📌 সাঈদীর মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর লাশ দাফনে জামায়াত নেতাদের বাধার মুখে পড়ায় পিরোজপুরে গার্ড অব অনার ও দাফনের ব্যবস্থা গোপনে করা হয়। মুক্তিযোদ্ধার পরিবার নিরাপত্তা ও দাফনের দায়িত্বের অভাব প্রকাশ করে
পিরোজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তার লাশের গার্ড অব অনার ও দাফনে জামায়াত নেতাদের বাধার মুখে পড়ায় প্রশাসন গোপনে ব্যবস্থা নেয়। সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় বাদী ছিলেন মানিক পশারী। তার মৃত্যুর পর পরিবারকে নিরাপত্তা ও দাফনের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেয়নি প্রশাসন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মানিক পশারীর মৃত্যুর পর জামায়াত নেতারা গার্ড অব অনার ও দাফনে বাধা দেন, পুলিশ গোপনে ব্যবস্থা নেয়
- 📌 ৮৭ বছর বয়সী মুক্তিযোদ্ধা গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মৃত্যুবরণ করেন, লাশ পিরোজপুরে নিয়ে আসার সময় জামায়াত নেতাদের বাধা
- 📌 ৪ ঘণ্টা অপেক্ষার পর গোপনে পুলিশ লাইনসে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়, পরিবারকে দাফনের দায়িত্বের অভাব প্রকাশ করে
- 📌 জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘মানিক পশারী একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা, তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে না’
- 📌 পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে, পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা চলছে
📰 বিস্তারিত
সাঈদীর মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তার পরিবারকে নিরাপত্তা ও দাফনের বিষয়ে প্রশাসনের কোনো নির্দেশনা দেয়নি। শনিবার সকাল ১০টায় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মৃত্যুবরণ করেন মানিক পশারী। তার লাশ দুপুর ১২টায় পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে নিয়ে আসা হয়। সেখানে জামায়াত নেতাদের বাধার মুখে পড়েন পরিবার। পরে বিকেল ৫টায় গোপনে পুলিশ লাইনসে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
মানিক পশারী (৮৭) পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি একজন গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। গত দুই মাস ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তার মেয়ে জামাই ফারুক হোসেন বলেন, ‘সকাল ১০টায় তিনি মারা যান। ১২টায় আমরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গেলাম। তিনি গার্ড অব অনারের কথা বললেন, কিন্তু বিকেল ৫টার পর পর্যন্ত আমাদের দাঁড় করিয়ে রাখলেন। কোনো সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বরফ ছাড়া রাখার পর গোপনে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। ইউএনও দাফনের দায়িত্ব নেননি।’
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘মানিক পশারী একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা। তাঁকে কোনোভাবেই গার্ড অব অনার দেওয়া হবে না। পিরোজপুরের মাটিতে তাঁর লাশ দাফন দিতে দেওয়া হবে না।’ পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম জানান, ‘মানিক পশারীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’ পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীম বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মানিক পশারীর লাশ গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে।’
"সকাল ১০টায় উনি মারা গেছেন। ১২টায় আমরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আসলে উনি আমাদের গার্ড অব অনারের কথা বলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দাঁড় করিয়ে রাখেন।" — ফারুক হোসেন, মানিক পশারীর মেয়ে জামাই
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পিরোজপুর সদর উপজেলা, শংকরপাশা ইউনিয়ন (চিতলিয়া গ্রাম), গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মানিক পশারী, ফারুক হোসেন, মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, আব্দুর রাজ্জাক, মো. শরিফুল ইসলাম (ওসি), মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮৭ (বয়স), ৪ (ঘণ্টা অপেক্ষা), ১০ (মৃত্যু সময়), ১২ (লাশ আনা সময়), ৫ (টা বিকেলে গার্ড অব অনার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!