📌 ওসমানী উদ্যানের ৯ বছরের আধুনিকায়ন প্রকল্প শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল উদ্যানটির উদ্বোধন করেন। তবে স্থপতিদের মতে, কংক্রিটের অতিরিক্ত ব্যবহারে উদ্যানের মূল চরিত্র নষ্ট হয়েছে এবং হাঁটার পথের কাজও অসম্পূর্ণ রয়েছে
ওসমানী উদ্যানের দীর্ঘ ৯ বছরের আধুনিকায়ন প্রকল্পের পরিপূরক কাজ শেষে গতকাল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্যানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। তবে প্রকল্পের সমালোচকরা জানান, কংক্রিটের অতিরিক্ত ব্যবহারে উদ্যানের মূল উপাদান মাটি ও সবুজের হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ওসমানী উদ্যানের ৯ বছরের আধুনিকায়ন প্রকল্পের পরিপূরক কাজ শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল উদ্যানটি উদ্বোধন করেন।
- 📌 উদ্যানের ২২ একর জায়গায় নির্মিত হয়েছে নগর জাদুঘর, গ্রন্থাগার, ১২টি দোকান, জিমনেশিয়াম, শৌচাগার ও গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা।
- 📌 জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে নির্মিত ৯০ ফুট উঁচু ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’-এ ৮৩৪ জন শহীদের নাম খোদাই করা হয়েছে।
- 📌 উদ্যানের হাঁটার পথের কাজ অসম্পূর্ণ এবং স্থপতিদের মতে, বড় অংশ কংক্রিটে ভরে যাওয়ায় উদ্যানের মূল উপাদান মাটি ও সবুজ কমেছে।
- 📌 ২০১৭ সাল থেকে বন্ধ থাকা উদ্যানের উন্নয়নকাজে ১০৮ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়, তবে প্রকল্পের সময়সীমা অতিবাহিত হওয়ার পর ২০২৩ সালে পিএফ করপোরেশনকে কাজ দেওয়া হয়।
📰 বিস্তারিত
ওসমানী উদ্যানের আধুনিকায়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে নির্মিত হয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ৩৯ কোটি টাকায় এই স্মৃতিস্তম্ভ ও উদ্যানের দুটি প্রবেশফটক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। ৯০ ফুট উঁচু এই স্মৃতিস্তম্ভের গায়ে লেজার কাটিংয়ের মাধ্যমে ৮৩৪ জন শহীদের নাম খোদাই করা হয়েছে। স্মৃতিস্তম্ভে ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণ-আন্দোলন এবং চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান, উদ্যানের হাঁটার পথের কাজ আগের ঠিকাদারেরা করেছে, কিন্তু কাজের মানের কারণে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছিল। পরের ঠিকাদাররা আর রাস্তার কাজ করেনি। উদ্যানের বিভিন্ন স্থানে আম, জামরুল, কদবেল, তেঁতুল, গাব, মেহগনি, অর্জুন, স্বর্ণচাপা, সোনালু ইত্যাদি গাছ লাগানো হয়েছে। তবে দুটি লেকের মধ্যে একটি শুকনো অবস্থায় রয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘কাজ বেশি করতে গিয়ে পার্কের চরিত্র নষ্ট করা হয়েছে। শুধু বাজেট বাড়াতেই এত কংক্রিটের কাজ করা হয়েছে। ৩০-৪০ শতাংশ জায়গা ভরে গেছে কংক্রিটে।’ তিনি আরও বলেন, পার্কের আয়তনের সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ জায়গায় স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ রয়েছে, কিন্তু প্রকল্পে তা অনুসরণ করা হয়নি।
"রাস্তার কাজ আগের ঠিকাদারেরা করেছে। কাজের মানের কারণে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছিল। পরের ঠিকাদারেরা আর রাস্তার কাজ করেনি।"
"কাজ বেশি করতে গিয়ে পার্কের চরিত্র নষ্ট করা হয়েছে। শুধু বাজেট বাড়াতেই এত কংক্রিটের কাজ করা হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ওসমানী উদ্যান, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মোহাম্মদ সাঈদ খোকন, স্থপতিদের, ড. মুহম্মদ ইউনূস, আদিল মুহাম্মদ খান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯ বছর, ২২ একর, ১০৮ কোটি টাকা, ১২টি দোকান, ৩ কিলোমিটার হাঁটার পথ, ৩৯ কোটি টাকা, ৯০ ফুট, ৮৩৪ জন শহীদ, ২০টি প্রতীকী সমাধিফলক
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!