📌 ১৯৫০ সালের নাচোল গণহত্যার সময় ইতালির পাদরি ফাদার টমাস কাত্তানিও নিপীড়িত কৃষকদের সাক্ষী ছিলেন। ইলা মিত্রের জীবন ও সংগ্রামের সাথে তাঁর অবদানকে সংযুক্ত করে নাচোলের ইতিহাসে তাঁর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে
১৯৫০ সালের নাচোল গণহত্যা ও কৃষক আন্দোলনের সময় ইতালির খ্রিস্টান পাদরি ফাদার টমাস কাত্তানিও (তোম্মাসো কাত্তানিও) বাংলাদেশের নিপীড়িত কৃষকদের সাক্ষী ছিলেন। রাজশাহীর পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত আন্ধারকোঠা ধর্মপল্লীতে কর্মরত এই পাদরির তৎপরতা ও অবদানকে স্মরণ করে লেখা হয়েছে এই প্রতিবেদন। ইলা মিত্রের জীবনবোধ ও সংগ্রামের সাথে তাঁর সম্পর্ককে যুক্ত করে নাচোলের ইতিহাসে ফাদার কাত্তানিওর ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১৯৫০ সালের ৫ জানুয়ারি** নাচোল থানায় পুলিশের ওপর কৃষকদের প্রতিরোধে ঘটে যাওয়া গণহত্যা ও নিপীড়নের সময় ইতালির পাদরি ফাদার টমাস কাত্তানিও নিপীড়িতদের সাক্ষী ছিলেন।
- 📌 **ইলা মিত্রের লেখা ‘আমার জীবনে স্বাধীনতার স্বাদ’ ও ‘জবানবন্দী’** থেকে জানা যায়, তিনি বন্দী সাঁওতালদের নির্যাতনের দৃশ্য দেখে বলেছিলেন: *“হে বীর সাথিরা, আমি যেন তোমাদের এই দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে নিঃশব্দে মুখ বুজে থাকতে পারি। আর যদি মরতেই হয়, যেন অমনি নিঃশব্দে মরে যেতে পারি।”*
- 📌 **ফাদার টমাস কাত্তানিও** নাচোলের কৃষক আন্দোলনের সময় পীড়িতদের দেখাশোনা করতেন। ইলা মিত্রের ভাষ্য: *“সাহেব খবর পেয়েই লোক মারফৎ আমাকে জানান যে, তিনি তখন পীড়িত সাঁওতাল রোগীদের দেখে ঔষধ দিচ্ছেন। কাজ শেষ করেই তিনি আসবেন।”*
- 📌 **নাচোল গণহত্যার পর** পাকিস্তান সরকার ‘পোড়ামাটি’ পন্থা অবলম্বন করে ২০০০-এরও বেশি কৃষক ও সাধারণ মানুষকে হত্যা, ধর্ষণ ও উচ্ছেদ করে।
- 📌 **ইলা মিত্রের ১০১তম জন্মবার্ষিকী** উপলক্ষে তাঁর সহযোদ্ধাদের অবদানকে স্মরণ করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য: *“এঁরা আমার শিক্ষক-শিক্ষিকা ছিলেন সমাজজীবনে, আমি এঁদের শিক্ষিকা ছিলাম রাজনৈতিক জীবনে এবং সবাই মিলে আমরা প্রত্যেকেই ব্যক্তি ছিলাম, অথচ সব ব্যক্তি মিলিয়ে সমষ্টি।”*
📰 বিস্তারিত
১৯৫০ সালের নাচোল গণহত্যা ছিল পূর্ববঙ্গের কৃষক আন্দোলনের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী ঘটনা। কমিউনিস্ট পার্টির সংগঠিত কৃষকরা নাচোল থানার পুলিশ দলকে হত্যা করে তাদের লাশ পুঁতে ফেলা ও অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় সরকারি প্রশাসন ‘পোড়ামাটি’ পন্থা অবলম্বন করে। এই সময় ইতালির পাদরি ফাদার টমাস কাত্তানিও (তোম্মাসো কাত্তানিও) নাচোলের কৃষকদের পাশে দাঁড়ান। তিনি আন্ধারকোঠা ধর্মপল্লীতে কর্মরত ছিলেন এবং পীড়িতদের দেখাশোনা করতেন। ইলা মিত্রের লেখা ‘আমার জীবনে স্বাধীনতার স্বাদ’ ও ‘জবানবন্দী’ থেকে জানা যায়, তিনি বন্দী সাঁওতালদের নির্যাতনের দৃশ্য দেখে আত্মার আহ্বান করেছিলেন।
ফাদার কাত্তানিও নাচোলের কৃষক আন্দোলনের সময় পীড়িতদের দেখাশোনা করতেন। ইলা মিত্রের ভাষ্য: *“পৌঁছাই। পৌঁছেই সাহেবের কাছে আমার পাঠাই তাঁর সাথে দেখা করার উদ্দেশ্য জানিয়ে। সাহেব খবর পেয়েই লোক মারফৎ আমাকে জানান যে, তিনি তখন পীড়িত সাঁওতাল রোগীদের দেখে ঔষধ দিচ্ছেন। কাজ শেষ করেই তিনি আসবেন। আমাকে নিয়ে গিয়ে ফাদারের লোক, ঘরের মধ্যে একখানি চেয়ারে বসাল। সামনেই একটা বড়...”* এই ঘটনাবলি থেকে ফাদার কাত্তানিওর নিপীড়িতদের প্রতি সহানুভূতি ও সহায়তার সাক্ষ্য পাওয়া যায়।
নাচোল গণহত্যার পর পাকিস্তান সরকার ‘পোড়ামাটি’ পন্থা অবলম্বন করে ২০০০-এরও বেশি কৃষক ও সাধারণ মানুষকে হত্যা, ধর্ষণ ও উচ্ছেদ করে। এই সময় বিশ্বব্যাপী কমিউনিস্টবিরোধী স্নায়ুযুদ্ধের প্রভাবে পাকিস্তানেও কমিউনিস্ট বিরোধিতা ও সহিংসতার জোয়ার ছিল। নাচোল-গোদাগাড়ী এলাকায় তৈরি করা হয়েছিল যুদ্ধাবস্থার মতো কঠোর অবরোধ। ফাদার কাত্তানিও এই সময় নিপীড়িতদের সাক্ষী ছিলেন এবং তাঁর অবদানকে স্মরণ করা হয়েছে ইলা মিত্রের ১০১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে।
"হে বীর সাথিরা, আমি যেন তোমাদের এই দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে নিঃশব্দে মুখ বুজে থাকতে পারি। আর যদি মরতেই হয়, যেন অমনি নিঃশব্দে মরে যেতে পারি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নাচোল থানা, রাজশাহী, পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত আন্ধারকোঠা ধর্মপল্লী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইলা মিত্র, ফাদার টমাস কাত্তানিও (তোম্মাসো কাত্তানিও), সত্যেন সেন, মালেকা বেগম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯৫০ (বছর), ৫ (জানুয়ারি), ২০০০ (কৃষক ও সাধারণ মানুষের সংখ্যা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!