📌 চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে ইলিশের প্রজনন নিরাপদ রাখতে ৭ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। জেলেরা নৌকা ডাঙায় তুলে মেরামত করছেন এবং পুলিশ টাস্কফোর্স নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে
চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর ৭০ কিলোমিটার এলাকায় ইলিশের প্রজনন নিরাপদ রাখতে সরকার ২২ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে ২৯ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বজায় থাকবে। এই সময়ে নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, মজুদ ও পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর ৭০ কিলোমিটার এলাকায় ২২ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে
- 📌 ৭ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ২৯ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বজায় থাকবে
- 📌 জেলেরা নৌকা ডাঙায় তুলে মেরামত ও জাল সংস্কারের কাজ করছেন
- 📌 জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে
- 📌 নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে আইনের আওতায় আনা হবে
- 📌 ইলিশ ধরা থেকে বিরত থাকা ৪১ হাজার জেলেকে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে
📰 বিস্তারিত
নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় জেলেরা নৌকা ডাঙায় তুলে মেরামত ও সংস্কারের কাজে ব্যস্ত। তরপুরচণ্ডী ইউনিয়নের আনন্দবাজার, যমুনা রোডের টিলাবাড়ি, পুরানবাজারের রনাগোয়াল ও দোকানঘর এলাকায় অধিকাংশ জেলে নৌকা ডাঙায় তুলে রাখছেন। বহরিয়া বাজার এলাকাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। জেলেরা জাল সংস্কারের কাজে ব্যস্ত থাকছেন।
আনন্দবাজার এলাকার জেলে আবুল কালাম (৫৪) বলেন, “এবার নদীতে তেমন ইলিশ পাইনি। তাই আগেই নৌকা ডাঙায় তুলে রেখেছি। নদীতে ইলিশের অবস্থান বুঝে ২২ দিন পর আবার নৌকা নামানো হবে।” অন্যদিকে, রামদাসদী এলাকার জেলে খালেক গাজী (৫২) বলেন, “মা ইলিশ রক্ষায় সরকার প্রতিবছর অভিযান দেয়। মেঘনার সঙ্গে সংযুক্ত খালগুলোতে নৌ পুলিশ পাহারার ব্যবস্থা করা হলে অসাধু জেলেরা মা ইলিশ ধরতে পারবে না।”
হরিণা ফেরিঘাট এলাকার জেলেপাড়ার জেলে আমজাদ আলী বলেন, “নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কারা নদীতে নামে, তা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক লোকজন জানেন। এসব জেলেকে নদীতে নামা থেকে বিরত রাখতে পারলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হবে এবং ইলিশের উৎপাদনও বাড়বে।”
"মা ইলিশ রক্ষায় সরকার প্রতিবছর অভিযান দেয়। মেঘনার সঙ্গে সংযুক্ত খালগুলোতে নৌ পুলিশ পাহারার ব্যবস্থা করা হলে অসাধু জেলেরা মা ইলিশ ধরতে পারবে না।"
মৎস্য ব্যবসায়ী ইদ্রিস আলী বলেন, “নিরাপদে ইলিশ ডিম ছাড়ার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে সহযোগিতার কোনো অভাব নেই। আমরা প্রশাসন ও পুলিশকে সহযোগিতা করে আসছি। তবে চাঁদপুর ছাড়াও শরীয়তপুর ও মুন্সীগঞ্জের জেলেরা আমাদের নৌসীমানায় এসে মা ইলিশ ধরে। বাইরের জেলার জেলেরা যাতে এখানে এসে মাছ ধরতে না পারে, সে বিষয়ে আরও কঠোর হতে হবে।”
চাঁদপুর সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, “২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে একাধিকবার সমন্বয় সভা হয়েছে। মেঘনা উপকূলীয় এলাকায় জেলেদের সতর্ক করতে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যাতে কেউ মা ইলিশ শিকার না করেন।” চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফখরুর ইসলাম বলেন, “চাঁদপুরের নৌ-সীমানার অভয়াশ্রম এলাকায় ইলিশের প্রজনন নিরাপদ করতে জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবে। যারা আইন অমান্য করে নদীতে নামবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পদ্মা-মেঘনা নদী (চাঁদপুর জেলা), তরপুরচণ্ডী ইউনিয়ন, যমুনা রোড, আনন্দবাজার, বহরিয়া বাজার, রামদাসদী, হরিণা ফেরিঘাট
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবুল কালাম (৫৪), খালেক গাজী (৫২), আমজাদ আলী, ইদ্রিস আলী, মির্জা ওমর ফারুক, মো. ফখরুর ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭০ কিলোমিটার (নদীর এলাকা), ২২ দিন (নিষেধাজ্ঞা), ৪১ হাজার (জেলে), ২৫ কেজি (চাল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!