে।
"প্রতিদিন একাধিক বার লোডশেডিং হচ্ছে। গতকালও সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দুবার লোডশেডিং হয়েছে। জেনারেটর নষ্ট হয়ে গেছে। লিফটে আটকে পড়ার ভীতি কাজ করে। বাসায় গ্যাসও থাকে না। তাই বাড়তি খরচ করে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।"
পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, দুটি বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি করে ইউনিটে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেও পুরো সক্ষমতায় বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। গ্যাসের সরবরাহ বাড়ছে না। আবার তেলচালিত কেন্দ্র থেকে সব সময় উৎপাদন করা যায় না। ফলে বিদ্যুৎ ঘাটতি আরও বেড়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 ব্যক্তি: জালোওয়াশান আখতার খান, মো. জহুরুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬২টি কেন্দ্র, ৩ হাজার ৬৬৪ মেগাওয়াট লোডশেডিং
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!