📌 পাবনার বেড়া উপজেলার প্রতিমা শিল্পীরা তাদের দক্ষতার জন্য সুনাম পেয়েছেন, কিন্তু উপকরণ ও শ্রমিকের মজুরির দাম বাড়ার কারণে আয় কমে যাচ্ছে। বাবা-ছেলে জোড়ায় প্রতিমা তৈরির কাজে নিযুক্ত শিল্পীরা জানান, খরচ বাড়লেও প্রতিমার দাম বাড়ছে না, ফলে তাদের পেশায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে
পাবনার বেড়া উপজেলার প্রতিমা শিল্পীরা তাদের শিল্পী দক্ষতার জন্য আশপাশের জেলায় সুনাম অর্জন করেছেন, কিন্তু বাড়তি খরচের কারণে তাদের আয় বাড়েনি। বাবা-ছেলে জোড়ায় প্রতিমা তৈরির কাজে নিযুক্ত শিল্পীরা জানান, উপকরণ ও শ্রমিকের মজুরির দাম বাড়ার কারণে তাদের পেশায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বেড়া উপজেলার মালদাপাড়া গ্রামের প্রতিমাশিল্পী ষষ্ঠী পাল ও তার ছেলে অমৃত পাল বাবা-ছেলে জোড়ায় ৯টি দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করছেন, যার মধ্যে চারটি বেড়া উপজেলায় এবং বাকি পাঁচটি পাবনা শহর ও সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় বানাচ্ছেন।
- 📌 প্রতিমা তৈরির কাজে দক্ষতার জন্য শিল্পীদের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে, কিন্তু উপকরণ ও শ্রমিকের মজুরির দাম বাড়ার কারণে তাদের আয় বাড়েনি।
- 📌 বেড়া উপজেলায় ১৫ জন সুপরিচিত প্রতিমাশিল্পী রয়েছেন, যাদের সহযোগী হিসেবে আরও ২০ থেকে ২৫ জন কাজ করেন।
- 📌 প্রতিমা তৈরির খরচে বাঁশ, খড়, রং, গয়না, চুলসহ সবকিছুর দাম বেড়েছে।
- 📌 ৫৫ হাজার টাকায় তৈরি করা প্রতিমায় বাবা-ছেলের ১২ থেকে ১৫ দিনের শ্রমের মূল্য ধরা হয়নি।
📰 বিস্তারিত
বেড়া উপজেলার মালদাপাড়া গ্রামের প্রতিমাশিল্পী ষষ্ঠী পাল ও তার ছেলে অমৃত পাল বাবা-ছেলে জোড়ায় প্রতিমা তৈরির কাজে নিযুক্ত। ছোটবেলা থেকেই বাবার কাছ থেকে প্রতিমা তৈরির কাজ শিখেছেন অমৃত। এবার তারা ৯টি দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করছেন, যার মধ্যে চারটি বেড়া উপজেলায় এবং বাকি পাঁচটি পাবনা শহর ও সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় বানাচ্ছেন।
বেড়া বাজার কালীমন্দিরের জন্য একটি প্রতিমা তৈরি করতে ১২ থেকে ১৫ দিন সময় লাগছে। প্রতিমা তৈরির খরচে বাঁশ, খড় ও মাটিতে ১০ হাজার, রঙে ৫ হাজার, অন্যান্য উপকরণে ৫ হাজার, শ্রমিকের মজুরিতে ২০ হাজার এবং পরিবহনে ৩ হাজার টাকা খরচ হয়। মোট খরচ ৪৩ হাজার টাকা। তবে প্রতিমা বিক্রি করে ৫৫ হাজার টাকা পাওয়ার পরও বাবা-ছেলের শ্রমের মূল্য ধরা হয়নি।
প্রতিমাশিল্পী ধনু পাল (৬৬) বলেন, ‘প্রতিমা তৈরি আমার নেশা। কিন্তু খরচ যেভাবে বাড়ছে, প্রতিমার দাম সেভাবে না বাড়লে এ পেশায় টিকে থাকা কঠিন।’ তিনি আরও বলেন, প্রতিমা তৈরির আগে অনেক চিন্তা করতে হয়, কারণ প্রতিটি মণ্ডপের জন্য আলাদা ধরনের প্রতিমা তৈরি করতে হয় এবং এক বছরের প্রতিমার সঙ্গে পরের বছরের প্রতিমারও মিল থাকতে পারে না।
"বাঁশ, খড়, রং, গয়না, চুলসহ সবকিছুর দাম বেড়েছে। শ্রমিকের মজুরিও বেড়েছে। সব খরচ বাদ দিলে যে টাকা থাকে, তা আমাদের দুজনের শ্রমের দামও নয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বেড়া উপজেলা, পাবনা; পাবনা শহর; সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা; মালদাপাড়া, আমিনপুর ও চরপাড়া গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ষষ্ঠী পাল, অমৃত পাল, ধনু পাল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯টি প্রতিমা, ৫৫ হাজার টাকা, ১৫ জন প্রতিমাশিল্পী, ২০ থেকে ২৫ জন সহযোগী, ৬৬ বছর ধনু পালের বয়স, ৫০ বছর ধনু পাল প্রতিমা তৈরির অভিজ্ঞতা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!