📌 যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর রাজু। সাত বছর কাতারে থাকলেও জীবিকা নিয়ে হতাশ হয়ে অবৈধ পথে যুক্তরাষ্ট্র পাড়ি দেন তিনি। পরিবারের স্বপ্ন ছিল তাঁর প্রতিষ্ঠিত হওয়ার, কিন্তু সেই স্বপ্ন চিরতরে ভেঙে গেল
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্রুকলিনে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার রাজু (৩৮)। তাঁর পরিবারের স্বপ্ন ছিল তাঁর প্রতিষ্ঠিত হওয়া এবং টিনের ঘরটি পাকা করার। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি। গত শনিবার রাতে ব্রুকলিনের একটি পিৎজার দোকানে কর্মরত অবস্থায় এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণের শিকার হন তিনি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাজু (৩৮) ছিলেন নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের কংশনগর গ্রামের বাসিন্দা
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্রুকলিনের একটি পিৎজার দোকানে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন তিনি
- 📌 রাজুর পরিবারের সদস্যরা মৃত্যুর খবর পান পরদিন রোববার
- 📌 রাজু সাত বছর কাতারে ছিলেন, কিন্তু উল্লেখযোগ্য আয় করতে পারেননি
- 📌 ২০২৩ সালে অবৈধ পথে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেন রাজু
📰 বিস্তারিত
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের কংশনগর গ্রামের বাসিন্দা রাজু যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্রুকলিনের একটি পিৎজার দোকানে কর্মরত ছিলেন। গত শনিবার রাতে দোকানে কর্মরত অবস্থায় এক দুর্বৃত্ত এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে রাজু গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। রাজুর মৃত্যুর খবর তাঁর পরিবারের সদস্যরা পান পরদিন রোববার।
রাজুর স্ত্রী পলি আক্তার, ১২ বছরের কন্যা জান্নাতুল নাইমা ও আড়াই বছরের রাইসা আক্তার, তাঁর বাবা মোহাম্মদ উল্যাহসহ পরিবারের সদস্যরা তাঁর বাড়িতে আহাজারি করছেন। প্রতিবেশী ও স্বজনরা তাঁদের সান্ত্বনা দিতে গিয়ে চোখের পানি গড়িয়ে পড়ছে। রাজুর পরিবারের সদস্যরা জানান, রাজু তিন ভাই তিন বোনের মধ্যে দ্বিতীয়। দেশে রংমিস্ত্রির কাজ করতেন তিনি। বড় মেয়ে জান্নাতুল নাইমার জন্মের পর জীবিকার উদ্দেশ্যে কাতারে পাড়ি দিয়েছিলেন। সেখানে সাত বছর ছিলেন। এরপর দেশে ফিরে আসেন। ২০২৩ সালে কাতার থেকে দেশে ফেরার পর ওই বছরের শেষের দিকে অবৈধ পথে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেন।
রাজুর বাবা মোহাম্মদ উল্যাহ বলেন, ‘ছেলেটা জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য অনেক কষ্ট করেছে। অনেক কষ্টের বিনিময়ে আমেরিকা (যুক্তরাষ্ট্রে) গেছে। তাকে নিয়ে আমারও অনেক আশা ছিল। ছেলেটা প্রতিষ্ঠিত হবে, টিনের ঘরটি পাকা করবে—কত আশা, সব শেষ হয়ে গেছে। আমি আমার ছেলেকে শেষবারের মতো দেখতে চাই। সরকার যেন সেই ব্যবস্থাটুকু করে।’
‘জীবনে অনেক সংগ্রাম করেছে রাজু। সাত বছর কাতারে থাকলেও তেমন কিছু করতে পারেনি। বাড়িতে থাকার ঘরটি এখনো ভাঙাচোরা। শেষে নিজের সহায়-সম্বল বিক্রি করে স্বপ্নপূরণের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই তার মৃত্যু হলো।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র
- 📍 স্থান: নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলা, আমিশাপাড়া ইউনিয়ন, কংশনগর গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাজু (৩৮), মোহাম্মদ উল্যাহ, পলি আক্তার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৮ বছর, ৭ বছর, ১২ বছর, ২ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!