📌 কক্সবাজারের সোনাদিয়া দ্বীপের অবৈধ চিংড়িঘের উচ্ছেদে নৌবাহিনীকে সরকার সম্পৃক্ত করেছে। প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন প্রকল্পে ২ কোটি টাকার বরাদ্দের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার জন্য। ম্যানগ্রোভ বনের জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার সোনাদিয়া দ্বীপের অবৈধ চিংড়িঘের উচ্ছেদে নৌবাহিনীকে সরকার সম্পৃক্ত করেছে। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে পাঠানো একটি প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই প্রকল্পের আওতায় নৌবাহিনীকে সম্পৃক্ত করে ম্যানগ্রোভ বনের জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনতে সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা নিচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সোনাদিয়া দ্বীপের অবৈধ চিংড়িঘের উচ্ছেদে নৌবাহিনীকে সম্পৃক্ত করে সরকারের নতুন উদ্যোগ।
- 📌 প্রধানমন্ত্রী আগস্ট মাসে অনুমোদন দিয়েছেন প্রকল্পে নৌবাহিনীর সহায়তা নেওয়ার জন্য।
- 📌 ম্যানগ্রোভ বনের জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনতে জোয়ার-ভাটার প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।
- 📌 ২০০৬ সালে সোনাদিয়া দ্বীপকে সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করা হয়েছিল।
- 📌 ২০২৫ সালের মার্চে সরকার সোনাদিয়ার ৯ হাজার ৪৬৬ একর বনভূমি বন বিভাগের কাছে ফেরত দিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
- 📌 সোনাদিয়া দ্বীপের ৭ হাজার একর প্যারাবন কেটে ফেলা হয়েছে বলে বন বিভাগের অনুমান।
- 📌 উচ্চতর বরাদ্দের জন্য ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা চেয়েছিল উপজেলা প্রশাসন।
- 📌 বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির বলেছেন, অবৈধ চিংড়িঘের উচ্ছেদের পর জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনতে শক্তিশালী পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
📰 বিস্তারিত
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার সোনাদিয়া দ্বীপে শ্বাসমূলীয় বন কেটে গড়ে তোলা অবৈধ চিংড়িঘের উচ্ছেদের জন্য নৌবাহিনীকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে পাঠানো একটি প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ৩ আগস্ট এ প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছিল। বন বিশেষজ্ঞদের মতে, ম্যানগ্রোভ বনে অসংখ্য ছোট ছোট খালের মধ্য দিয়ে জোয়ার-ভাটা প্রবেশ করে বনের বাস্তুতন্ত্রকে পরিপুষ্ট করে। এসব খালের মুখে বাঁধ দিলে ম্যানগ্রোভ বন প্রাণহীন হয়ে শুকিয়ে যায়। এ অবস্থায় দখলদাররা বন কেটে চারপাশে বাঁধ দিয়ে চিংড়ি চাষ করে।
‘স্ট্রেনদেনিং ক্যাপাসিটি অব এমওইএফসিসি, ডিওই অ্যান্ড বিএফডি ফর ন্যাচারাল রিসোর্চ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইমপ্রুভড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় নৌবাহিনীকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা খানম প্রথম আলোকে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নৌবাহিনীকে সম্পৃক্ত করে সোনাদিয়া দ্বীপে অবৈধ দখল উচ্ছেদে সম্মতি দিয়েছেন। নৌবাহিনীও সহায়তা দিতে প্রস্তুত। এ দ্বীপকে দখলমুক্ত করতে জীববৈচিত্র্য ফেরাতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা নেওয়া হবে।
২০০৬ সালে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় পরিবেশগত গুরুত্ব বিবেচনায় সোনাদিয়া দ্বীপকে সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করে। ইসিএ ঘোষিত এলাকায় মাটি, পানি, বায়ু ও অন্যান্য পরিবেশগত উপাদান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০১৭ সালে ইকোট্যুরিজম পার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ সরকার ১ হাজার ১ টাকার বিনিময়ে সোনাদিয়ার ৯ হাজার ৪৬৬ দশমিক ৯৩ একর বনভূমি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) কাছে বরাদ্দ দেয়। এর ফলে প্যারাবনটির আইনগতভাবে রক্ষা করার কর্তৃত্ব হারায় বন বিভাগ। বেজা বুঝে নেওয়ার পর এখানে ইকোট্যুরিজমের কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়নি। বন বিভাগের অনুমান, কমপক্ষে ৭ হাজার একর প্যারাবন কেটে ফেলা হয়েছে।
সোনাদিয়া দ্বীপের তিনটি মৌজার ৮ হাজার ৪৫ একরের মতো বনভূমি বন বিভাগের কাছে ফেরত এসেছে। বেজার হাতে এখনো এ দ্বীপের ৬টি মৌজায় ১২ হাজার ২৭০ একর বনভূমি রয়ে গেছে। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ফাহমিদা হক খান বলেছেন, ‘সশস্ত্র বাহিনীকে সম্পৃক্ত করে কোনো উদ্যোগ নিলে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। আমরা আগস্টে সেটা পেয়েছি। এ মাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, নৌবাহিনী ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের একটি সভা আছে। সেখানে উচ্ছেদ অভিযানের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে। এ অভিযানে নৌবাহিনীর চার কোটির টাকার মতো প্রয়োজন হতে পারে। তবে প্রকল্পের আওতায় উচ্ছেদের জন্য আমাদের বরাদ্দ আছে দুই কোটি টাকা।’
২০২৫ সালে মহেশখালী উপজেলা প্রশাসন এক জরিপে ৪৫ কিলোমিটার বাঁধ চিহ্নিত করে, সেটা উচ্ছেদে ৪ কোটি ২০ লাখ টাকার বরাদ্দ চেয়েছিল সরকারের কাছে। একই বছর ১১টি অবৈধ চিংড়িঘের উচ্ছেদ করেছিল উপজেলা প্রশাসন। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির বলেছেন, ‘সোনাদিয়ায় আগেও লোকদেখানো উচ্ছেদ অভিযান হয়েছে। এবার নৌবাহিনীকে সম্পৃক্ত করে সর্বাত্মক উচ্ছেদ অভিযানের পরিকল্পনা করছে সরকার। উচ্ছেদের পর পুরো দ্বীপের জীববৈচিত্র্য ফেরাতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কী পদক্ষেপ নিচ্ছে সেটা দেখতে হবে। একই সঙ্গে পুনরায় অবৈধ চিংড়িঘের গড়ে উঠতে না পারে, সেটার জন্য শক্তিশালী তদারকির ব্যবস্থা করতে হবে।’
"‘সশস্ত্র বাহিনীকে সম্পৃক্ত করে কোনো উদ্যোগ নিলে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। আমরা আগস্টে সেটা পেয়েছি। এ মাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, নৌবাহিনী ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের একটি সভা আছে। সেখানে উচ্ছেদ অভিযানের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।’ — পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ফাহমিদা হক খান
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সোনাদিয়া দ্বীপ, মহেশখালী উপজেলা, কক্সবাজার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ফাহমিদা খানম, ফাহমিদা হক খান, মো. আলমগীর কবির
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ আগস্ট, ১ হাজার ১ টাকা, ৯ হাজার ৪৬৬ দশমিক ৯৩ একর, ৭ হাজার একর, ৮ হাজার ৪৫ একর, ১২ হাজার ২৭০ একর, ৪৫ কিলোমিটার, ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা, ২ কোটি টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!