📌 জাতীয় চিড়িয়াখানার দক্ষিণ হ্রদে নৌকাভ্রমণের প্রকল্পে ৩৫ লাখ টাকা ব্যয় হলেও ইঞ্জিনের শব্দ ও পরিবেশগত ক্ষতির কারণে প্রকল্পের কার্যকরতা প্রশ্নবিদ্ধ। বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, এই প্রকল্প প্রাণীদের স্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্যের জন্য বিপজ্জনক। কর্তৃপক্ষকে প্রকল্প বাতিল করে হ্রদের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে
মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানার দক্ষিণ হ্রদে নৌকাভ্রমণের প্রকল্প বাস্তবায়নের পেছনে সরকারি অর্থের অপচয় ও প্রাণী ও পরিবেশের বিপদ উভয়ই লুকিয়ে আছে। ৩৫ লাখ টাকার এই প্রকল্পে নির্মিত দুটি নৌকা এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো গত জুনেই সম্পন্ন হলেও, কর্তৃপক্ষের হুঁশ হয়েছে যে ইঞ্জিনের বিকট শব্দ প্রাণীদের জন্য ক্ষতিকর এবং পানি দূষণের আশঙ্কা রয়েছে। এখনও অবিক্রীত নৌকার জন্য শব্দহীন ইঞ্জিনের খোঁজাখুঁজি চলছে, যা প্রকল্পের অপরিকল্পিত ও হঠকারিতাকেই প্রকাশ করে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুটি নৌকা ও অবকাঠামো গত জুনেই তৈরি হলেও, ইঞ্জিনের শব্দ প্রাণীদের জন্য ক্ষতিকর বলে কর্তৃপক্ষের হুঁশ হয়েছে
- 📌 ৩২ একর আয়তনের দক্ষিণ হ্রদ ছিল বহু জলজ প্রাণীর আবাসস্থল এবং পরিযায়ী পাখিদের শীতকালীন আশ্রয়স্থল
- 📌 বিশেষজ্ঞরা নৌকাভ্রমণ প্রকল্পকে প্রাণীদের মানসিক ও শারীরিক সুরক্ষার বিপরীতে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করেছেন
- 📌 প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে হ্রদের পরিবেশ নষ্ট হলে বন্য প্রাণীরা ভীতির মুখোমুখি হবে এবং পরিযায়ী পাখিদের আসার পথ স্থায়ীভাবে বন্ধ হতে পারে
- 📌 কর্তৃপক্ষকে প্রকল্প বাতিল করে হ্রদের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে, বলেছেন প্রথম আলোর সম্পাদকীয়
📰 বিস্তারিত
জাতীয় চিড়িয়াখানার দক্ষিণ হ্রদে নৌকাভ্রমণের প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল দর্শনার্থীদের আকর্ষণ বৃদ্ধি। কিন্তু প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পেছনে সরকারি অর্থের অপচয় ও প্রাণী ও পরিবেশের বিপদ উভয়ই লুকিয়ে আছে। গত জুনেই ৩৫ লাখ টাকায় নির্মিত দুটি নৌকা এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো (জেটি, সংযোগ সড়ক, যাত্রীছাউনি) সম্পন্ন হলেও, কর্তৃপক্ষের হুঁশ হয়েছে যে ইঞ্জিনের বিকট শব্দ প্রাণীদের জন্য ক্ষতিকর এবং পানি দূষণের আশঙ্কা রয়েছে। এখনও অবিক্রীত নৌকার জন্য শব্দহীন ইঞ্জিনের ব্যর্থ খোঁজাখুঁজি চলছে, যা প্রকল্পের অপরিকল্পিত ও হঠকারিতাকেই স্পষ্ট করে।
৩২ একর আয়তনের দক্ষিণ হ্রদ ছিল বহু জলজ প্রাণীর আবাসস্থল এবং একসময় প্রচুর পরিযায়ী পাখি সেখানে শীতের আশ্রয়ে আসত। বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন যে, একটি সুরক্ষিত চিড়িয়াখানায় নৌকাভ্রমণের এই আয়োজন কতটা যৌক্তিক। যান্ত্রিক কোলাহল, বাণিজ্যিক উন্মাদনা আর কায়িক উপস্থিতি দিয়ে হ্রদের পরিবেশ নষ্ট করলে বন্য প্রাণীরা ভীতির মুখোমুখি হবে এবং পরিযায়ী পাখিদের আসার পথ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।
মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানার মূল কাঠামোর সঙ্গে এই প্রকল্পের সাংঘর্ষিকতা স্পষ্ট। একটি সুরক্ষিত চিড়িয়াখানার প্রাথমিক দায়িত্ব হলো প্রাণীদের মানসিক ও শারীরিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য বজায় রাখা। কিন্তু বিনোদনের নামে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে প্রাণীদের স্বস্তি ও প্রাকৃতিক পরিবেশের কথা উপেক্ষিত হয়ে পড়েছে। প্রথম আলোর সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে এই অপরিণামদর্শী বাণিজ্যিক উদ্যোগ থেকে সরে আসতে হবে। প্রকল্প বাতিল করে হ্রদের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই হবে যুক্তিসংগত।
"চিড়িয়াখানাকে সাধারণ মানুষের জন্য শুধু ‘বিনোদন পার্ক’ হিসেবে দেখার ধারণা থেকে কর্তৃপক্ষকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমরা মনে করি, প্রাণীর স্বস্তি ও প্রাকৃতিক পরিবেশের কথা বিবেচনায় না নিয়ে নেওয়া এই প্রকল্প থেকে সরে এসে হ্রদের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই হবে যুক্তিসংগত।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানার দক্ষিণ হ্রদ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিশেষজ্ঞরা, চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৫ লাখ টাকা (ব্যয়), ৩২ একর (হ্রদের আয়তন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!