📌 সরকারি সেবা গ্রহণকালে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ জানাতে চালু হয়েছে ‘ঘুষ.সাইট’। দুই দিনে ৮০৪ অভিযোগ জমা পড়েছে, যেখানে ঘুষ হিসেবে দাবি করা হয়েছে ১৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে নয়, বরং সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরতে ব্যবহৃত হবে
সরকারি সেবা গ্রহণকালে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ জানাতে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে চালু হয়েছে ‘ঘুষ.সাইট’(ghush.site)। ২১ আগস্ট উদ্বোধন হওয়া এই ওয়েবসাইটে নাম-পরিচয় গোপন রেখে অভিযোগ জানাতে পারছেন ভুক্তভোগীরা। চালুর প্রথম দুই দিনে ওয়েবসাইটটিতে মোট ৮০৪টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগে ঘুষ হিসেবে চাওয়া অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দুই দিনে ৮০৪টি অভিযোগ জমা পড়েছে ‘ঘুষ.সাইট’-এ
- 📌 ঘুষ হিসেবে চাওয়া অর্থের পরিমাণ ১৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা
- 📌 ওয়েবসাইটটির প্রতিষ্ঠাতা সাইফ কবির ও শাহেদ শরিফ
- 📌 সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে ঢাকা থেকে (৪৩০টি)
- 📌 অভিযোগকারীদের ১৮ শতাংশ ঘুষ দিতে অস্বীকার করেছেন
- 📌 ওয়েবসাইটটি নিজস্ব অর্থে পরিচালিত হচ্ছে, কোনো বাইরের অর্থায়ন নেই
📰 বিস্তারিত
সরকারি সেবা গ্রহণকালে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ জানাতে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে চালু হয়েছে ‘ঘুষ.সাইট’। ওয়েবসাইটটির উদ্যোক্তা সাইফ কবির ও শাহেদ শরিফ জানিয়েছেন, বিদেশি একটি ওয়েবসাইট থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলাদেশের জন্য এমন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে। উদ্দেশ্য হলো ঘুষ চাওয়ার অভিজ্ঞতাগুলো এক জায়গায় এনে কোনো সরকারি দপ্তরে কত টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ রয়েছে, তার একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরা।
ওয়েবসাইটটিতে অভিযোগ জানাতে ব্যবহারকারীকে দপ্তরের নাম, সেবার ধরন, এলাকা, ঘুষ হিসেবে দাবি করা অর্থের পরিমাণ এবং শেষ পর্যন্ত কী হয়েছিল—এই পাঁচ ধরনের তথ্য দিতে হয়। সঙ্গে ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। অভিযোগ জানাতে কোনো অ্যাকাউন্ট খোলার প্রয়োজন হয় না। পুরো প্রক্রিয়াটি দুই মিনিটেরও কম সময়ে শেষ করা যায়। তবে কোনো ব্যক্তির নাম, পদবি বা ফোন নম্বর উল্লেখ করা যায় না।
উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, এখানে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে চিহ্নিত করার চেয়ে কোন দপ্তর বা সরকারি সেবা ঘিরে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ বেশি আসছে, সেটি তুলে ধরাই মূল উদ্দেশ্য। অভিযোগ জমা দেওয়ার পর সেটি সরাসরি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয় না। প্রথমে মডারেশনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য সরানো হয়। আক্রমণাত্মক, অস্পষ্ট বা নীতিমালা ভঙ্গ করে এমন অভিযোগও বাদ দেওয়া হয়। এরপর অভিযোগটি প্রকাশ করা হয়।
চালুর প্রথম দুই দিনে ওয়েবসাইটটিতে মোট ৮০৪টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগে ঘুষ হিসেবে চাওয়া অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ৪৩০টি অভিযোগ এসেছে ঢাকা থেকে। এরপর চট্টগ্রামে ১৬৭, রাজশাহীতে ৪৪, খুলনায় ৪৩, সিলেটে ৩৮, রংপুরে ৩৭, ময়মনসিংহে ৩০ এবং বরিশালে ১৫টি অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগকারীদের মধ্যে ১৮ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা ঘুষ দিতে অস্বীকার করেছেন।
"ঘুষ.সাইট কোনো অভিযোগকে সত্য ঘটনা বা কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করছে না। এটি কোনো তদন্ত সংস্থাও নয়, দুর্নীতি দমন কমিশনের বিকল্প হওয়ার দাবিও করছে না; বরং মানুষের অভিজ্ঞতাগুলো এক জায়গায় এনে একটি উন্মুক্ত রেকর্ড তৈরি করাই এর উদ্দেশ্য।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 উদ্যোক্তা: সাইফ কবির, শাহেদ শরিফ
- 🔢 অভিযোগ সংখ্যা: ৮০৪টি
- 🔢 ঘুষের পরিমাণ: ১৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা
- 🔢 অভিযোগকারীদের অস্বীকৃতি হার: ১৮ শতাংশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!