📌 ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকায় রাশিয়ান হাউস ও কলকাতার 'ছায়ানট'-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও সংগীতকে সম্মানিত করা হয়। নজরুলের কবিতা রাশিয়ান ভাষায় আবৃত্তি, নজরুলসংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা, এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি সাংস্কৃতিক সংযোগকে সমৃদ্ধ করে
১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার রাশিয়ান হাউস ও কলকাতার ‘ছায়ানট’-এর যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মরণে একটি অনন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এই বিশেষ সন্ধ্যায় নজরুলের জীবন, কবিতা ও সংগীতকে কেন্দ্র করে আলোচনা, কবিতা আবৃত্তি, সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশনা করা হয়। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ-রাশিয়া ও বাংলাদেশ-ভারতের সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করে তোলে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৩ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে ঢাকার রাশিয়ান হাউস ও কলকাতার ‘ছায়ানট’-এর যৌথ উদ্যোগে নজরুল স্মরণে অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
- 📌 রাশিয়ান হাউসের পরিচালক আলেকসান্দ্রা এ খলেভনয় নজরুলকে ‘কালজয়ী কবি’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, তাঁর কবিতা ধর্ম, শ্রেণি ও ভাষার সীমানা অতিক্রম করে মানবিকতা ও স্বাধীনতার কথা বলে।
- 📌 সোমঋতা মল্লিক (ছায়ানটের সভাপতি ও নজরুল গবেষক) সোভিয়েত ও রাশিয়ান সাহিত্যের সাথে নজরুলের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন।
- 📌 রাশিয়ান ভাষা কোর্সের শিক্ষার্থীরা রাশিয়ান ভাষায় নজরুলের কবিতা আবৃত্তি করেন, যা অনুষ্ঠানটিকে আন্তর্জাতিক মাত্রা দেয়।
- 📌 কলকাতা থেকে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় নজরুলের কবিতা উপস্থাপন করা হয়, যেখানে কল্যাণী কাজী, মধুমিতা বসু, নিবেদিতা নাগ, ইন্দ্রাণী লাহিড়ী এবং নবনীতা লাহিড়ী ও সুপ্রীতি চক্রবর্তী কণ্ঠ দেন।
- 📌 সেন্ট পিটার্সবার্গ ও এমজিআইএমও বিশ্ববিদ্যালয়ের রাশিয়ান শিক্ষার্থীরা এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা যৌথ ভিডিও পরিবেশনা করেন।
- 📌 অনুষ্ঠানে নজরুলসংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা হয়, যেখানে প্রমিতা বর্মণ ‘মেঘের ডমরু ঘন বাজে’ ও ‘এই রাঙা মাটির পথে লো’ গানের সঙ্গে নৃত্য করেন।
- 📌 সেরোভ একাডেমি অব ফাইন আর্টসর শিশুশিল্পীরা দলগত নৃত্য পরিবেশন করেন।
- 📌 দৈনিক খবরের সম্পাদক মোস্তফা কামাল ‘বর্তমান বিশ্বে নজরুলের প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক আলোচনা করেন।
- 📌 আবরার খান রিদম ও সোমঋতা মল্লিক নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন, যেখানে মল্লিকের কণ্ঠে ‘আমি চিরতরে দূরে চলে যাব’ গানটি বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়।
- 📌 অনুষ্ঠানে দর্শকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো, যা বাংলাদেশ ও রাশিয়ার সাংস্কৃতিক সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরে।
📰 বিস্তারিত
১৩ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে ঢাকার রাশিয়ান হাউসে অনুষ্ঠিত এই সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সৃষ্টিকে কেন্দ্র করে আলোচনা ও পরিবেশনা করা হয়। রাশিয়ান হাউসের পরিচালক আলেকসান্দ্রা এ খলেভনয় স্বাগত বক্তব্যে বলেন, নজরুলের কবিতা ধর্ম, শ্রেণি, ভাষা ও সময়ের সীমানা অতিক্রম করে সাম্য, স্বাধীনতা ও মানবিকতার কথা বলে। তিনি উল্লেখ করেন, নজরুলের সাহিত্যকর্মের সঙ্গে রাশিয়ান ও সোভিয়েত সাহিত্যের গভীর সম্পর্ক রয়েছে, উভয় সাহিত্যের মূল সুরই স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও সাহসের কথা বলে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল নজরুলের কবিতা রাশিয়ান ভাষায় আবৃত্তি। রাশিয়ান হাউসের ‘রাশিয়ান ভাষা কোর্স’-এর শিক্ষার্থীরা নজরুলের কবিতা রাশিয়ান ভাষায় আবৃত্তি করে, যা অনুষ্ঠানটিকে আন্তর্জাতিক মাত্রা দেয়। অন্যদিকে, কলকাতা থেকে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় নজরুলের কবিতা উপস্থাপন করা হয়। নজরুলের কনিষ্ঠ পুত্রবধূ কল্যাণী কাজী এবং মধুমিতা বসু, নিবেদিতা নাগ, ইন্দ্রাণী লাহিড়ী বাংলা ভাষায় কবিতা পাঠ করেন, যেখানে নবনীতা লাহিড়ী ও সুপ্রীতি চক্রবর্তী ইংরেজি ভাষায় কবিতা উপস্থাপন করেন।
সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেট ইউনিভার্সিটি ও এমজিআইএমও বিশ্ববিদ্যালয়ের রাশিয়ান শিক্ষার্থীরা এবং বর্তমানে রাশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের যৌথ ভিডিও পরিবেশনা অনুষ্ঠানটিকে আরও সমৃদ্ধ করে। অনুষ্ঠানে নজরুলসংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা হয়, যেখানে প্রমিতা বর্মণ ‘মেঘের ডমরু ঘন বাজে’ ও ‘এই রাঙা মাটির পথে লো’ গানের সঙ্গে নৃত্য করেন। ‘সেরোভ একাডেমি অব ফাইন আর্টস’র শিশুশিল্পীরা দলগত নৃত্য পরিবেশনায় অংশ নেন।
দৈনিক খবরের সম্পাদক মোস্তফা কামাল ‘বর্তমান বিশ্বে নজরুলের প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে আবরার খান রিদম ও সোমঋতা মল্লিক নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন, যেখানে মল্লিকের কণ্ঠে ‘আমি চিরতরে দূরে চলে যাব’ গানটি বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। অনুষ্ঠানে দর্শকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো, যা বাংলাদেশ ও রাশিয়ার সাংস্কৃতিক সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরে।
"নজরুলের কবিতা ধর্ম, শ্রেণি, ভাষা ও সময়ের সীমানা অতিক্রম করে সাম্য, স্বাধীনতা ও মানবিকতার কথা বলে। উভয় সাহিত্যের মূল সুরই স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও সাহসের কথা বলে।"
"বর্তমান বিশ্বে নজরুলের প্রাসঙ্গিকতা অপরিসীম। তাঁর কবিতা আজও মানবতার জন্য আশা ও স্বাধীনতার কথা বলে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (রাশিয়ান হাউস), কলকাতা (ছায়ানট)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আলেকসান্দ্রা এ খলেভনয়, সোমঋতা মল্লিক, কল্যাণী কাজী, মধুমিতা বসু, নিবেদিতা নাগ, ইন্দ্রাণী লাহিড়ী, নবনীতা লাহিড়ী, সুপ্রীতি চক্রবর্তী, মোস্তফা কামাল, আবরার খান রিদম, প্রমিতা বর্মণ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩ সেপ্টেম্বর, ৫টা ৩০ মিনিট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!