📌 জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে নতুন ছয়টি বিল উত্থাপন ও সাংসদীয় কমিটি গঠনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। সম্পত্তি হস্তান্তর, গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার সুরক্ষাসহ গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে
জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে নতুন ছয়টি বিল উত্থাপন ও সাংসদীয় কমিটি গঠনের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি জানান, বিরোধী দলের সদস্যদের নাম জমা দেওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো চূড়ান্ত করা হবে। অধিবেশনটি প্রাথমিকভাবে পাঁচ থেকে দশ দিনের মধ্যে সীমিত থাকলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় এর মেয়াদ বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আগামী অধিবেশনে নতুন ছয়টি বিল উত্থাপনের পরিকল্পনা
- 📌 সম্পত্তি হস্তান্তর, গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার সুরক্ষা সংক্রান্ত আইন অন্যতম
- 📌 সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে বাবা-মা জীবিত থাকাকালীন সম্পত্তির ভোগদখল বহাল রাখার বিধান
- 📌 বিরোধী দলকে সংসদে ফিরিয়ে আনতে সরকারের আহ্বান
- 📌 সংবিধান সংশোধনের জন্য ১৭ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠনের প্রস্তাব
📰 বিস্তারিত
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানান, আগামী বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া সংসদ অধিবেশনে নতুন ছয়টি বিল উত্থাপনের পাশাপাশি সাংসদীয় কমিটি গঠনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বিরোধী দলের সদস্যদের নাম জমা দেওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো চূড়ান্ত করা হবে। অধিবেশনটির প্রাথমিক সময়কাল পাঁচ থেকে দশ দিন নির্ধারণ করা হলেও প্রয়োজনে এর মেয়াদ বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে বলে তিনি জানান।
তৃতীয় অধিবেশনে উত্থাপিতব্য ছয়টি বিলের মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর, গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার সুরক্ষা সংক্রান্ত আইন অন্যতম। সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাবা-মা তাঁদের সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দিলেও তাঁরা জীবিত থাকাকালীন সম্পত্তির ভোগদখল ও ব্যবহারের অধিকার বজায় রাখবেন।’ এই আইনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, সম্পত্তি হস্তান্তরের পর বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের অবহেলা রোধ করাই এর প্রধান লক্ষ্য।
বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, রাজপথে আন্দোলন বা অস্থিরতা সৃষ্টির পরিবর্তে বিরোধী দলের উচিত সংসদে এসে সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরা। তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা চাই বিরোধী দল সংসদে এসে জনগণের কথা বলবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সমাধানের পথ বের করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘১৭ বছরের নির্যাতন ও আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষুণ্ন করার সুযোগ কারও তৈরি করা উচিত নয়।’
সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে তিনি জানান, ১৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই কমিটিতে বিএনপি থেকে সাতজন, জামায়াতে ইসলামী থেকে পাঁচজন এবং অন্যান্য ছোট দলগুলো থেকে একজন করে প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করার কথা রয়েছে। বিরোধী দল নাম জমা দিলে তাদের প্রতিনিধিদেরও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদে সব রাজনৈতিক দল যে অঙ্গীকার করেছে, তা বাস্তবায়নই সরকারের মূল লক্ষ্য।’
‘ভারতের সংবিধান বিগত ৭৬ বছরে ১০৬ বার সংশোধিত হওয়ার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংবিধান সংস্কার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।’
দেশের চলমান অর্থনৈতিক ও বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, ‘দীর্ঘদিনের জমে থাকা সমস্যা মাত্র ছয় মাসে পুরোপুরি সমাধান করা কোনো সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়।’ তিনি উল্লেখ করেন, একটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে অন্তত দুই বছর সময় লাগে। বিদ্যুৎ খাতে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন নীতি ও চুক্তির কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘দায়মুক্তির আইন প্রণয়ন করে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে জনগণের অর্থের ওপর বিশাল বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ বিশেষ করে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান আদানির সঙ্গে করা বিদ্যুৎ চুক্তিকে তিনি ‘গর্হিত অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতীয় সংসদ ভবন, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬টি বিল, ৫-১০ দিন অধিবেশনকাল, ১৭ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!