📌 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্র সবার, ধর্ম আলাদা হতে পারে। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থানের উদাহরণ দিয়ে ধর্মীয় পরিচয় ছাড়াই জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন
রাষ্ট্রের একত্বে ধর্মীয় বৈচিত্র্যের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শনকালে তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্র সবার, ধর্ম আলাদা হতে পারে। তিনি মুক্তিযুদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসের মাধ্যমে ধর্মীয় পরিচয় ছাড়াই জাতীয় ঐক্যের প্রমাণ দিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘ধর্ম আলাদা হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্র সবার’ — বাংলাদেশের রাষ্ট্র সবার, ধর্মীয় পরিচয় আলাদা হতে পারে
- 📌 তিনি বলেছেন, ‘এই দেশ আপনার, এই দেশ আমার’ — সবার দায়িত্ব একসাথে দেশ গড়ে তোলা
- 📌 ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ধর্মীয় পরিচয় জিজ্ঞাসা করা হয়নি — সবাই একসাথে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন
- 📌 ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছিলেন — শহিদদের মধ্যে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ছিলেন
- 📌 প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা সকলেই বাংলাদেশি’ — জাতীয় পরিচয়কে ধর্মীয় পরিচয়ের উপরে রাখতে হবে
📰 বিস্তারিত
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘ধর্মটা হতেই পারে আমার একটি ধর্ম, আপনার একটি ধর্ম। কিন্তু রাষ্ট্রটা আমাদের সকলের। বাংলাদেশ নামক যে রাষ্ট্র, এই রাষ্ট্রটি আমাদের সকলের।’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘এই দেশে আপনার যেমন অধিকার আছে, আমারও অধিকার আছে। এই দেশের প্রতি আপনার যেমন কর্তব্য আছে, আমারও এই দেশের প্রতি কর্তব্য আছে। আসুন, আমরা সকলে মিলে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশটিকে গড়ি।’
রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও নাগরিকদের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেছেন, ‘রাষ্ট্রের দায়িত্ব নাগরিকদের নিরাপত্তা দেওয়া। রাষ্ট্র যেমন একজন নাগরিককে নিরাপত্তা দেবে, তেমনি অন্য নাগরিককেও নিরাপত্তা দিতে হবে। সবার দায়িত্ব একে অপরের পাশে থাকা এবং সম্মিলিতভাবে দেশের অগ্রগতিতে কাজ করা।’
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘স্বাধীনতার জন্য দেশের মানুষ যখন যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, তখন কেউ কারও ধর্মীয় পরিচয় জানতে চায়নি। যুদ্ধের মাঠে কিন্তু আমরা কেউ দেখিনি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ, কে খ্রিস্টান। যুদ্ধের মাঠে কিন্তু এটা আমরা দেখিনি, কখনো জিজ্ঞেসও করিনি।’
গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ‘বিভিন্ন সময়ে মানুষ যখন রাজনৈতিক অধিকার ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাজপথে নেমেছে, তখনও আন্দোলনকারীরা একে অপরের ধর্মীয় পরিচয় জানতে চাননি। সবাই মানুষের কথা বলার অধিকার ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সোচ্চার হয়েছেন।’
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেছেন, সেই আন্দোলনে হাজার হাজার, লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। তখনও কেউ কাউকে জিজ্ঞেস করেননি, তিনি কোন ধর্মের মানুষ। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, ওই আন্দোলনে সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। যারা শহিদ হয়েছেন, তাদের মধ্যে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষ রয়েছেন।
"আমরা সকলেই এই দেশের সন্তান, এই দেশের মানুষ, বাংলাদেশি। আমরা প্রত্যেকে মানুষ। এটি হচ্ছে আমাদের আগের পরিচয়। এখানে উপস্থিত আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশি। আসুন, আমরা আমাদেরকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করি। একজন আরেকজনকে আমরা চিনি, জানি এই দেশের নাগরিক, বাংলাদেশি হিসেবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, কেএম নাজমুল হক (প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯ অক্টোবর, ৫ আগস্ট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!