📌 ব্রাসেলসের শীতের কনকনে শীতল তাপমাত্রায় ফরাসি দূতাবাসে ভিসা পাওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে এক ছাত্রের অভিজ্ঞতা। ১৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের নামও ছিলো ভিসা নিষিদ্ধ তালিকায়, কিন্তু ভাগ্য ভালো হয়েছিলো। প্যারিসের রূপ দেখতে ১৫ দিনের ছুটির সুযোগে ইউরোপ ভ্রমণের স্মৃতি নিয়ে লেখা এই প্রতিবেদন।
১৫ দিনের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটির সুযোগে প্যারিসের সুন্দরী রূপ দেখতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও, ইউরোপের শীতের কনকনে ভিসা পাওয়ার জন্য ব্রাসেলসের ফরাসি দূতাবাসে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা এক ছাত্রের জীবনে নতুন এক মাইলফলক হয়ে দাঁড়ায়। সকাল আটটায় ব্রাসেলসের শীতল তাপমাত্রায় (১২–১৩ ডিগ্রি শূন্যের নিচে) ফরাসি দূতাবাসের সামনে দাঁড়িয়ে পাওয়ার পর, লাইনের দীর্ঘতা দেখে অবাক হয়ে পড়েন তিনি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৪টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম ছিলো ফরাসি দূতাবাসের ভিসা নিষিদ্ধ তালিকায়, যার মধ্যে ছিলো ভারত, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, ঘানা এবং বাংলাদেশ।
- 📌 দুই পাকিস্তানি ছাত্র-ছাত্রী ভিসা অফিসারের কাছে নোটিশ দেখিয়ে জানতে পারেন যে, তাদের দেশের নামও তালিকায় ছিলো এবং ছাত্র হিসেবে ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা ছিলো শূন্য।
- 📌 ১০০ ফ্রাঙ্ক ভিসা ফি দিতে গিয়ে ছাত্রের ভাগ্য ভালো হয়েছিলো — ভিসা অফিসার তাকে ভিসা স্টিকার দেন।
- 📌 ব্রাসেলস থেকে প্যারিসের যাত্রা শুরু হয় সকাল আটটায়, বাসে ভাড়া কম থাকায় ছাত্র বাসের টিকিট কাটেন। পথে বরফ জমে থাকা মাঠ দেখে অবাক হন তিনি।
- 📌 ছাত্রাবাসের মেয়েরা তার কাঁধে লাল ব্যাগ দেখে মনে করে যে, তিনি অন্য কোনো দেশে যাচ্ছেন।
📰 বিস্তারিত
ফরাসি ভাষার উচ্চারণ শেখার চেষ্টা করেও প্যারিসের নাম উচ্চারণ করতে পারেননি লেখক। কিন্তু প্যারিসের রূপ দেখার ইচ্ছা ছিলো অনেক দিনের। দেশে থাকাকালীন প্যারিসের বর্ণনা পড়ার পর তিনি সিদ্ধান্ত নেন, এই খ্রিষ্টীয় পব ইস্টার ছুটির সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫ দিনের ছুটির সুযোগে প্যারিস যাবেন।
তখনো ইউরোপের দেশগুলোর সীমান্ত খোলা ছিলো না। এক দেশ থেকে অন্য দেশে যেতে সীমান্তচৌকিতে ভিসা দেখাতে হতো। ফরাসি দূতাবাসের তোরণ খুলবে সকাল ৯টায়, তাই সকাল আটটায় ব্রাসেলসের ফরাসি দূতাবাসে পৌঁছান লেখক। কিন্তু দেখেন, দূতাবাসের সামনে ভিসাপ্রার্থীদের দীর্ঘ লাইন। তাপমাত্রা শূন্যের নিচে ১২–১৩ ডিগ্রি এবং তুষার ঝরছিলো। রাস্তায় বরফ জমে ছিলো।
দূতাবাসের ভেতরে ঢোকার পর দেখেন, ভিসা অফিসারের পেছনের দেয়ালে একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে ছিলো। সেখানে লেখা ছিলো, “আমরা ১৪টি দেশকে ভিসা দিই না”। তালিকায় ছিলো ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নাইজেরিয়া, ঘানা এবং অন্যান্য দেশ। লেখক ভাবেন, আমাকে ভিসা দেবেই না, কিন্তু ভাগ্য পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন।
"আমাকে ভিসা দেবেই না, চলে যাওয়াই ভালো। আবার ভাবি, এই কনকনে শীতে দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে এত দূর এসেছি, ভাগ্যটা পরখ করে দেখি।"
লেখকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দুই পাকিস্তানি তরুণ-তরুণীও নোটিশ দেখে লাইনে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু লেখক নিজের পালা এলে ভিসা অফিসারের কাছে পাসপোর্ট এগিয়ে দেন। অফিসার তার পাসপোর্টের পাতা উল্টিয়ে দেখে এবং বলেন, “দ্যোঁ ছঁ ফ্রঁ, দ্যোঁ ছঁ ফ্রঁ” অর্থাৎ ১০০ ফ্রাঙ্ক ভিসা ফি চাইছেন। লেখক টাকা দেন এবং ভিসা স্টিকার পান।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ব্রাসেলস (বেলজিয়াম), ফরাসি দূতাবাস, ব্রাসেলস আন্তর্জাতিক বাস টার্মিনাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: লেখক (ছাত্র), দুই পাকিস্তানি তরুণ-তরুণী, ফরাসি দূতাবাসের ভিসা অফিসার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ দিনের ছুটি, ৯ টা (দূতাবাসের খোলা সময়), ১২–১৩ ডিগ্রি তাপমাত্রা, ১৪টি দেশের তালিকা, ১০০ ফ্রাঙ্ক ভিসা ফি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!