📌 নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজের সুপারিশে বরাদ্দকৃত জিআর অনুদানের তালিকায় বিত্তবান নেতা-কর্মীদের নাম অন্তর্ভুক্ত থাকায় অভিযোগ উঠেছে। তালিকায় থাকা কিছু ব্যক্তি দাবি করেছেন, তারা নিজেরা টাকা নেননি। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত এই অনুদানকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছে তালিকা তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে
নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজের সুপারিশে বরাদ্দকৃত জিআর অনুদানের তালিকায় বিত্তবান নেতা-কর্মীদের নাম অন্তর্ভুক্ত থাকায় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুর উপজেলায় বরাদ্দকৃত অর্থের উপকারভোগীর তালিকায় বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নাম অন্তর্ভুক্ত থাকায় এই অভিযোগের জন্ম। তবে সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তালিকায় উপকারভোগীদের নাম যাচাই-বাছাই করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নাটোর-৪ আসনের এমপি মো. আব্দুল আজিজের সুপারিশে বড়াইগ্রামে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দকৃত জিআর অনুদানের তালিকায় বিত্তবান নেতা-কর্মীদের নাম অন্তর্ভুক্ত থাকায় অভিযোগ উঠেছে।
- 📌 জোনাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. আব্দুস সালাম ফকিরের নাম তালিকায় থাকায় তিনি দাবি করেছেন, ‘আমি নিজে টাকা নেননি এবং নেবেনও না’।
- 📌 তালিকায় থাকা ৯৮ জনের মধ্যে ৮৬ জনের নামে বরাদ্দকৃত টাকা সংগ্রহ করতে হয়, কিন্তু তাদের মধ্যে বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের নামও অন্তর্ভুক্ত থাকায় প্রশ্ন উঠেছে তালিকা তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে।
- 📌 গুরুদাসপুর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মো. আরিফুল ইসলাম রবিউলসহ বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী জানিয়েছেন, তারা বরাদ্দকৃত টাকা সংগ্রহ করেছেন, কিন্তু জানতেন না এটি দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত অনুদান।
- 📌 ২২ সেপ্টেম্বর বড়াইগ্রাম উপজেলায় ৯৮ জনের মধ্যে ৭ হাজার টাকা করে ১২টি পরিবারের সদস্যদের অনুষ্ঠানে বিতরণ করা হয়, বাকি ৮৬ জনের নামে টাকা বিতরণের অভিযোগ উঠেছে।
📰 বিস্তারিত
নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজের সুপারিশে বড়াইগ্রাম উপজেলায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দকৃত জিআর অনুদানের তালিকায় বিত্তবান নেতা-কর্মীদের নাম অন্তর্ভুক্ত থাকায় অভিযোগ উঠেছে। বড়াইগ্রাম উপজেলার জোনাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. আব্দুস সালাম ফকিরের নামও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকায় তিনি দাবি করেছেন, ‘আমি নিজে টাকা নেননি এবং নেবেনও না। আমি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি এবং সচ্ছল পরিবারের সন্তান। দুস্থদের জন্য বরাদ্দ করা অনুদানের তালিকায় আমার নাম কীভাবে এসেছে, তা আমি জানি না’।
বড়াইগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. জাহিদুল হাসান বিপুলও দাবি করেছেন, ‘আমি টাকা সংগ্রহ করিনি এবং করবও না। কারণ, আমি মনে করি এই টাকা পাওয়ার যোগ্য আমি নই’। অন্যদিকে, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে টাকা সংগ্রহ করা বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী জানিয়েছেন, তারা জানতেন না যে বরাদ্দকৃত টাকা দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত অনুদান। তাদের মধ্যে রয়েছেন নগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. তরাত মণ্ডল এবং গুরুদাসপুর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মো. আরিফুল ইসলাম রবিউলসহ আরও কয়েকজন।
গত ২২ সেপ্টেম্বর বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ৯৮ জন উপকারভোগীর মধ্যে জিআর অনুদানের অর্থ বিতরণ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আমিনুর রশীদসহ সংশ্লিষ্টরা। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত ১২টি পরিবারের সদস্যদের অনুষ্ঠানে ৭ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। বাকি ৮৬ জনের নামে টাকা বিতরণের অভিযোগ উঠেছে, যেখানে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের নাম অন্তর্ভুক্ত থাকায় প্রশ্ন উঠেছে তালিকা তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে।
নাটোর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ কে এম শাহা আলম মোল্লা জানান, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দুস্থ ও অসহায় মানুষই এ ধরনের সরকারি সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। তবে তালিকা তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশ্ন উঠেছে। গুরুদাসপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আমিনুর রশীদ বলেছেন, ‘এটি সংসদ সদস্যের বিশেষ বরাদ্দ। উপকারভোগীদের তালিকা সংসদ সদস্যই করেছেন এবং যাচাই-বাছাইও তিনিই করেছেন’।
"আমি নিজে টাকা নেননি এবং নেবেনও না। আমি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি এবং সচ্ছল পরিবারের সন্তান। দুস্থদের জন্য বরাদ্দ করা অনুদানের তালিকায় আমার নাম কীভাবে এসেছে, তা আমি জানি না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বড়াইগ্রাম উপজেলা, গুরুদাসপুর উপজেলা, নাটোর জেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ, মো. আব্দুস সালাম ফকির, মো. জাহিদুল হাসান বিপুল, মো. আরিফুল ইসলাম রবিউল, এ কে এম শাহা আলম মোল্লা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ২ হাজার ৫০০ টাকা, ৯৮ জন, ৮৬ জন, ১২টি পরিবার, ৭ হাজার টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!