📌 কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের দানবাক্সে জমা সোনা, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রার ওজন নির্ধারণ ও গণনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এই কাজ শুরু হয়েছে, যেখানে ৯টি কনটেইনার ও ৬টি সিলগালা খাম খোলা হয়েছে। সোনার ক্যারেট যাচাই ও বৈদেশিক মুদ্রা আলাদা করার পর নিলামে বিক্রি ও নগদায়নের পরিকল্পনা রয়েছে
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে জমা সোনা, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রার ওজন নির্ধারণ ও গণনার কার্যক্রম আজ সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) শুরু হয়েছে। প্রায় ছয় বছর পর এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যেখানে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে মসজিদের দানবাক্স থেকে সংরক্ষিত মূল্যবান সামগ্রী আলাদা করা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১২ অক্টোবর ২০২৬**: কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পাগলা মসজিদের দানবাক্সের ৯টি প্লাস্টিকের কনটেইনার ও ৬টি সিলগালা খাম খোলা হয়েছে।
- 📌 **সোনা ও রুপার ওজন নির্ধারণ**: জেলা জুয়েলারি সমিতির ১০ জন সদস্য সোনা ও রুপার ওজন নির্ধারণ ও ক্যারেট যাচাই করছেন।
- 📌 **বৈদেশিক মুদ্রা আলাদা**: বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আলাদা করা হবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের বিনিময় হার অনুযায়ী নগদায়ন করা হবে।
- 📌 **নিলামে বিক্রি**: সোনা ও রুপার বাজারমূল্য নির্ধারণের পর নিলামে বিক্রি করা হবে।
- 📌 **৬ বছর পর শুরু**: ২০২০ সালের ১১ মার্চের পর প্রথমবারের মতো এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
- 📌 **মোট তহবিল**: বর্তমানে মসজিদের তহবিলে মোট ১৩১ কোটি ৮৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮১০ টাকা জমা আছে।
- 📌 **সহযোগিতা**: জেলা প্রশাসনের তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, আনসার, ব্যাংক কর্মকর্তা ও স্বর্ণকারদের সহযোগিতায় কাজ চলছে।
📰 বিস্তারিত
জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আজ সকাল ১০টায় এই কার্যক্রম শুরু হয়। উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির রমজান আলী, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) জেবুন নাহার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এরশাদুল আহমেদসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এরশাদুল আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত ৯ সদস্যের উপকমিটির তত্ত্বাবধানে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
২০২০ সালের ১১ মার্চ পাগলা মসজিদের দানসিন্দুকে পাওয়া স্বর্ণালংকার ও রুপা ১ কোটি ১৫ লাখ ৪ হাজার ৯০০ টাকায় নিলামে বিক্রি করা হয়েছিল। তখন প্রায় তিন বছর ধরে জমা হওয়া ৪১৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও ১৮৪ ভরি রুপা বিক্রি করা হয়। এছাড়াও, দানসিন্দুকে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়ে এক লাখ ২৭ হাজার ৬৫১ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। সর্বশেষ ২৭ জুন ২০২৬ সালে মসজিদের দানবাক্স খোলা হয়েছিল, তখন ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা পাওয়া যায়।
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, “এই কার্যক্রমে জেলা প্রশাসনের তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, আনসার, ব্যাংক কর্মকর্তা ও স্বর্ণকারদের সহযোগিতা করছেন। জেলা জুয়েলারি সমিতির ১০ জন সদস্য সোনা ও রুপার ওজন নির্ধারণ ও পরিমাপের কাজ করছেন।” তিনি আরও জানান, পাগলা মসজিদ ও ইসলামি কমপ্লেক্সের দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহের পর অবশিষ্ট দানের টাকা ব্যাংকে জমা রাখা হয়। এছাড়াও, জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় অনুদান দেওয়া হয়। অসহায় ও জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসাসহায়তা সহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও এই অর্থ ব্যয় করা হয়।
"এই কার্যক্রমে জেলা প্রশাসনের তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, আনসার, ব্যাংক কর্মকর্তা ও স্বর্ণকারদের সহযোগিতা করছেন। জেলা জুয়েলারি সমিতির ১০ জন সদস্য সোনা ও রুপার ওজন নির্ধারণ ও পরিমাপের কাজ করছেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সম্মেলনকক্ষ, পাগলা মসজিদ (হারুয়া, কিশোরগঞ্জ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির রমজান আলী, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এরশাদুল আহমেদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯টি কনটেইনার, ৬টি সিলগালা খাম, ১০ জন জুয়েলারি সদস্য, ৯ সদস্যের উপকমিটি, ১৩১ কোটি ৮৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮১০ টাকা (মোট তহবিল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!