📌 সাংসদীয় কমিটি নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই পরিকল্পনা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে জোর দিয়েছে। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার ৪১ শতাংশ এলাকা পানিসংকটে ভুগছে, যেখানে ১৫৩টি ইউনিয়নের ৩ হাজার ৫৯৩টি মৌজা সংকটাপন্ন। কমিটি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও পাউবোর কার্যক্রম পর্যালোচনা করে সুপারিশ করেছে।
সাংসদীয় কমিটি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই নদী ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। বুধবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত বৈঠকে নদীশাসনে আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণালব্ধ অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পাশাপাশি পলি ব্যবস্থাপনা ও নাব্যতা রক্ষায় সমন্বিত কৌশল গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা (ওয়ারপো)র কার্যক্রম পর্যালোচনা করে কমিটি সুপারিশ করেছে যে, স্বল্পমেয়াদি ও পুনরাবৃত্তিমূলক ব্যয়ের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৪১ শতাংশ এলাকা পানিসংকটে**: রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার ১৫৩টি ইউনিয়নের ৩ হাজার ৫৯৩টি মৌজা পানিসংকটাপন্ন,其中 ৪৭টি ইউনিয়নের ১ হাজার ৪৬৯টি মৌজা ‘অতি উচ্চ’ ও ৪০টি ইউনিয়নের ৮৮৪টি মৌজা ‘উচ্চ’ সংকটে রয়েছে।
- 📌 **পাউবোর ৫ হাজার+ অডিট আপত্তি দ্রুত নিষ্পত্তি**: কমিটি পাউবোর দীর্ঘদিনের অডিট আপত্তি দ্রুত সমাধান ও প্রকল্প বাস্তবায়নে বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে।
- 📌 **সমন্বিত নীতিমালা প্রয়োজন**: নদী-খাল-জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি একত্রিতভাবে বাস্তবায়নের জন্য সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়।
- 📌 **ভূগর্ভস্থ পানি চাপ কমাতে পদক্ষেপ**: সংকটপূর্ণ এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপন কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।
- 📌 **চীন ও নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞতা নেওয়ার পরামর্শ**: স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার জন্য চীন ও নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুপারিশ করা হয়।
📰 বিস্তারিত
বুধবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির বৈঠকে নদী ব্যবস্থাপনার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন সংস্থাগুলোর চলমান কার্যক্রম, সমস্যা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হয়। কমিটি নদী-খাল-জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচিকে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার আওতায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে।
ওয়ারপোর সমীক্ষা অনুযায়ী, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার উত্তর-পশ্চিম হাইড্রোলজিক্যাল অঞ্চলের ৪১ শতাংশ এলাকা পানিসংকটে ভুগছে। এই তিন জেলার মোট ১৫৩টি ইউনিয়নের ৩ হাজার ৫৯৩টি মৌজা পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে ৪৭টি ইউনিয়নের ১ হাজার ৪৬৯টি মৌজা ‘অতি উচ্চ’ ও ৪০টি ইউনিয়নের ৮৮৪টি মৌজা ‘উচ্চ’ পানিসংকটের মুখে রয়েছে। বাকি ৬৬টি ইউনিয়নের ১ হাজার ২৪০টি মৌজায় ‘মধ্যম’ পানিসংকট দেখা দিয়েছে।
কমিটি ঢাকার চারপাশের বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীর পানি দূষণ ও ‘ওয়াটার কোয়ালিটি ইনডেক্স’ পরীক্ষার ফলাফলও তুলে ধরেছে। ওয়ারপো আধুনিক প্রযুক্তি ও ল্যাবরেটরি সরঞ্জাম ব্যবহার করে নিয়মিত পানির গুণগত মান পরীক্ষা চালাচ্ছে। কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, আখতারুজ্জামান মিয়া, তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া এবং মোহাম্মদ কামাল হোসেন।
কমিটি পাউবোর দীর্ঘদিনের ৫ হাজারাধিক অডিট আপত্তি দ্রুত নিষ্পত্তি, প্রকল্প বাস্তবায়নে বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে। কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, বর্তমান বরাদ্দের সাথে টেকসই কাজ করার উপায় খুঁজতে হবে। একই কাজ প্রতিবছর না করতে হয়। চীন ও নেদারল্যান্ডসের স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের অভিজ্ঞতা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
"বরাদ্দের সাথে টেকসই কাজ করার উপায় খুঁজতে হবে। একই কাজ প্রতিবছর না করতে হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, ঢাকা, বাংলাদেশ, চীন, নেদারল্যান্ডস
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নূরুল ইসলাম মনির (সভাপতি), পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় কর্মকর্তা, ওয়ারপো কর্মকর্তা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪১ শতাংশ (পানিসংকট), ১৫৩টি ইউনিয়ন, ৩ হাজার ৫৯৩টি মৌজা, ১ হাজার ৪৬৯টি মৌজা (অতি উচ্চ সংকট), ৮৮৪টি মৌজা (উচ্চ সংকট), ৫ হাজার+ অডিট আপত্তি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!