📌 পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় সংরক্ষিত বনভূমিতে ৫০০ ঝাউগাছ উপড়ে ফেলা ও তরমুজখেত করার অভিযোগে বন বিভাগ জিডি করেছে। অভিযুক্তরা জমি বন্দোবস্তের দাবি করলেও বন বিভাগ জমিটি নিজেদের বলে দাবি করছে।
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সংরক্ষিত বনভূমিতে অপরাধীভাবে ঝাউগাছ কাটা ও তরমুজখেত করার অভিযোগে বন বিভাগ রাঙ্গাবালী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। অভিযুক্তরা ১০ হেক্টর জমিতে ৪০০ থেকে ৫০০ ঝাউগাছ উপড়ে ফেলে মাটি কেটে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৫০০ ঝাউগাছ উপড়ে ফেলা ও ১০ হেক্টর জমিতে তরমুজখেত করার অভিযোগে জিডি
- 📌 অভিযুক্তরা দাবি করছেন, উপজেলা প্রশাসন থেকে জমি বন্দোবস্ত পেয়েছেন
- 📌 ২০২২ সালে বন বিভাগ ৩০ হেক্টর জমিতে ঝাউগাছ রোপণ করেছিল
- 📌 ২০২৫ সালের নভেম্বরেও অভিযুক্তরা ২৫ হাজার ঝাউগাছ ধ্বংস করেছিল
- 📌 বন বিভাগ বন্দোবস্ত বাতিলের জন্য জেলা প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছে
📰 বিস্তারিত
পটুয়াখালী বন বিভাগের জেলা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাঙ্গাবালী উপজেলার কাউখালী চরসাইনবোর্ড এলাকায় সংরক্ষিত বনভূমিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রবেশ করে খননযন্ত্র দিয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ ঝাউগাছ উপড়ে ফেলেন। এরপর তারা মাটি কেটে বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং জমির চারপাশে সীমানাপ্রাচীর তৈরি করে তরমুজখেত করার প্রস্তুতি নেন। বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তদের বাধা দিলেও তারা মাটি কাটা অব্যাহত রাখেন। পরে রাঙ্গাবালী থানায় তাদের বিরুদ্ধে জিডি করা হয়।
কাউখালী বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জালাল আহমেদ খান জানান, ২০২২ সালে বন বিভাগ ৩০ হেক্টর জমিতে ঝাউগাছ রোপণ করেছিল। গত শনিবার বিকেলে অভিযুক্তরা ওই বনে প্রবেশ করে খননযন্ত্র দিয়ে ঝাউগাছ উপড়ে ফেলেন। এরপর মাটি কেটে বেড়িবাঁধ তৈরি করে তরমুজখেত করার প্রস্তুতি নেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তদের বাধা দেওয়া হলেও তারা মাটি কাটা অব্যাহত রাখেন।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন আরিফ মীর, মানিক মোল্লা, সাব্বির মীরসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন ব্যক্তি। তারা দাবি করেন, উপজেলা প্রশাসন থেকে জমি বন্দোবস্ত পেয়েছেন। বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর অভিযুক্তরা ২৫ হাজার ঝাউগাছ নষ্ট করে মাটি কেটে বেড়িবাঁধ করেছিলেন। এ ঘটনায় বন বিভাগ অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আসামি করে রাঙ্গাবালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছে। মামলাটি এখনো চলমান।
বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান জানান, উপজেলা প্রশাসন যে বনভূমি বন্দোবস্ত দিয়েছে, সেটি মূলত সংরক্ষিত বনাঞ্চল। তিনি বলেন, বন্দোবস্ত বাতিলের জন্য জেলা প্রশাসনকে গত ৩ আগস্ট ও ১৫ অক্টোবর চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে জেলা প্রশাসন থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
"বন বিভাগ যে জমিকে বনভূমি দাবি করছে, সেটি আমরা উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে বন্দোবস্ত নিয়ে বৈধভাবে মাটি কেটে তরমুজখেত করছি। বন বিভাগ অহেতুক আমাদের সঙ্গে ঝামেলা করছে"
— অভিযুক্ত আরিফ মীর
রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, বন বিভাগ, ভূমি অফিসের কর্মকর্তা এবং বনাঞ্চল ধ্বংসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দাবির স্বপক্ষে থাকা কাগজপত্র নিয়ে কার্যালয়ে আসতে বলেছেন। কাগজপত্র যাচাই করে জমিটি বন বিভাগের হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাঙ্গাবালী উপজেলা, পটুয়াখালী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জালাল আহমেদ খান, জাহিদুর রহমান, নাজমুল হাসান, আরিফ মীর, মানিক মোল্লা, সাব্বির মীর
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০০ ঝাউগাছ, ১০ হেক্টর জমি, ৩০ হেক্টর বনাঞ্চল, ২৫ হাজার ঝাউগাছ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!