📌 পটুয়াখালী গলাচিপা উপজেলায় বিএনপি নেতা রেনু আক্তারের ভাই শাহিন হাওলাদার ও সহযোগীরা বন বিভাগের ৭৫ হেক্টর ম্যানগ্রোভ বন ধ্বংস করে তরমুজখেত তৈরি করছেন। বন কর্মকর্তা জিডি করেছেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আলোচনা চলছে
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় বিএনপি নেতা রেনু আক্তারের ভাই শাহিন হাওলাদার (৪২) ও তাঁর সহযোগীরা বন বিভাগের ম্যানগ্রোভ বন ধ্বংস করে জমি দখল ও তরমুজখেত তৈরি করছেন। বন বিভাগের কর্মকর্তারা এই অভিযোগে জিডি করেছেন এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গলাচিপা উপজেলার দক্ষিণ চরবিশ্বাস এলাকায় ২০১৫-১৬ সালে বন বিভাগ ৭৫ হেক্টর জমিতে ম্যানগ্রোভ বনায়ন করেছে, যা শাহিন হাওলাদার ও সহযোগীরা ধ্বংস করছেন
- 📌 অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ১০ লাখ টাকার মূল্যের ৪০০-৫০০ গাছ কেটে ফেলেছেন এবং ২০০ একর জমিতে মাটি কেটে বাঁধ তৈরি করছেন
- 📌 বন কর্মকর্তা আবদুর বারীক ও তাঁর দল বাধা দিলে শাহিন হাওলাদার তাদের লাঞ্ছিত করেন এবং ঘটনাস্থল থেকে তাড়িয়ে দেন
- 📌 অভিযুক্তদের ফোনে আটবার কল করা হলেও পাঁচবার ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং তিনবার রিং হলেও তারা ফোন ধরেননি
- 📌 বিএনপি নেতা রেনু আক্তার জানান, তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং বিষয়টি তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে আলোচনার পরামর্শ দেন
📰 বিস্তারিত
গলাচিপা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রেনু আক্তারের ছোট ভাই শাহিন হাওলাদার (৪২) ও তাঁর সহযোগী মো. ফারুক (৫৫), আজাদ তালুকদার (৫০) ও আবদুর রহিম গত শুক্রবার বিকেলে দক্ষিণ চরবিশ্বাস ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ চরবিশ্বাস এলাকায় বন বিভাগের ম্যানগ্রোভ বনায়ন ধ্বংস করছেন। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ওই এলাকায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৭৫ হেক্টর জমিতে ম্যানগ্রোভ বনায়ন করা হয়েছিল। শাহিন হাওলাদার ও তাঁর সহযোগীরা ১০ লাখ টাকার মূল্যের ৪০০ থেকে ৫০০ গাছ কেটে ফেলেছেন এবং প্রায় ২০০ একর জমিতে মাটি কেটে বাঁধ তৈরির কাজ শুরু করেছেন। বন কর্মকর্তা আবদুর বারীক জানান, শাহিন হাওলাদার ও তাঁর লোকজন বনের কেওড়া, শৈলা, গেওয়া ও বাইনগাছ উপড়ে ফেলেছেন, যার বয়স ১০ থেকে ১১ বছর।
বন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নিষেধাজ্ঞা জারি করলে শাহিন হাওলাদার তাদের লাঞ্ছিত করেন এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাড়িয়ে দেন। বন বিভাগের কর্মকর্তা আবদুর বারীক প্রথম আলোকে বলেন, “তাঁরা বনের গাছ উপড়ে ফেলেছেন এবং মাটি কেটে বাঁধ তৈরির কাজ অব্যাহত রেখেছেন। আমরা বাধা দিলে তারা আমাদের লাঞ্ছিত করেছেন এবং ঘটনাস্থল থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন।”
অভিযোগের বিষয়ে শাহিন হাওলাদারের মুঠোফোনে আটবার কল করা হলেও পাঁচবার ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং তিনবার রিং হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এছাড়াও, স্থানীয় ব্যক্তিদের মুঠোফোনে ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, শাহিন হাওলাদার ওই জমি নিজের বলে দাবি করছেন এবং বন কর্মকর্তাদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করছেন।
বিএনপি নেতা রেনু আক্তার জানান, তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং বন বিভাগের গাছ কেটে তরমুজখেত করার বিষয়টি তিনি জানেন না। তিনি তাঁর ভাই শাহিন হাওলাদারের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। গলাচিপা উপজেলা বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা নয়ন মিস্ত্রী বলেন, “দক্ষিণ চরবিশ্বাস এলাকায় আমাদের বনায়ন রয়েছে, কিন্তু স্থানীয় শাহিন হাওলাদার সেই বনায়ন ধ্বংস করে তরমুজখেত করছেন। এ বিষয়ে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করা হয়েছে। এখন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
"তাঁরা বনের গাছ উপড়ে ফেলেছেন এবং মাটি কেটে বাঁধ তৈরির কাজ অব্যাহত রেখেছেন। আমরা বাধা দিলে তারা আমাদের লাঞ্ছিত করেছেন এবং ঘটনাস্থল থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দক্ষিণ চরবিশ্বাস ইউনিয়ন, গলাচিপা উপজেলা, পটুয়াখালী
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: শাহিন হাওলাদার (৪২), রেনু আক্তার, আবদুর বারীক (বন কর্মকর্তা), নয়ন মিস্ত্রী (রেঞ্জ কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৫ হেক্টর বনায়ন জমি, ৪০০-৫০০ গাছ কেটে ফেলা, ১০ লাখ টাকা মূল্যের গাছ, ২০০ একর জমিতে বাঁধ তৈরির কাজ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!